প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

বিশ্বের নতুন স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি পাচ্ছে বোগেইনভিলে

সাইফুর রহমান : পাপুয়া নিউ গিনি থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে স্বাধীন দেশ হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে গত ২৩ নভেম্বর দক্ষিণ প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের বোগেইনভিলে দ্বীপে গণভোট অনুষ্ঠিত হয়েছে। ভোটের ফলাফলে দেখা যায় স্বাধীন রাষ্ট্রের পক্ষেই ভোট দিয়েছেন সাধারণ জনগন, যাকে এক ঐতিহাসিক পদক্ষেপ বলেই ধারণা করা হচ্ছে। বুধবার গণভোট কমিশনের চেয়ারম্যান বার্টি আহারন নির্বাচনী ফল ঘোষণা করেছেন। এতে দেখা যায়, দ্বীপটির ১ লাখ ৮১ হাজার ৬৭ ভোটারের মধ্যে স্বাধীনতার পক্ষে ভোট দিয়েছেন প্রায় ৯৮ শতাংশ ভোটার। অন্যদিকে, স্বায়ত্তশাসন নিয়ে পাপুয়া নিউ গিনির সঙ্গে থাকার পক্ষে ভোট দিয়েছেন মাত্র ৩ হাজার ৪৩ জন ভোটার। সব পক্ষকে ভোটের ফলাফল মেনে নিয়ে জনমতকে প্রাধান্য দেয়ার আহ্বান জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন। রয়টার্স, আল জাজিরা, দি গার্ডিয়ান

বোগেইনভিলের স্বাধীনতার জন্য গণভোটের এই ফলাফল এখন পাপুয়া নিউ গিনির ন্যাশনাল পার্লামেন্টে পাস হতে হবে। তবে পার্লামেন্টে এই ফলাফল পাস হওয়ার সম্ভাবনা কম হলেও পাপুয়া নিউ গিনি কর্তৃপক্ষের ওপর দ্বীপটিকে স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দিতে অন্তর্জাতিকভাবে চাপ সৃষ্টিতে সহায়তা করবে। ঐতিহাসিক এই গণভোট বোগেইনভিলের বিদ্রোহী যোদ্ধা, পাপুয়া নিউ গিনির সরকারি বাহিনী ও বিদেশি যোদ্ধাদের দীর্ঘ সংঘাতের পর ২০০১ সালে স্বাক্ষরিত একটি শান্তি চুক্তির অংশ। এক দশকেরও বেশি সময় ধরে দেশটিতে ত্রিমুখী সংঘাতে মোট জনসংখ্যার প্রায় ১০ শতাংশ অর্থাৎ ২০ হাজার মানুষের প্রাণহানি ঘটে। ১৯৯৮ সালে এই সংঘাতের অবসানের পর ২০০১ সালে ওই শান্তিচুক্তি স্বাক্ষরিত হয়।

১৯৮০ সালের শেষ দিকে বোগেইনভিলে দ্বীপের পানগুনা এলাকায় বিশাল একটি তামার খনি ঘিরে সংঘাত ছড়িয়ে পড়ে। এই খনি থেকে উত্তোলিত তামার বৃহৎ একটি অংশ রফতানি করে পাপুয়া নিউ গিনি। কিন্তু স্থানীয়রা মনে করেন রফতানি আয়ের কোনো সুবিধাই তারা ভোগ করতে পারেন না। ওই সংঘাতের পর থেকে এখন পর্যন্ত বন্ধ রয়েছে খনিটি। খনিটি বোগেইনভিলের রাজস্ব আয়ের অন্যতম উৎস হতে পারে এই সম্ভাবনা থেকেই মূলত দ্বীপটিতে স্বাধীনতা আন্দোলন দানা বাঁধতে শুরু করে।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত