প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

নীতিমালা মানছে না রাইড শেয়ারিং, চলছে কয়েকগুণ বেশি গাড়ি

আমাদের সময় : ২০১৬ সাল থেকে চালু হলেও সবশেষ গত সপ্তাহে ৩টি প্রতিষ্ঠানকে অনুমোদনের মধ্য দিয়ে মোট ৯টি প্রতিষ্ঠানকে রাইড শেয়ারিংয়ের বৈধতা দিয়েছে বিআরটিএ। কিন্তু ১০০ গাড়ি চালানোর অনুমতি নিয়ে একেকটি প্রতিষ্ঠান অন্তত ১০ গুণ বেশি গাড়িতে রাইড শেয়ারিং করছে। এতে রাজস্ব বঞ্চিত হচ্ছে সরকার। একই কারণে যাত্রীদের অভিযোগের ব্যাপারে পদক্ষেপও নেয়া যাচ্ছে না। আবার অনুমোদিত প্রতিষ্ঠানগুলো এখনো নীতিমালার সব শর্ত পূরণ করতে পারেনি। ফলে গাড়ির অবস্থান শনাক্ত করার সুযোগ পাচ্ছে না পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ)’র কাছে রাইড শেয়ারিং সেবাদানকারী হিসেবে ১৩টি প্রতিষ্ঠান আবেদন করে। এর মধ্যে প্রথমে ৬টি প্রতিষ্ঠান-পিকমি লিমিটেড, কম্পিউটার নেটওয়ার্ক সিস্টেম লিমিটেড, ওভাই সলিউশনস লিমিটেড, চালডাল লিমিটেড, সেজেস্টা লিমিটেড ও আকাশ টেকনোলজিস লিমিটেড তালিকাভুক্ত হয়। এরপর পাঠাও লিমিটেড, উবার বাংলাদেশ লিমিটেড এবং সহজ লিমিটেড তালিকাভুক্ত হয়েছে।

অনুমদিত প্রতিষ্ঠানগুলো ১০০ গাড়ির এনলিস্টমেন্ট দেখিয়ে অনুমোদন নিয়েছে। অথচ এ বছরের এপ্রিলে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে বিআরটিএর কাছে দেয়া তালিকা অনুযায়ী দেখা যায় প্রতিষ্ঠানগুলোর অ্যাপসে চলা গাড়ির সংখ্যা অনেক বেশি। এ বছরের শুরুর দিকে বিভিন্ন অ্যাপভিত্তিক প্রতিষ্ঠান ১ লাখ ৪ হাজার ৩৮৯টি মোটরসাইকেল এবং ১৮ হাজার ২৫৩টি মোটরকার সেবার দাবি করেছিলো। এপ্রিল গড়িয়ে চলতি ডিসেম্বরে এ সংখ্যা আরও বাড়ার কথা। অথচ ৯টি প্রতিষ্ঠান মিলে মাত্র ৯শ গাড়ির এনলিস্টমেন্ট দেখানো হয়েছে।

এ বছরের ২৩ এপ্রিল বিআরটি এর সঙ্গে অনুষ্ঠিত বৈঠকে সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানের গাড়ির সেবার তালিকা তুলে ধরা হয়। সেখানে ১৬টি প্রতিষ্ঠানের তালিকা রয়েছে। সে হিসাবে পাঠাওয়ের মোটরসাইকেল রয়েছে ২০ হাজার, মোটরকার ২ হাজার, সহজ-এর মোটরসাইকেল ৩০ হাজার এবং মোটরকার ১৬৫৩, চালডাল-এর মোটরসাইকেল ৪৩৮৬, আকাশ-এর মোটরসাইকেল ৯৬৯টি ও কার ২০টি, উবার-এর মোটরসাইকেল ১১ হাজার ৭৮৪, মোটরকার ৮৮৫৩টি, পিকমির মোটরসাইকেল ৭ হাজার ৭০৭টি ও কার ৬০১টি। এ ছাড়া ওভাই-এর ২৬ হাজার ১১০টি মোটরসাইকেল ও ১ হাজার ১৬১টি মোটরকার, সেজেস্টার ১৫৪টি মোটরসাইকেল ও মোটরকার ৬৫টি রয়েছে। একই গাড়ি একাধিক প্রতিষ্ঠানের সেবা দিতে পারবে। প্রথমে এ নিয়ে আপত্তি থাকলেও পরে শর্তটি শিথিল করে বিআরটিএ।

বিআরটিএর কাছ থেকে রাইড শেয়ারিং সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠান হিসেবে ঢাকা ও চট্টগ্রাম মহানগরীর জন্য আলাদাভাবে ১ লাখ ১৫ হাজার টাকা দিতে হয়েছে। সর্বনিম্ন ১০০ গাড়ি থাকার প্রবিধান সেখানে। এর বাইরে অন্যান্য ক্যাটাগরিতে জেলা হিসেবে ন্যূনতম ২০টি গাড়ি নামানোর যোগ্যতা অর্জন করলে একই পরিমাণ টাকা দিয়ে এনলিস্টেড হওয়ার সুযোগ আছে। এর বাইরে রাইড শেয়ারিং মোটরযান এনলিস্টমেন্ট ফি মোটরসাইকেলের জন্য ৫৭৫ টাকা এবং চারচাকার বাহনের জন্য ভ্যাটসহ ১ হাজার ১৫০ টাকা দিতে হয় । নিবন্ধনের জন্য বিআরটিএর অফিসে যাওয়ার প্রয়োজন নেই। অনলাইনে আবেদন করে অনলাইনেই এনলিস্টমেন্ট সার্টিফিকেট পাওয়া যায়। এ ব্যবস্থাপনায় প্রতিষ্ঠান ও চালকের ভোগান্তি কমেছে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, অতিরিক্ত ভাড়া, চালকের দুর্ব্যবহার, গন্তব্যে যেতে রাজি না হওয়া বা রাজি হয়ে পরে নাকচ করাসহ আসা অভিযোগ নিষ্পত্তিতে আরও কঠোর হওয়া দরকার। সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের অ্যাপসে জমা পড়া অভিযোগ ও নিষ্পত্তির সংখ্যা জানতে পারে বিআরটিএ। এর বাইরে অভিযোগ করেও প্রতিকার মিলতে পারে। তবে কর্তৃপক্ষ হিসেবে অ্যাপসের মাধ্যমে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নিতে পারছে না বিআরটিএ।

অনুমোদনের অতিরিক্ত গাড়ি চালানোর ব্যাপারে ব্যবস্থা নিতে পারে বিআরটিএ। এ জন্য প্রতিষ্ঠানগুলোকে চিঠি দেয়ার কথা রয়েছে। মাত্র ১০০ গাড়ি দেখিয়ে অনুমোদন নিয়ে এর বিপরীতে অনেক বেশি গাড়ি অ্যাপভিত্তিক সেবা দিচ্ছে। তাছাড়া ব্যক্তিগত গাড়ির বাণিজ্যিক ব্যবহার বোঝার সুবিধার্থে গাড়ির দৃশ্যমান স্থানে ৯৯৯ নম্বর লেখার কথা বলা হয়েছে; যাতে বোঝা যায় এ বাহনটি রাইড শেয়ারিংয়ের। কিন্তু মোটরসাইকেল বা প্রাইভেট কারে এ রকম স্টিকার খুবই কম দেখা যাচ্ছে। নিয়ম লঙ্ঘনের দায়ে এখনো শাস্তির মুখোমুখি হতে হয়নি কাউকে।

এ বিষয়ে বিআরটিএর পরিচালক (ইঞ্জি.) লোকমান হোসেন মোল্লা বলেন, বিআরটিএর অনুমোদিত গাড়ির বাইরে কোনো ব্যক্তিগত গাড়ি রাইড শেয়ারিং করলে সেগুলোর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে। এ জন্য প্রথমে প্রতিষ্ঠানগুলোকে সতর্ক করে চিঠি দেয়া হচ্ছে। এরপর পুলিশকে ব্যবস্থা নিতে বলা হবে । অনুলিখন : ইয়াসিন আরাফাত, সম্পাদনা : মাজহারুল ইসলাম

সর্বাধিক পঠিত