প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

মাটি কেনা বেচাকে কেন্দ্র করে জনিকে হত্যা করা হয় আদালতে প্রত্যক্ষদর্শীর জবানবন্দি

নিজস্ব প্রতিবেদক : মাটি কেনা বেচাকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট বিরোধ ও পূর্ব শত্রুতার জের ধরে জনিকে (২৭) ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। এর আগে জনিকে হত্যা করার হুমকি দেয়া হয়। নিহত জনির পিতা সিরাজুল ইসলাম মঙ্গলবার ১০ ডিসেম্বর কোতয়ালি থানায় দায়েরকৃত মামলায় একথা উল্লেখ করেন।

মামলায় ২৫ জনকে আসামি করা হয়। মামলার আসামিরা হচ্ছেন সদর উপজেলার চাউলিয়া গ্রামের মৃত মনোয়ার ওরফে মনোয়ারের ছেলে শাহিন আলম (৩০), একই গ্রামের হাশেম মোয়াজ্জেনের ছেলে মর্তুজা (৩৫), বাছির (২৮), সাবেক ইউপি সদস্য আবুল খায়ের বিশ্বাসের নাতি তৌফিক (২৮), নানা হাসেম মোয়াজ্জেনের নাতি রেজোয়ান (২৬), নরেন্দ্রপুর পোষ্ট অফিসপাড়ার নওশের আলি গাজির ছেলে সবুজ হাসান (৩০), নরেন্দ্রপুর মোল্লাপাড়ার দবিরের ছেলে সুমন (২২), একই এলাকার জালালের ছেলে সাগর (১৯), ঘোড়াগাছা সাহাপাড়া কলেজের পিছনে সঞ্চয় পালের ছেলে সুজন কুমার পাল (২৫), কচুয়ার নয়ন (২৫), চাউলিয়ার বাবুর (ছাগল ব্যবসায়ি) ছেলে ইমামুল (২৬), একই এলাকার মুন্না (১৮), অনিক (১৯), ঘোড়াগাছা কলেজের পিছনে গৌর সাহার ছেলে মিলন (২৪), শফি গাজির ছেলে মুন্না (১৯), রুপদিয়া বাজার বটতলার আলি আকবরের ছেলে আরমান (২২), মুনসেফপুর খান পাড়ার নিশান (২২), গোপালপুর দফাদার পাড়ার অলিয়ার দফাদারের ছেলে মনিরুল ইসলাম ওরফে মনির (৩৫), কচুয়ার আরিফ (২২), ঘোড়াগাছা সাহাপাড়া কলেজের পিছনে সাধন দাসের ছেলে প্রান্ত (২০), চাউলিয়ার হাশেম মোয়াজ্জেনের ছেলে আনাম (২৫), রুপদিয়া বাজারের তুহিন (২২), নরেন্দ্রপুর মোড়ল পাড়ার গোলাম মোস্তফার ছেলে রাসেল (২৯), গোপালপুরের ওয়াজেদ আলীর ছেলে আল আমিন হোসাইন (২৫), ঘোড়াগাছা কলেজের পিছনে দুলালের ছেলে সোহাগ (২৫), এছাড়া অজ্ঞাত নামা আরো ৪/৫ জনকে আসামি করা হয়েছে।

মামলায় তিনি বলেছেন, জনি কচুয়া হাসিনার মোড়ের আইয়ুব বিশ্বাসের ছেলে মামা আবু সাইদের বাড়ি থেকে ট্রাক্টর দিয়ে ব্রিকস ফিল্ডে মাটি আনা নেয়ার কাজ করে। যে কারণে বিবাদিদের সাথে তার বিরোধ সৃষ্টি হয়। ৯ ডিসেম্বর সোমবার বিকেলে আসামি সুমন ও সাগর আমার ছেলেকে মামা বাড়ি কচুয়া থেকে মোটর সাইকেলে করে আমার বাড়ি নিয়ে আসে। দশ মিনিট পর আমার ছেলে কিছু শীতের কাপড় চোপড় নিয়ে সুমন ও সাগরের সাথে মোটর সাইকেলে নরেন্দ্রপুরের দিকে চলে যায়। একই দিন রাত সাড়ে ৯ টার দিকে নরেন্দ্রপুর মোল্লাপাড়া মোড়ে হারুন অর রশিদের (৩৫) চায়ের দোকানে বসে আমার ছেলে জনি চা পান করছিলো। এসময় আসামিরা পূর্ব পরিকল্পিতভাবে পরস্পর যোগসাজসে ১০/১২ টি মোটর সাইকেল ও একটি ট্রেগার গাড়িতে করে এসে আমার ছেলে জনির উপর আক্রমন করে। এক পর্যায়ে হারুনের চায়ের দোকানের পশ্চিম কর্ণারে মাটির উপর শুইয়ে আমার ছেলের বুকে ধারালো ছোরা দিয়ে কুপিয়ে জখম করে হত্যা করে। আশে পাশের লোকজনের চিৎকারে আসামিরা ব্যবহৃত একটি মোটর সাইকেল ফেলে ট্রেগারে করে রুপদিয়া বাজারের দিকে চলে যায়।

এদিকে জনি হত্যাকান্ডের প্রত্যক্ষদর্শী একজন স্বাক্ষী আদালতে জবান বন্দি দিয়েছে। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এস আই সাইফুল মালেক বুধবার নরেন্দ্রপুরের মৃত আনোয়ার মোল্লার ছেলে চা দোকানি হারুন আর রশিদকে সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট সম্পা বসুর আদালতে হাজির করলে তিনি মামলার সুষ্ঠু তদন্ত ও ন্যায় বিচারের স্বার্থে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় প্রত্যক্ষদর্শী সাক্ষি হিসেবে জনি হত্যাকান্ডের বর্ননা দেন।

অপর দিকে পুলিশ হত্যাকান্ডে দিন সোমবার ৯ ডিসেম্বর রাতে ঘটনাস্থল থেকে হত্যাকান্ডে ব্যবহৃত রক্ত মাখা ছুরি ও আসামিদের ফেলে যাওয়া একটি মোটরসাইকেল উদ্ধার করে। একই রাতে পুলিশ এজাহার ভুক্ত চার আসামিকে আটক করে। আসামিরা হচ্ছে সবুজ হাসান, সুজন কুমারপাল,রাসেল, ও আলআমিন হোসাইন। সম্পাদনা : তন্নীমা আক্তার

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত