প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

আইনের শাসন বলতে কিছুই নেই!

 

মাসুদ রানা : আসলে আইনের শাসন বলতে কিছু নেই। যা আছে তা হচ্ছে সার্বভৌমের শাসন। এটিই হচ্ছে হাজার হাজার বছর ধরে মানুষের শাসিত হওয়ার অপরিবর্তিত সত্য। অর্থাৎ প্রথমে আসে সোভারিন বা সার্বভৌম কে, তা নির্ধারণের প্রশ্ন। তার পর আসে শাসনের জন্য তার আইন। যে দেশে জনগণ সার্বভৌম, সেখানে আইনের শাসন হয় জনগণের শাসন। আর যে দেশে সার্বভৌম জনগণ নয়, বরং এক ব্যক্তি, একটি বংশ পরিবার কিংবা একটি দল, সেখানে আইনের শাসন হচ্ছে সেই ব্যক্তি, বংশ বা দলের ব্যক্তির শাসন।

২. বাংলাদেশের রাজনীতির সাধারণ বোধিক ও সাংস্কৃতিক সমস্যা হচ্ছে, সে দেশের রাজনৈতিক দলগুলোর নেতারা হচ্ছেন দলগুলোর মালিক আর দল-করা লোকেরা হচ্ছে দলের কর্মচারী। বস্তুত তাদের ‘কর্মী’ নামেই নির্দেশ করা হয় এবং নিজেরাও নিজদের সে-নামেই জানে। রাজনৈতিক দলগুলোতে যতোদিন না পর্যন্ত এই মালিক মজুর সম্পর্কের পরিবর্তন ঘটিয়ে সবাই দলের সদস্য বা সভ্য হবেন, ততোদিন পর্যন্ত বাংলাদেশে স্বৈরশাসনের অবসান ঘটবে না। আপনি যে আপনার পিতা-মাতার সন্তান, তার প্রমাণপত্র আছে। আপনি যে বাংলাদেশের নাগরিক, তারও প্রমাণপত্র আছে।

কিন্তু আপনি যে একটি রাজনৈতিক দলের সদস্য, তার প্রমাণপত্র কী? একটি দলের সদস্য হতে হলে দলের আবেদনপত্র পূরণ করে, সাবস্ক্রিপশন বা ফি দিয়ে অনুমোদিত হতে হয়। এর মধ্য দিয়ে আপনি আপনার দল বা পার্টির পার্ট হন, যার ফলে দলের প্রতি আপনার কতিপয় কর্তব্য পালনীয় ও অধিকার ভোগ্য হয়ে ওঠে, যা দেশের আইনের দ্বারা সাধারণভাবে ও দলের সংবিধানের দ্বারা স্বীকৃত হওয়া উচিত। আপনি কি আপনার দলের সদস্য হিসেবে নিজের কর্তব্য, দায়িত্ব ও অধিকার সম্পর্কে জ্ঞাত ও সচেতন? আসলেই কি আপনি দলের প্রতি দায়বদ্ধ, না-কি দলের নেতাকে মালিক ও নিজেকে তার কর্মচারী জ্ঞান করে তার প্রতি ব্যক্তিগতভাবে অনুগত? সম্ভবত আরও মৌলিক প্রশ্ন হচ্ছে রাজনীতিটি আপনি আসলে কী উদ্দেশ্য সাধনের জন্য করছেন? ০৭/১২/২০১৯, ল-ন, ইংল্যা-। ফেসবুক থেকে

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত