প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

জনগণের মধ্যে গণপিটুনি দেয়ার মানসিকতা কোত্থেকে আসে

 

ফিরোজ আহমেদ : রাষ্ট্রপতি বলছেন, গণপিটুনি দিতে। পুলিশ কর্মকর্তা বলছেন, পরিবহন শ্রমিকদের গণপিটুনি দিতে। শিক্ষকদের গণপিটুনি দিতে বলেছেন, একজন জেলা প্রশাসক। অন্যদিকে মাদক কারবার যেহেতু বন্ধ করাই যাবে না, বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ছাত্রদেরই মাদক-পরীক্ষা করার প্রস্তাব করছে সংসদীয় কমিটি। বুঝতে পেরেছেন, জনগণের মধ্যে গণপিটুনি দেয়ার মানসিকতা কোত্থেকে আসে? এই দেশে আইন-প্রশাসন এসব যে কিছু নেই, সেটা আর সবার মতো তারাও ভালো করেই জানে। খাদ্যে ভেজাল তারা রোধ করতে পারবে না, মাদক তারা দমন করতে পারবে না, পরিবহনে চাঁদাবাজির টাকা যোগাতে শ্রমিকদের বাড়তি আয়ের জন্য বেপরোয়া হওয়া বন্ধ করতে পারবে না।

অন্যদিকে অধ্যাপক আ ব ম ফারুকরা যখন দুধে ভেজাল দেখিয়ে দেবেন, তাদেরই আইনের হুমকি দেখানো হবে, আইনের হুমকি দেখানো হবে সাঈদ ফেরদৌসকে, আইন তো প্রণয়নই করবেন প্রধান মাদক কারবারী হিসেবে আলোচিত ব্যক্তিটির স্ত্রী। ফলে এসব বক্তব্যের মাঝে গণপিটুনির মনস্তত্ত্বের একটা কার্যকর ব্যাখ্যা আছে। কথার বশে হঠাৎ হঠাৎ যা তারা বলে বসেন, তার মধ্য দিয়ে তারা স্বীকারই করে নেন যে, কার্যত আইনটাইন জনগণের কাজে লাগে না, এগুলো আছে তাদের স্বার্থ হাসিলের জন্য। আইনের এই সার্বিক অনুপস্থিতি সমাজের জন্য ভয়াবহ হয়। আইন কোনো কাজে আসবে না ভেবে মানুষ বেপরোয়া হয়, আইন নিজের হাতে তুলে নেয়। বস্তুত গণপিটুনি হলো আইনের অকার্যকারিতার অনুভূতির নৈরাজ্যিক নৃশংস রূপ, কাজটা অনেকে মিলে করলেও ব্যক্তিগত ক্ষোভ ও হতাশাই সেখানে ক্রিয়াশীল। আন্দোলন কিংবা গণসংগ্রাম হলো আইনকে মানুষের পক্ষে আনার যুথবদ্ধ সামষ্টিক রূপ, ব্যক্তিগত হতাশা ঝেড়ে ফেলে সেখানে নতুন আকাক্সক্ষার যৌথ বহিঃপ্রকাশ ঘটে। ফেসবুক থেকে

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত