প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

অবশেষে ঘরের মাঠে অভিষেক হচ্ছে একঝাঁক পাকিস্তানি ক্রিকেটারের

স্পোর্টস ডেস্ক : বাবর আজম, আজহার আলী, ইয়াসির শাহ কত জনপ্রিয় নামের ক্রিকেটার। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে পদচারণাও অনেকদিন ধরেই। কিন্তু বারবার তাদের একটা আক্ষেপ থেকে যাচ্ছিলো। বিদেশ বিভুইয়ে মাঠ কাঁপিয়ে হাততালি পেলেও ঘরের মাঠে কখনো উদযাপন করা হয়নি তাদের। কেননা দেশের মাঠে যে ক্রিকেট নিষিদ্ধ হয়েছিলো সন্ত্রাসের ফাঁদে পড়ে। অবশেষে কাঙ্ক্ষিত মাটির স্বাদ পেতে যাচ্ছে পাকিস্তানি ক্রিকেটাররা। ১০ বছর পর ঘরের মাঠে টেস্ট খেলবে পাকিস্তান। বুধবার ইসলামাবাদে শ্রীলঙ্কার মুখোমুখি হবে আজহার আলীরা।

২০০৯ সালে পাকিস্তানের লাহোরে শ্রীলঙ্কার টিম বাসে সন্ত্রাসী হামলা হয়েছিল। হামলায় শ্রীলঙ্কার খেলোয়াড় ও কোচিং স্টাফ মিলিয়ে আহত হয়েছিলেন সাতজন। এরপর পাকিস্তান আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে নির্বাসিত ছিল বেশ কয়েক বছর।

পরবর্তীতে জিম্বাবুয়ে, ওয়েস্ট ইন্ডিজ, শ্রীলঙ্কা, বিশ্ব একাদশ সীমিত ওভারের সিরিজ খেলতে পাকিস্তানে গেলেও কোনো টেস্ট ম্যাচ আর হয়নি। অবশেষে পাকিস্তানে টেস্ট ক্রিকেট ফিরছে।

কাকতালীয় ব্যাপার, এক দশক আগে যাদের ওপর হামলা হয়েছিল, সেই শ্রীলঙ্কা দলের সফর দিয়েই পাকিস্তানে টেস্ট ক্রিকেট ফিরছে। পাকিস্তানে দুই টেস্টের সিরিজ খেলবে শ্রীলঙ্কা দল। যার প্রথমটি শুরু হচ্ছে বুধবার রাওয়ালপিন্ডিতে।

পাকিস্তানের বর্তমান দলের কারোরই দেশের মাটিতে টেস্ট খেলার অভিজ্ঞতা নেই। অবশেষে সেই সুযোগ পাচ্ছেন তারা। ব্যাটসম্যান শান মাসুদ এটিকে তাদের জন্য নতুন শুরু হিসেবে দেখছেন, ‘মনে হচ্ছে সবার অভিষেক হচ্ছে। কারণ আমরা সবাই প্রথমবারের মতো পাকিস্তানে খেলব।’

দেশের মাটিতে টেস্ট খেলার গুরুত্ব কতটা, সেটাও উল্লেখ্য করলেন মাসুদ, ‘আপনি যদি টেস্ট ক্রিকেটের সেরা খেলোয়াড়দের দিকে তাকান, তাদের হোম রেকর্ডগুলো অ্যাওয়ে রেকর্ডের চেয়ে ভালো। তারা পরিবেশ এবং উইকেটের সঙ্গে অনেক বেশি পরিচিত এবং দর্শকদের সমর্থন উপভোগ করে। যা থেকে পাকিস্তান ক্রিকেট এতদিন বঞ্চিত ছিল।’

পাকিস্তানে টেস্ট ক্রিকেট ফেরাটাকে তাই বড় অর্জন হিসেবে দেখছেন ৩০ বছর বয়সি এই ব্যাটসম্যান, ‘এখানে টেস্ট ক্রিকেট ফিরিয়ে আনাটা আমাদের জন্য বড় অর্জন। পুরো বিশ্বে টেস্ট ক্রিকেট ভুগছিল এবং পাকিস্তানে আমরা সাদা-বলের ক্রিকেটে আরও বেশি মনোযোগী হয়েছি। পাকিস্তানের শিশুদের জন্য যথাযথ টেস্ট ক্রিকেট দেখার সুযোগ এটিই।’

‘আমাদের তরুণ প্রজন্ম অবশেষে তাদের নায়কদের কাছ থেকে দেখার সুযোগ পাবে। এটা খুব দুর্ভাগ্যজনক যে, মিসবাহ-উল হক, ইউনিস খানরা তাদের ক্যারিয়ারের সেরা সময়ে দেশের মাটিতে খেলতে পারেননি। ফলে আমি সত্যি রোমাঞ্চিত’- বলেন মাসুদ।

মাস তিনেক আগে সীমিত ওভারের সিরিজ খেলতে পকিস্তানে গিয়েছিল শ্রীলঙ্কা। যদিও সেবার শ্রীলঙ্কার ১০ জন তারকা ক্রিকেটার নিরাপত্তা শঙ্কায় সফর থেকে নিজেদের সরিয়ে নেন। টেস্ট সিরিজ খেলার জন্য অবশ্য পূর্ণ শক্তির দল নিয়েই পাকিস্তানে গেছে লঙ্কানরা।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত