প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

হাতিরঝিলের দূষিত পানি, গন্ধে অতিষ্ঠ মানুষ, হুমকির মুখে জীববৈচিত্র্য

তন্নীমা আক্তার : রাজধানীর বড় একটি অংশের জলাবদ্ধতা নিরসন এবং বৃষ্টি ও বন্যার পানি ধারণের লক্ষ্যে হাতিরঝিল দখলমুক্ত করে আধুনিকায়ন করা হয়েছে। রাজধানীর পূর্ব ও পশ্চিম অংশের মধ্যে যোগাযোগব্যবস্থা স্থাপনও ছিলো অন্যতম প্রধান লক্ষ্য। হাতিরঝিল প্রকল্পটি ২০১৩ সালে জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করা হয়। সবুজে ঘেরা প্রকল্পটি সবুজতর হলেও লেকের পানি মানুষের জন্য অস্বস্তি ও বিপদের কারণে হয়ে দাঁড়িয়েছে।

হাতিরঝিলের আশপাশের অনেক এলাকায় এখন নাক চেপে শ্বাস নিতে হয়। মীরবাগ, মধুবাগ ও সংলগ্ন এলাকায় একেবারে দমবদ্ধ অবস্থা। বর্ষা শেষ হতে না হতেই অস্বাভাবিক খারাপ অবস্থায় লেকের পানি। ড্রেন নালা ও স্যুয়ারেজের পানি আর ময়লা পড়ে কালো হয়ে গেছে পানি।

পানিতে ভাসছে নানা বর্জ্য। পানি দূষিত হয়ে পড়ায় হাতির ঝিলে চলা ওয়াটার বাসের যাত্রীরাও বিপাকে পড়ছেন। পানি পরিশোধনের পর্যাপ্ত ব্যবস্থা না থাকায় হাতিরঝিলের পানির গুণগত মান ক্রমেই খারাপ হচ্ছে। পয়নিষ্কাশনের ময়লা, আবর্জনা ও ড্রেনেজের নোংরা পানি এসে বিবর্ণ হয়ে প্রকট আকার ধারণ করেছে ঝিলে। চারপাশে উৎকট গন্ধ ছড়াচ্ছে। এতে আশপাশের পরিবেশ মারাত্মক ঝুঁকির মধ্যে পড়েছে। অসহনীয় দুর্গন্ধে দুর্ভোগে পড়ছেন স্থানীয় বাসিন্দা, পথচারী ও দর্শনার্থীরা। পরিবেশবিদরা বলছেন, এই দুর্গন্ধযুক্ত পানি জীববৈচিত্র ও পরিবেশের জন্য হুমকিস্বরূপ। রাজধানীর বিভিন্ন স্থান থেকে এমনকি ঢাকার বাইরে থেকেও হাতিরঝিলের সৌন্দর্য দেখতে আসেন বহু দর্শনার্থী। সকাল-সন্ধ্যায় ব্যায়াম করতে আসেন আশপাশের এলাকার মানুষ। অথচ স্বস্তির নিঃশ্বাস নিতে গড়ে ওঠা বিনোদন কেন্দ্র হাতিরঝিলের পরিবেশ দিনদিন নষ্ট হচ্ছে।
গুলশান লেক, কারওয়ানবাজার ও বেগুনবাড়ী দিয়ে হাতিরঝিলের পানিতে প্রতিনিয়ত ঢুকছে ময়লা পানি।

হাতিরঝিলের বিভিন্ন স্থান ঘুরে দেখা গেছে, আশপাশের বাসাবাড়ির গৃহস্থালি ময়লা-আবর্জনা, দর্শনার্থীদের ফেলা বিভিন্ন খাবারের উচ্ছিষ্ট, চানাচুর ও চিপসের প্যাকেট, পানির বোতলসহ বিভিন্ন ধরনের ময়লা লেকের পানিতে ভাসছে। হাতিরঝিলের চারপাশে গড়ে ওঠা দোকান ও রেস্তোরাঁর ময়লাও ফেলা হচ্ছে ঝিলের পানিতে। কয়েকটি ড্রেন দিয়ে আশপাশে এলাকার পচা আবর্জনা ঝিলে প্রবেশ করে নষ্ট করছে পানির স্বচ্ছতা। এ পানি অনেক দিন ঝিলে আটকে থাকায় ক্রমেই পানির রং কালো হয়ে বাড়ছে দুর্গন্ধ। একই চিত্র দেখা মেলে এফডিসি মোড়, বেগুনবাড়ি লেকপাড়, গুদারাঘাট, নিকেতন ও রামপুরা অংশে।

ঝিলের ওয়াটার ট্যাক্সির এ্যাডমিন অফিসার রুবেল হোসাইন ও ঘাট ইনচার্জ হাদিয়ার রহমান গণমাধ্যমের সঙ্গে আলাপকালে জানান, শীতকালে পানি কমে গেলেই দুর্গন্ধ ছড়াতে শুরু করে। যাত্রীরা অভিযোগ করে।

স্টামফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. আহমদ কামরুজ্জমান মজুমদার এক সাক্ষাতকারে বলেন, হাতিরঝিল প্রকল্পের মূল পরিকল্পনায় পানি শোধনের আধুনিক ব্যবস্থার কথা বলা ছিলো। তাছাড়া আশপাশের ময়লা ও নোংরা পানি এখানে প্রবেশের কথা ছিলো না।
তবে সংশ্লিষ্টরা বলছেন এ ব্যাপারে উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। পানি থেকে ময়লা সরানোর কাজও চলছে। এ বিষয়ে রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) প্রধান প্রকৌশলী এবং হাতিরঝিলের সমন্বিত প্রকল্প পরিচালক এ এস এম রায়হানুল ফেরদৌস গণমাধ্যমকে বলেছেন, এ বিষয়টি আমরা অবগত। ময়লা সরানোর কাজ ইতোমধ্যেই শুরু করেছি। মার্চের মধ্যে কাজ শেষ হবে বলে রাজউকের প্রধান প্রকৌশলী জানান।সম্পাদনা : সালেহ্ বিপ্লব

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত