প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

আওয়ামী লীগের সম্মেলনের গুরুত্ব কেবল দলের নয়, দেশেরও

ফরিদুন্নাহার লাইলী : বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ এ দেশের বৃহত্তম প্রাচীন রাজনৈতিক দল। ১৯৪৭ সালে ব্রিটিশ শাসনের অবসান ও পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার পর ১৯৪৭ সালের ২৩ জুন ঢাকার কে এম দাশ লেনের ‘রোজ গার্ডেনে’ এক কর্মী-সম্মেলনের ভেতর দিয়ে আনুষ্ঠানিক আত্মপ্রকাশ করে আওয়ামী লীগ। মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী সভাপতি, টাঙ্গাইলের শামসুল হক সাধারণ সম্পাদক এবং জেলে বন্ধী অবস্থায় শেখ মুজিবুর রহমান অন্যতম যুগ্ম সম্পাদক নির্বাচিত হন। অচিরেই আওয়ামী লীগ হয়ে ওঠে পূর্ব বাংলার জনগণের স্বার্থরক্ষাকারী সুসংগঠিত প্রধান রাজনৈতিক শক্তি। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের অবিস্মরণীয় নেতৃত্বে ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের ভেতর দিয়ে স্বাধীন-সার্বভৌম বাংলাদেশ রাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠা আওয়ামী লীগের ঐতিহাসিক অবদান।
১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট কালরাতে সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ৩২ নম্বরের ঐতিহাসিক বাসভবনে সপরিবারে নিহত হন। আবারও জাতির বুকে চেপে বসে সামরিক শাসন ও স্বৈরতন্ত্রের জগদ্দল পাথর। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট থেকে ১৯৯০ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত বাংলাদেশ দীর্ঘ ১৬ বছর জেনারেল জিয়া ও জেনারেল এরশাদের সামরিক স্বৈরতন্ত্রের যাঁতাকলে নিষ্পিষ্ট হয়।

১৯৮১ সালে আওয়ামী লীগের সভাপতি নির্বাচিত করা হয় বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনাকে। এদেশের মানুষের ‘ভোট ও ভাতের’ অধিকার ফিরিয়ে দেয়ার প্রতিজ্ঞা নিয়ে তিনি মৃত্যুভয় উপেক্ষা করে ফিরে এলেন নিজ দেশে। দেশে গণতন্ত্র, মানবাধিকার, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা জনগণকে ঐক্যবদ্ধ ও সুসংগঠিত করেন। এরপর ১৯৯৬ সালের ২৩ জুন আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠা দিবসে জননেত্রী শেখ হাসিনা প্রথম সরকার গঠন করেন। মাত্র পাঁচ বছরে উন্নয়ন-অর্থনীতি এবং সামাজিক ক্ষেত্রে অর্জিত হয় চমকপ্রদ সাফল্য। বিশ্বসভায় গড়ে উঠে বাঙালি জাতির নতুন ইমেজ। ২০০১ সালে সংসদ নির্বাচনে তত্ত্বাবধায়ক সরকার এবং বিএনপি-জামায়াত জোটের যোগসাজশে অভূতপূর্ব কারচুপির মাধ্যমে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের অনিবার্য বিজয় ছিনিয়ে নেয়া হয়। ‘হাওয়া ভবন’কে রাষ্ট্রক্ষমতায় সমান্তরাল কেদ্রে পরিণত করা হয় এবং এটি হয় দেশের সমুদয় দুর্নীতি ও জঙ্গিবাদের প্রসূতি কেদ্র।

২০০৮ সালের জাতীয় নির্বাচনে; বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ প্রায় নয় দশমাংশ আসনে নিরঙ্কুশ বিজয় অর্জন করে। মূলত এই ফলাফল ছিল বিএনপি-জামায়াত ঐক্যজোট সরকারের দুর্নীতি, লুটপাট, দুঃশাসন ও অগণতান্ত্রিক পন্থায় ক্ষমতায় চিরস্থায়ী করার বিরুদ্ধে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের নিরবচ্ছিন্ন আন্দোলন সংগ্রাম এবং নির্বাচনী ইশতেহারে প্রদত্ত ‘রূপকল্প ২০২১’ বা ‘দিন বদলের সনদের’ অঙ্গীকারের পক্ষে গণরায়। ২০০৯ সালের জানুয়ারী মাসে সরকার পরিচালনার দায়িত্বগ্রহণের পর থেকে সকল একাগ্রতা, বিচক্ষণতা ও লক্ষ্যে পৌঁছার স্থির সংকল্প নিয়ে জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ সরকার অর্থনৈতিক উন্নয়নে ঐতিহাসিক পদক্ষেপ গ্রহণ করে। সার্বিক উন্নয়নের লক্ষ্যে উন্নয়ন পরিকল্পনার ইতিহাসে প্রথমবারের মতো একটি দীর্ঘমেয়াদি প্রেক্ষিত পরিকল্পনা ২০১০-২০২১ গ্রহণ করা হয়। প্রবৃদ্ধির হার ক্রমাগত বৃদ্ধি, দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ ও ক্রয়ক্ষমতা বৃদ্ধি, মুদ্রাস্ফ্রীতি ও বাজেট ঘাটতি হ্রাস, বৈদেশিক মুদ্রা রিজার্ভে সর্বোচ্চ রেকর্ড, ঋণ ব্যবস্থার সার্বিক উন্নয়নসহ অর্থনীতিতে এক নজীরবিহীন ইতিবাচক পরিবর্তন পরিলক্ষিত হয়।

বিদ্যুৎ উৎপাদন ও বিতরণ, স্বাস্থ্য, খাদ্য নিরাপত্তা ও পুষ্টি নিশ্চিতকরণ, সামাজিক সুরক্ষা ও জেন্ডার সমতা, ডিজিটাল বাংলাদেশ গঠনে তথ্য প্রযুক্তির ব্যাপক প্রসার, পরিবেশ বিপর্যয়রোধ, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনাসহ উন্নয়নের সকল ক্ষেত্রে শুরু হয় নতুন কর্মযজ্ঞ। এই অর্জনের মধ্য দিয়ে ঘোষিত হয় স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী ও বঙ্গবন্ধুর জন্মশত বার্ষিকীর বছর ২০২০ সালে বাংলাদেশ মধ্যম আয়ের দেশে রূপান্তরিত হওয়ার লক্ষ্য। সারা বিশ্বে বাংলাদেশ হয়ে উঠে উন্নয়নের এক বিস্ময়। বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ নিয়ে অতীতের সকল নেতিবাচক উক্তি ও আশংকাকে ভুল ও ভিত্তিহীন প্রমাণ করে জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ উন্নয়নের রোল মডেল হিসেবে বিশ্ব দরবারে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করে। সহস্রাব্দের উন্নয়নের লক্ষ্য অর্জনে বাংলাদেশের সাফল্য ছিল ঈর্ষনীয়। টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্য অর্জনে বাংলাদেশ নতুন প্রতিশ্রুতি নিয়ে অগ্রসর হয়।

লক্ষ্য স্থির করা হয় ২০৪১ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে অর্থনৈতিকভাবে উন্নত সমৃদ্ধশালী দেশের সক্ষমতায় অধিষ্ঠিত করা। ফলে জনগণের আস্থা, বিশ্বাস, ভালবাসা নিয়ে শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগ সরকার টানা তৃতীয়বার সরকার পরিচালনার দায়িত্ব পালন করছে। শেখ হাসিনার দক্ষ নেতৃত্বে বাংলাদেশের এগিয়ে যাওয়াকে বিশ্ববাসীও দেখছে অবাক দৃষ্টিতে; নানান পুরস্কার ও জরিপের মাধ্যমে স্বীকৃতিও মিলছে একে একে। ফলে জাতি হিসেবে আমাদের সকলকেই বিশ্ববাসীর কাছে সম্মানিত করেছেন শেখ হাসিনা। শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আস্থা কেবল আওয়ামী লীগের লক্ষ লক্ষ নেতা-কর্মীদের নয়; আস্থা এদেশের সকল মানুষের। আসন্ন সমেলনের মাধ্যমে শেখ হাসিনা পুনরায় আওয়ামী লীগের দায়িত্ব নেয়া মানে বাংলাদেশের দায়িত্ব নেয়া। তাই এ সম্মেলন দেশের মানুষের কাছেও গুরুত্ব বহন করে। বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের ২১ তম জাতীয় সম্মেলনের সাফল্য কামনা করছি। লেখক : কৃষি ও সমবায় সম্পাদক, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ এবং সাবেক সংসদ সদস্য।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত