প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

২০১৬ সালের ২ জুলাই বিশ্বখ্যাত নিউইয়র্ক টাইমস ভুল রিপোর্ট প্রকাশ করেছিলো যে, ফারাজকে ছেড়ে দিতে চেয়েছিলো জঙ্গিরা

 

নুরুজ্জামান লাবু : এই মুহূর্তে বাংলাদেশের শীর্ষ দুই পত্রিকা- প্রথম আলো এবং দ্য ডেইলি স্টারের অনলাইনে লিড স্টোরি করা হয়েছে ফারাজকে নিয়ে। ফারাজ, হোলি আর্টিজান বেকারীতে ভয়াবহ জঙ্গি হামলায় অন্য ২১ জনের সঙ্গে নিহত হয়েছিলো। খুবই নির্মম একটি ঘটনা। অন্য সবার সঙ্গে তার আত্মাও শান্তি পাক। ফারাজের নামে একটি ‘সাহসিকতা পুরস্কার’ চালু করা হয়েছে। ফারাজের নানা ট্রান্সকম গ্রুপের চেয়ারম্যান। বাংলাদেশের শীর্ষ দুই পত্রিকা প্রথম আলো এবং ডেইলি স্টারের সঙ্গে কমবেশি ট্রান্সকম গ্রুপের সম্পৃক্ততা রয়েছে। এ কারণে তারা ফারাজের খবরগুলোকে খুবই গুরুত্ব দিয়ে প্রকাশ করে থাকে। রিপোর্টে (বর্তমান রিপোর্ট এবং আগের) যে বলা হচ্ছে- জঙ্গিরা জিম্মি করার পর ফারাজকে ছেড়ে দিতে চেয়েছিলো, কিন্তু দুই বান্ধবীক রেখে ফারাজ আসতে চায়নি, সে কারণে তার নামে এই সাহসিকতা পুরস্কারটি চালু করা হয়েছে, এই তথ্য তারা কোথায় পেলো? প্রায় সাড়ে তিন বছরেও এই বিষয়ে কোনো প্রত্যক্ষদর্শীর বরাত দিয়ে একটার রিপোর্ট প্রকাশ করতে পারেনি।২০১৬ সালের ২ জুলাই বিশ্বখ্যাত নিউইয়র্ক টাইমস একটি ভুল রিপোর্ট প্রকাশ করেছিলো যে ফারাজকে ছেড়ে দিতে চেয়েছিলো জঙ্গিরা।

তারা কোট করেছিলো ফারাজের এক স্বজনের। বাইরে থাকা সেই স্বজন কার কাছ থেকে এই তথ্য জেনেছিলো তা আজও অজানা। আলোচিত এই ঘটনার দীর্ঘ তদন্ত হয়েছে। প্রত্যক্ষদর্শী রেস্তোরার অতিথি ও কর্মীরা পুলিশের কাছে এবং আদালতে সাক্ষ্য দিয়েছেন। ঘটনার বর্ণনা করেছেন। কিন্তু কেউ বলেননি জঙ্গিরা ফারাজকে ছেড়ে দিতে চেয়েছিলো, কিন্তু সে দুই বান্ধবীকে রেখে আসতে চায়নি। আহা, মিথ্যা সাহসিকতার এই প্রচার ঘটিয়ে কী লাভ বুঝতে পারি না। বরং অপর ২১ জনের মতো ফারাজের আত্মত্যাগকে স্মরণ করার জন্য যেকোনো ইস্যুতে তারা পুরস্কার দিতে পারে, তাতে কোনো আপত্তি নেই। মিথ্যা প্রচারণার চাইতে তাতে সম্মানটা বাড়ে বৈ কমে না। যেমনটা করছে অবিন্তা ফাউন্ডেশন। ফারাজের সঙ্গেই যে গিয়েছিলো হোলি আর্টিজান বেকারীতে। বাংলাদেশে এখনো বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতা যদি কেউ করে থাকে তাহলে সবার আগে আমরা প্রথম আলো এবং ডেইলি স্টারের কথা বলি। কিন্তু তারাই যদি নিজেদের লোকজনকে হিরো বানাবার জন্য এমন মিথ্যাচার করে তবে তাদের নীতি-নৈতিকতার কথায় প্রশ্ন ওঠাটাই স্বাভাবিক। হোলি আর্টিজান বেকারীতে নির্মম হামলায় দুজন বেকারীকর্মী মারা গিয়েছিলেন। সাইফুল ইসলাম চৌকিদার ও জাকির হোসেন শাওন। দুজনকেই প্রথম থেকে সন্দেহভাজন মনে করা হয়েছিলো। ফলে শাওনের শরীরে অসংখ্য জখমের চিহ্নসহ লাশটা পেয়েছিলো পরিবার, সাইফুলের দাফন হয়েছিলো জঙ্গিদের সঙ্গে জঙ্গি তকমা নিয়ে। যদিও কাউন্টার টেরোরিজমের নিরলস পরিশ্রমী তদন্তে তাদের জঙ্গি সম্পৃক্তা পাওয়া যায়নি। কিন্তু না রাষ্ট্র না কেউ এই দুই পরিবারের পাশে এগিয়ে আসেনি। এমনকি এই যে প্রচুর অর্থবিত্ত, ক্ষমতা আর শীর্ষ মিডিয়া হাতে আছে বলে মিথ্যা সাহসিকতার পুরস্কার যারা চালু করেছে তারাও না। তারাও তো পারে দুটি গরিব পরিবারের পাশে দাঁড়াতে। আহা…সব কিছুই আসলে নষ্টদের দখলে! ফেসবুক থেকে

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত