প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

আকাশপথে পেঁয়াজ আমদানি করেও অস্থিরতা কমছে না

মৌরী সিদ্দিকা : দেশের বাজারে মিয়ানমার, মিসর, পাকিস্তান ও চায়নার  পেঁয়াজের ছড়াছড়ি। এরিমধ্যে বাজারে ওঠেছে দেশি নতুন পেঁয়াজ। তবু খুচরা বাজারে পেঁয়াজের দাম এখনো আকাশচুম্বী। পাইকারি বাজারে বেশ কয়েক দিন ধরে দাম নিম্নমুখী থাকলেও খুচরা বাজারে তার প্রভাব পড়ছে না। খুচরা বাজারে দেশি পেঁয়াজের কেজি এখনো আড়াই’শএর কোঠায়। পাশাপাশি অন্যান্য পেঁয়াজের দামও রয়েছে সাধারণ ক্রেতাদের বাইরে।

এ ব্যাপারে ব্যবসায়ীরা গণমাধ্যমকে বলছেন, কোনো কারসাজি নেই, বাজার এখন স্বাভাবিক। দাম কমছে প্রতিদিন তবে চাহিদার তুলানায় পেঁয়াজ কম রয়েছে।

বাজার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, পেঁয়াজ নিয়ে এখনো সক্রিয় রয়েছে সিন্ডিকেট চক্র। অল্পদিনের ব্যবধানে দেশে যে পরিমাণ পেঁয়াজ আমদানি করা হয়েছে তাতে দাম আরও কমার কথা। পেঁয়াজের এখনো যে দাম, তা অস্বাভাবিক। গতকাল বুধবার রাজধানীর কারওয়ানবাজারের পাইকারি বাজার ঘুরে দেখা যায় প্রায় সব আড়তেই নতুন পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে।

ব্যবসায়ীরা জানান, নতুন পেঁয়াজের সরবরাহ ভালো। পাইকারিতে  দেশি নতুন পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ১০০ থেকে ১১০ টাকা কেজি দরে। সোমবারেও যা ছিলো ১৬০ টাকা। অন্যদিকে গতকাল বিকালে শ্যামবাজারের পাইকারি বাজারে নতুন পেঁয়াজের দাম আরেক দফা কমে বিক্রি হয়েছে ৯৫ থেকে ১০০ টাকায়। এ ছাড়া মালিবাগের পাইকারি বাজারে বিক্রি হয়েছে ১১০ টাকা কেজি দরে। অথচ খুচরা বাজারে এখনো নতুন পেঁয়াজের দাম বাড়তি রয়েছে। রাজধানীর বাজারগুলো ঘুরে দেখা যায়, দেশি নতুন পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ১২০ থেকে ১৩০ টাকা কেজি দরে।

মালিবাগ বাজারে দেখা যায়, দেশি পুরনো পেঁয়াজ বিক্রি হয়েছে ২৫০ থেকে ২৬০ টাকা কেজি, আর দেশি নতুন পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ১২০ থেকে ১৩০ টাকায়। একটু ভালোমানের মিয়ানমারের পেঁয়াজ ২০০ টাকা, মিসরের পেঁয়াজ ৯০ থেকে ৯৫ টাকা এবং পাকিস্তানি পেঁয়াজ ৮০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হয়েছে। এ ছাড়া পাতাসহ পেঁয়াজের দাম ৬০ থেকে ৭০ টাকা কেজি। এগুলো আবার এলাকার বউবাজারগুলোয় বিক্রি হচ্ছে আরও বেশি দামে ৯০ থেকে ১০০ টাকা কেজি।

মালিবাগ বাজারের পেঁয়াজের ব্যবসায়ী মো. সোহেল বলেন, আগে বেশি দামে পেঁয়াজের বস্তা কিনেছি বলে পুরনো বাড়তি দামেই বিক্রি করছি । তাই পাইকারিতে দু-একদিনে দাম কমলেও খুচরা বাজারে দাম এখনো বাড়তি।

পাইকার ব্যবসায়ী মোহাম্মদ শাহবুদ্দীন জানান, চলতি সপ্তাহের রোববার থেকে পাইকারিতে সব ধরনের পেঁয়াজের দাম নিম্নমুখী রয়েছে। তবে বাজারের খুচরা দোকানে এখনো দাম বেশি। খুচরা বাজারে পাইকারি বাজারের প্রভাব পড়তে সময় লাগে ঠিক, তবে ২/৩দিন পরও খুচরা বাজারে দাম না কমাটা অস্বাভাবিক।

রাজধানীর আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান লাকসাম বাণিজ্যালয়ের হাবিবুর রহমান বলেন, পেঁয়াজ আমদানি বাড়লেও তা চাহিদার তুলনায় কম। বিমানে ও জাহাজে যে চালান আসছে, তা বিক্রি করছে টিসিবি। আমরা যে পেঁয়াজ আমদানি করি তার খরচ বেশি। যাত্রাপথে পেঁয়াজ নষ্ট হওয়ায় দাম আরও বেড়ে যাচ্ছে।

এদিকে কনজুমার অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) সভাপতি গোলাম রহমান বলেন, আমদানি নির্ভরতা কখনই সমাধান হতে পারে না। দেশের উৎপাদন বাড়াতে হবে। তা ছাড়া আমদানি করা পেঁয়াজের কোনো সঠিক কাগজপত্র না থাকায় অসাধু ব্যবসায়ীরা সুযোগ পাচ্ছেন। তাই দাম নিয়ন্ত্রণে আসছে না। সম্পাদনা : মাজহারুল ইসলাম

সর্বাধিক পঠিত