প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

প্রযুক্তি ও জ্ঞানভিত্তিক সমাজ গড়ে তুলতে পারলে কর্মক্ষম তরুণ জনগোষ্ঠী উৎপাদনশীল হবে, বললেন মোহাম্মদ এ আরাফাত

আশিক রহমান : সুচিন্তা ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক মোহাম্মদ এ আরাফাত বলেছেন, দেশের ৪৯-৫০ শতাংশ মানুষের বয়স এখন ২৪ বছর বা তারও নিচে। ১০ কোটিরও বেশি কর্মক্ষম মানুষ আমাদের রয়েছে। এটা আমাদের জন্য আশীর্বাদ, চাপ কিংবা অভিশাপ নয়। অভিশাপ হওয়ার প্রশ্নই আসে না। প্রাকৃতিক সম্পদের চেয়েও বড় সম্পদ আমাদের এই যুবশক্তি বা কর্মক্ষম মানুষ। উন্নত অনেক দেশে জনসংখ্যার একটি বড় অংশ কাজ থেকে অবসরে গেছেন, সেখানে আমাদের জনগোষ্ঠীর বড় একটি অংশই কর্মক্ষম। শুধু কর্মক্ষম মানুষ বা সম্পদ থাকলেই হবে না, সম্পদের সঠিক ব্যবহার করতে হবে। যে সম্পদ রয়েছে আমাদের, তা উপযোগী করে গড়ে তুলতে হবে। সেক্ষেত্রে শিক্ষার বিস্তার ঘটানো, জনগোষ্ঠীকে প্রযুক্তি জ্ঞানসম্পন্ন করে গড়ে তোলা জরুরি। তথ্য-প্রযুক্তি ও জ্ঞানভিত্তিক সমাজ গড়ে তোলার জন্য যে পরিবেশ দরকার তা তৈরি করা। এটি তৈরি করতে পারলে কর্মক্ষম যুবসমাজ বা জনগোষ্ঠী উৎপাদনশীল হবে। তখন সমাজ ও রাষ্ট্রীয় উন্নয়নে অবদান রাখতে সমর্থ হবে তারা।

তিনি আরও বলেন, তথ্য-প্রযুক্তির সঙ্গে তরুণদের সম্পৃক্ততা আগে একরকম ছিলোই না। যতোটুকু ছিলো তরুণদের নিজের শক্তি, উদ্যোগ, উদ্যোমেই। নিজেরা যতোটুকু পেরেছে, করেছে। তবে এখন সরকারি উদ্যোগ আছে। পদক্ষেপ রয়েছে, তথ্য ও প্রযুক্তিতে তরুণদের দক্ষ করে গড়ে তোলার জন্য। তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়ক মন্ত্রণালয় এ বিষয়ে সক্রিয়। বিভিন্ন ধরনের কাজের সঙ্গে তরুণদের সম্পৃক্তও করছে। নতুন নতুন প্রোগ্রাম নেওয়া হচ্ছে। সফট্ওয়্যার পার্ক, হাইটেক পার্ক তৈরি করা হচ্ছে। হাইটেক পার্ক হচ্ছে ইপিজেডের মতো। গার্মেন্টস সেক্টরে যেরকম সুযোগ-সুবিধা থাকে, হাইটেক পার্কেও সব থাকবে।

ডিজিটাল বাংলাদেশের পাঁচটি বাস্কেটের কয়েকটির মধ্যে অন্যতম হচ্ছে ডমেস্টিক ইন্ডাস্ট্রি ডেভেলপ করা। প্রযুক্তিবিদেরা এ নিয়ে কাজ করছেন। আউট সোর্সিং। বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের এ ক্ষেত্রটির প্রতিও জোর দেওয়া হয়েছে। খুব সহজে আউট সোর্সিং করার ক্ষেত্র প্রস্তুতে কাজ চলছে। আমরা এখন ফোরজিতে আছি, ফাইভ জিতে যাওয়ার প্রস্তুতি নেয়া হচ্ছে। পাঁচ-ছয় বছর আগে যে গতি ছিলো ইন্টারনেটের, একটি ইমেল পাঠিয়ে বসে থাকতে হতো পাঁচ মিনিট, বিদুৎ থাকতো না। এখন সেটা নেই। আউট সোর্সিংয়ের বিশাল একটি জায়গা তৈরি হয়েছে। এখন সহজেই বাইরের যেকোনো কাজ করতে পারছেন। কাজ সম্পন্ন করে যথাসময়ে ডেলিভারীও দিচ্ছেন।

প্রযুক্তিকে তৃণমূলে নিয়ে যেতে সরকারি অনেক উদ্যোগ রয়েছে। আইসিটি মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন কার্যক্রম আমরা দেখছি। তথ্যপ্রযুক্তির সুবিধা গ্রাম পর্যায় পর্যন্ত ইতোমধ্যেই পৌঁছে গেছে। যেখানে যেখানে প্রযুক্তির সুবিধা পেতে সমস্যা হচ্ছে তা সহজ করার বিষয়েও কাজ করছে সরকার। অজপাড়া গাঁয়ের একটি স্কুলেও এখন মাল্টিমিডিয়া প্রজেক্টরে পড়ানো হয়। কম্পিউটার বেইজড এডুকেশন দেওয়া হয়। মানুষের হাতে হাতে এখন ল্যাপটপ। সর্বস্তরের মানুষকে প্রযুক্তির সঙ্গে সম্পৃক্ত করার সব প্রতিবন্ধকতা দূর করার প্রয়াসে কাজ করছে। নতুন প্রজন্মকে প্রযুক্তিতে দক্ষ করে গড়ে তোলার বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত