প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

উন্নয়নে অবদান বাড়লেও প্রকল্প বাস্তবায়ন খাতে নারীরা উপেক্ষিত

ইত্তেফাক : বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে নারীর অবদান ক্রমেই বাড়ছে। নারী উদ্যোক্তার পরিমাণ যেমন বাড়ছে, তেমনি প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরে নারীর অংশগ্রহণ আশাতীতভাবে বেড়েছে। তবে সে তুলনায় সরকারি কেনাকাটায় নারীরা পিছিয়ে আছেন। এর ফলে দেশের উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নের প্রতিটি খাতে নারীরা উপেক্ষিত হচ্ছেন। অথচ সরকারি কেনাকাটায় নারীর অংশগ্রহণ দুর্নীতিমুক্ত টেন্ডারিং সিস্টেমকে উৎসাহিত করবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

পরিকল্পনা বিভাগের সচিব নুরুল আমিন বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সম্প্রতি একনেকের এক সভায় সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত নীতি সহজ করার জন্য প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দিয়েছেন, যাতে প্রক্রিয়াটিতে নারীর অংশগ্রহণ বাড়ে।

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) এক সমীক্ষা অনুযায়ী কর্মজীবী পুরুষের তুলনায় কর্মজীবী নারীরা কাজ করেন তিন গুণ। দেশের অভ্যন্তরে অর্থনীতির মূল কর্মক্ষেত্রগুলোতে নারীর অবদান ক্রমাগত বাড়ছে। সমীক্ষা অনুসারে, মূলধারার অর্থনীতি হিসেবে স্বীকৃত উৎপাদন খাতের মোট কর্মীর প্রায় অর্ধেকই এখন নারী। কৃষি, শিল্প, সেবা খাতসহ বিভিন্ন আনুষ্ঠানিক ও অনানুষ্ঠানিক খাতে নারীর অংশগ্রহণ দিনে দিনে বাড়লেও জাতীয়ভাবে পিছিয়ে আছেন তারা। সরকারি সংস্থা বিআইডিএসের সর্বশেষ জরিপ অনুযায়ী, অর্থনীতিতে নারীর সাফল্য বেড়েছে। নারীর অংশগ্রহণ বেড়েছে উৎপাদন ব্যবস্থায়ও।

এমন পরিস্থিতিতে উন্নয়ন প্রকল্প আরো ভালোভাবে বাস্তবায়নের জন্য নারীর অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে একটি কার্যকর ক্রয়ব্যবস্থার পরিবেশ তৈরি করতে হবে বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা। কেননা, বাংলাদেশে প্রতি বছরই বাড়ছে উন্নয়ন প্রকল্প। উন্নয়ন ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় তার সঠিক বাস্তবায়নও জরুরি। এ কারণে সরকারি ক্রয় প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা আনতে ইতিমধ্যে নানা উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। কিন্তু নারীর অংশগ্রহণ বাড়াতে পর্যাপ্ত সুযোগ রাখা হয়নি। কর্মে নারীর একাগ্রতা উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে সহায়ক ভূমিকা রাখতে পারে। তাই সরকারি ক্রয়নীতিতে প্রয়োজনীয় পরিবর্তন আনা দরকার। বিষয়টি নিয়ে পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় কাজ করছে বলেও জানা গেছে।

পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের সূত্র জানায়, বিষয়টিকে গুরুত্ব দিতে গত রবিবার ‘উইমেন এন্ট্রাপ্রেনিওরশিপ ইন পাবলিক প্রকিউরমেন্ট’ শীর্ষক এক সংলাপের আয়োজন করা হয়। বাস্তবায়ন, পর্যবেক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগের সেন্ট্রাল প্রকিউরমেন্ট টেকনিক্যাল ইউনিটের (সিপিটিইউ) সম্মেলনকক্ষে অনুষ্ঠিত সংলাপে বক্তারাও এ বিষয়ে তাগিদ অনুভব করেন। পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের সচিব এসংক্রান্ত প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনার কথা তুলে ধরে বলেন, সরকারি কেনাকাটায় নারীর অংশগ্রহণ দুর্নীতিমুক্ত টেন্ডারিং সিস্টেমকে উৎসাহিত করবে এবং উন্নয়ন কর্মসূচিকে বেগবান করবে।

সিপিটিইউর মহাপরিচালক মো. আলী নূর এ প্রসঙ্গে বলেন, সিপিটিইউ নীতিমালায় প্রয়োজনীয় পরিবর্তন আনার দাবিকে ইতিবাচকভাবে বিবেচনা করা হবে, যাতে নারী উদ্যোক্তারা সরকারি ক্রয়ে অংশ নিতে পারেন।

উদ্যোক্তাদের নিয়ে কাজ করে বিল্ড। বিল্ডের জেন্ডার কনসালট্যান্ট মেহেরুনা ইসলাম চৌধুরী বলেন, ক্রয় নীতিমালায় ত্রুটি রয়ে গেছে, যে কারণে সরকারি ক্রয় প্রক্রিয়ায় নারী উদ্যোক্তাদের অংশগ্রহণ বাড়ছে না। তিনি বলেন, ই-জিপির মাধ্যমে টেন্ডারে অংশগ্রহণের জন্য প্রয়োজনীয় নিবন্ধীকরণ প্রক্রিয়া নারীদের জন্য সমস্যা। কারণ এতে তথ্যপ্রযুক্তির জ্ঞান প্রয়োজন। সে জন্য সরকারের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়ার পরামর্শ দেন তিনি। অনুলিখন : ইয়াসিন আরাফাত, সম্পাদনা : সালেহ্ বিপ্লব

সর্বাধিক পঠিত