প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

কোটি টাকার বাজেট থাকলেও মশার উপদ্রব কমাতে অক্ষম দুই সিটির মেয়র

তন্নীমা আক্তার : মহানগরীতে মশাবাহিত রোগের প্রাদুর্ভাব বেড়েই চলছে। রাজধানীর এমন কোনো এলাকা নেই যেখানে মশার উৎপাত নেই। পড়ার টেবিল, ডাইনিং টেবিল, অফিসের চেয়ারে কোথাও এক মিনিটও নিরাপদে বসা যাচ্ছে না। রাজধানী জুড়ে মশার উপদ্রব বেড়ে যাওয়ায় আবারও দেখা দিয়েছে মশাবাহিত জ্বর ডেঙ্গু। রাজধানীর প্রতিটি ওয়ার্ডে প্রতিদিনই কেউ না কেউ আক্রান্ত হচ্ছেন এ জ্বরে।

নগরবাসীকে শান্তি দিতে প্রতি অর্থ বছরেই মশা মারতে কয়েক কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয় ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনের বাজেটে। এ খাতে চলতি অর্থবছরে ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের মোট বরাদ্দ ৪৯ কোটি ৩০ লাখ টাকা আর দক্ষিণ সিটির বরাদ্দ ৪৩ কোটি ৩০ লাখ টাকা। দুই সিটির মশা নিধনে এতো টাকা বরাদ্দ থাকার পরও রাজধানীর মানুষ মশার যন্ত্রণায় অতিষ্ঠ।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, তেজগাঁও, মহাখালী, ফকিরাপুল, কমলাপুর, মানিকনগর, বাসাবো, মুগদা, খিলগাঁও, ধোলাইখাল, মীর হাজীরবাগ, যাত্রাবাড়ী, শ্যামপুর, কামরাঙ্গীরচর, সূত্রাপুর, মোহাম্মদপুর, সায়েদাবাদ, রামপুরা, বাড্ডা, কুড়িল, মিরপুর, গাবতলী, দারুস সালাম, হাজারীবাগ, গোড়ান এলাকায় মশার উপদ্রব সবচেয়ে বেশি। এ ছাড়াও নগরীর অভিজাত এলাকা গুলশান, বনানী, বারিধারা, উত্তরা, ধানমন্ডিতেও বেড়েছে মশার উপদ্রব। অভিজাত এলাকাগুলোর বেশির ভাগ ফ্ল্যাট বাড়িতে দরজা-জানালায় নেট লাগানো সত্ত্বেও যেন রেহাই নেই মশার অত্যাচার থেকে। নিচতলা থেকে শুরু করে ২০ তলা পর্যন্ত সর্বত্রই মশার সমান উপদ্রব।

বিশেষজ্ঞরা মশার উৎপাত নিয়ন্ত্রণে না আসার বেশ কয়েকটি কারণ চিহ্নিত করেছেন। এর মধ্যে প্রধান কারণ হিসেবে তারা দেখছেন সিটি কর্পোরেশনের লোক দেখানো বিভিন্ন কার্যক্রমকে। এছাড়া রাজধানীর জলাশয়গুলো নিয়মিত পরিষ্কার না করা এবং সেখানে সিটি কর্পোরেশন ঘোষিত কোনো ধরনের অভিযান না চালানোয় মশা নিয়ন্ত্রণে আসছে না বলে বিশ্লেষজ্ঞরা মনে করছেন। অভিযোগ রয়েছে, মশার ওষুধ ছিটানো হয় স্থানীয় ওয়ার্ড কাউন্সিলর ও সিটি কর্পোরেশন কর্মকর্তাদের পছন্দের এলাকায়। কোথাও কোথাও ছয় মাসেও একবার দেখা যায় না আবার কোথাও মাসে দুই থেকে তিনবারও ওষুধ ছিটানো হয়।

রাজধানীতে এখন মশার যন্ত্রণা বেড়েছে কয়েকগুন। নিম্ন মানের কয়েল, মশারি, মশা মারার বৈদ্যুতিক ব্যাটও মশার হাত থেকে রেহাই দিতে পারছে না রাজধানীবাসীকে। যথাসময়ে জলাশয়, আবর্জনা পরিষ্কার-পরিছন্ন না করা, ও মশা নিধন কার্যক্রম শুরু না করার কারণেই মশার বিস্তার ঘটেছে। মশার যন্ত্রণায় কাতর হয়ে পড়েছে সবাই আর এরই সাথে বাড়ছে ডেঙ্গু, ম্যালেরিয়া, ফাইলেরিয়াসহ নানাবিধী মশাবাহি রোগ জীবাণু। ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের পক্ষ থেকে দাবি করা হচ্ছে, মশা নিধন কার্যক্রম চলছে। তবে তা দৃশ্যত নেই বলেই জানান ভুক্তভোগীরা।

সংশ্লিষ্ট সূত্রমতে, ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের ৮ নং ওয়ার্ড ছাড়া প্রথম ১৩টিতে ৩১২ একর জলাধার রয়েছে। এগুলো কচুরিপানা ও আবর্জনায় ভর্তি। একই চিত্র ১৪, ২২, ২৩, ২৪, ২৫, ২৬, ২৭, ২৮, ২৯, ৫৫, ৫৬, ৫৭ ওয়ার্ডের ৩২ একর জলাধারের। এছাড়াও ৭, ৩৯, ৪০, ৪১, ৪৪, ৪৫, ৪৬, ৪৭, ৪৮, ৪৯, ৫০, ৫১, ৫২, ৫৩ ও ৫৪ নম্বর ওয়ার্ডের ১৪৪ বিঘা ৯ কাঠা জলাশয় দীর্ঘদিন ধরে পরিষ্কার করা হয় না।

জানা গেছে, ঢাকার দুই সিটি কর্পোরেশন এলাকায় জলাশয় রয়েছে প্রায় এক হাজার বিঘা। এর মধ্যে ঢাকা দক্ষিণে রয়েছে ৪৮৭ বিঘা। এসব জলাশয়ে কচুরিপনা ও আবর্জনা জমে আছে। এগুলো নিয়মিত পরিষ্কার করা হয় না। ফলে শীত মৌসুম এলে জলাশয়ের আবদ্ধ পানি দুর্গন্ধময় হয়ে মশার প্রধান প্রজনন স্থলে পরিণত হয়। সম্পাদনা : ইয়াসিন আরাফাত

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত