প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

অনুমোদনের অপেক্ষায় ৬৫ কিলোমিটার আধুনিক চক্রাকার সড়ক প্রকল্প

সুজিৎ নন্দী: ১২ হাজার ১২৫ কোটি টাকা ব্যয়ে ঢাকার চারপাশে চক্রাকার সড়ক নির্মাণের পরিকল্পনা করছে সরকার। ৫৫ দশমিক ৮ মিটার প্রস্থের অত্যাধুনিক এই সড়কে দ্রুতগতির যান চলাচলের জন্য চারটি লেন থাকবে। দুই পাশে দুটি করে সার্ভিস লেন ছাড়াও মেট্রোরেলের জন্য ১০ মিটার করে জায়গা রাখা হবে। দুই পাশে সংযোগের জন্য তৈরি করা হবে ‘টানেল’। প্রকল্পের মোট খরচের অর্ধেকই ব্যয় হবে জমি অধিগ্রহণ করতে। প্রকল্পটি বাস্তবায়নের জন্য ৬১ দশমিক ৮ হেক্টর জমি অধিগ্রহণ করতে হবে। ইতিমধ্যেই জমি অধিগ্রহণসংক্রান্ত প্রকল্প তৈরির কাজ শুরু করেছে সড়ক ও জনপথ অধিদফতর।

জানা যায়, গত বছরের মে মাসে চক্রাকার সড়ক নির্মাণের সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের কাজ শেষ হয়। এরপর সড়কের জন্য প্রাথমিক উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব (পিডিপিপি) তৈরি করে বর্তমানে পরিকল্পনা কমিশনে জমা আছে।

চক্রাকার সড়কের মোট দৈর্ঘ্য ৬৫ কিলোমিটার। ঢাকা সার্কুলার রুট, পার্ট-২ নামের প্রকল্পের আওতায় ৪৭ দশমিক ১৫ কিলোমিটার অংশের কাজ করবে সওজ। বাকি অংশ পৃথক তিনটি প্রকল্পের মাধ্যমে বাস্তবায়ন করবে সওজ ও সেতু কর্তৃপক্ষ। স ও জ এর ঢাকা ডিভিশনের নির্বাহী প্রকৌশলী মেহেদী ইকবাল বলেন, চক্রাকার সড়কটি বৈদেশিক অর্থায়নে বাস্তবায়নের পরিকল্পনা আছে। ইতিমধ্যেই এশীয় অবকাঠামো বিনিয়োগ ব্যাংকের (এআইআইবি) সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। চক্রাকার সড়কের পিডিপিপি পরিকল্পনা কমিশনে আছে। সেখানে এটি যাচাই-বাছাই চলছে।

জানা যায়, আব্দুল্লাহপুর থেকে বিরুলিয়া-গাবতলী হয়ে বাবুবাজার সেতু পর্যন্ত বেড়িবাঁধ সড়ককে কেন্দ্র করে নির্মাণ করা হবে এই সড়ক। ঢাকা শহরকে বন্যামুক্ত করতে পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) নির্মাণ করা বাঁধের ওপর সড়কটি করা হয়েছে। সড়কটি রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্বে আছে সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর (সওজ)। এখন বেড়িবাঁধ সড়ক আধুনিক ও চওড়া করে প্রায় ৩০ কিলোমিটার যুক্ত করে চক্রাকার সড়ক নির্মাণের এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রকল্পে একাধিক সার্ভিস লেন থাকবে। সড়কের পাশ ধীরগতির যানবাহন চলাচল করবে। সওজ স‚ত্র জানায়, সড়কটি শুরু হবে আবদুল্লাহপুর থেকে। বিরুলিয়া, গাবতলী, চুনকুটিয়া, পোস্তগোলা, নারায়ণগঞ্জের চাষাঢ়া ও শিমরাইল হয়ে ঢাকার ডেমরায় গিয়ে শেষ হবে। ভবিষ্যতে যাতে সড়কটি ধরে মেট্রোরেল করা যায়, সে জন্য ১০ মিটার করে জায়গা রাখা হবে।

চক্রাকার সড়কটি করা হলে বিপুল মানুষ এর সুবিধা পাবে বলে মনে করছেন সওজের ঢাকা জোনে উদ্ধতন কর্মকর্তারা। তারা জানান, এখন সদরঘাট থেকে মানিকগঞ্জ বা গাজীপুরে যেতে হলে মিরপুর রোড বা বিমানবন্দর সড়ক দিয়ে যেতে হয়। শহরের ভেতর দিয়ে যাতায়াতে প্রচুর সময় ব্যয় হয়। কিন্তু চক্রাকার সড়ক বাস্তবায়িত হলে সদরঘাট থেকে গাজীপুর বা মানিকগঞ্জ যেতে ঢাকা শহরে আর ঢুকতে হবে না। পরিবহন ব্যয়ও কমবে। তা ছাড়া, এই সড়কের আশপাশের এলাকার আর্থসামাজিক অবস্থার পরিবর্তন হবে।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত