প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

সমাজের প্রতিকূলতা কাটিয়ে ফারহানা আহমেদের ডে-কেয়ার চালুর গল্প

জেবা আফরোজ : সমাজে অনেক মা আছেন যারা সন্তান কোথায় রাখবেন এই কথা ভেবে চাকরি করতে কিংবা ঘর থেকে বের হতে পারেন না। আবার বিদেশে থাকে দেশে ঘুরতে এসে সন্তানকে কিছুক্ষণের জন্য কোথায় নিশ্চিন্তে রেখে ঘুরতে যাবে সেই জায়গা খুঁজে পায় না। এমন মানুষদের পাশে দাঁড়িয়েছেন ফারহানা আহম্মেদ। নিজে খুলে নিলেন ডে-কেয়ার।

কিন্তু এমন প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে সমাজের অনেক প্রতিকূলতা পার করতে হয়েছে তাকে। বিবিসির এক প্রতিবেদনে উঠেছে এসেছে সেই গল্প।

এক সময় চাকরি করতেন ফারহানা। পরে সেই চাকরি ছেড়ে দিয়ে ২০১৬ সালে ঢাকার ধানমন্ডিতে সানশাইন নামের ডে-কেয়ার চালু করেন। তিনি বলেন, ‘যখন আমি সিদ্ধান্ত নিলাম চাকরি করবো না। তখন আমার খুব কাছের কিছু বন্ধু উৎসাহ দিলো তুমি এটা করো। তখন ভাবলাম আচ্ছা দেখি কী হবে? খারাপ আর কী হবে? ব্যর্থ হবো? কাজটা করতে পারবো না? করেই দেখি না কী হয়। কারণ আমি জানি একটা বিশাল চ্যালেঞ্জের জায়গা আছে।’

‘বাবা মা’ দের কাউন্সেলিংটা বেশি দরকার কারণ ডে-কেয়ারে দেয়ার জন্য তারা মানসিকভাবে প্রস্তুত না। আমি ছোট বেলা থেকেই বাচ্চাদের সঙ্গ পছন্দ করতাম। সেখান থেকেইে আমার এই বিষয়ে পড়াশোনা করার ইচ্ছা। অনেকেই পছন্দ করেনি, আমার পরিবারও বলেছে এই বিষয়ে কেনো? এটাতে কী ভবিষ্যত আছে? হোম ইকোনমিক্স কলেজে, এখানে কী শেখায়? রান্নাবান্না শেখায়? মানুষের এ ধরনের ধারণা ছিলো শুরুতে চাইল্ড কেয়ার সর্ম্পকে গ্রাহকদের বুঝতে বেগ পেতে হয় ফারহানা।’

‘অভিভাবকদের যখন পেমেন্ট সিস্টেম কাজগুলো নিয়ে বলতাম তখন বলতো এই টাকা দিয়ে কাজের বুয়া রাখা যায়, ডে-কেয়ারে দিবো কেনো? তখন আমি তাদের বুঝানোর চেষ্টা করতাম কাজের লোক আপনাকে এ জিনিসগুলো দিবে, বাকিগুলো দিতে পারবে না। এইগুলে দূর করতে আমি একা কিছু করতে পারবো না। এটা সামাজিকভাবেই করতে হবে যদি সমাজ মনে করে ডে কেয়ার আমাদের জরুরি প্রয়োজন। আমাকে নিরুৎসাহিত করেছে যারা অল্প পরিচিত।’

‘আমি যখন কোথাও গিয়েছি সবাই জিঙ্গাসা করে, কী করেন, বলি ডে কেয়ার, ডে কেয়ারে কী হয়? ও আচ্ছা বাচ্চা পালন? যেনো আমি চাকরানী? কত টাকা রাখেন, একেবারে সরাসরি জিঙ্গেস করে। যদি বলি এতো টাকা, বলে ওমা! এর চেয়ে কম টাকায় তো বাসায় একটা কাজের লোক ও রাখতে পারি।’

‘আমার পড়াশোনা শেষ হওয়ার পর অনেকে বলেছে চাকরি করো। এখন তারা আমাকে বলে আরো আগে কেনো শুরু করোনি। এটাই তোমার কাজ হওয়া উচিত ছিলো। আমার কাজিনরাও বলে, আমরাও অনেক স্বস্তিতে থাকতে পারতাম।’

‘১-২ মাস বয়সী বাচ্চা থেকে ১০ বছর বয়সী বাচ্চাদের নিয়ে কাজ করে সানশাইন ডে-কেয়ার। বাবা মা ও চিন্তা করে কি ব্যাপার ডে-কেয়ারে দেওয়ার কারণে কি এমন হচ্ছে? পরে জানা গেলো সে এতোদিন বাসায় ভাত খেতো না সুজি গুলিয়ে খাওয়ানো হতো। যখন তার শুরু হলো সেটা নিতে পারছে না। তখন আমাদের ডায়েটিশিয়ান বললো স্টার্চের পরীক্ষা করে দেখতে এতে অ্যালার্জি আছে কী না। ’

‘আমার কাছে বেশি এসেছে চাকরীজীবী বাবা-মায়েরা। আরো কিছু এসেছে যারা দেশে থাকে না, মাঝে মাঝে বেড়াতে আসলে বাচ্চাকে রেখে বাইরে যেতে পারে। বাচ্চাকে বিশ্বাস করে আমাদের কাছে দিয়ে যায় এটা আমার কাছে অনেক বড় দায়িত্ব। তাই এই কাজগুলো ভালো লাগে, এখানে স্বাধীনতা আছে।’

সর্বাধিক পঠিত