প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

এফবিআইয়ের গোয়েন্দা ফাঁদে ধরা পড়ছে বাংলাদেশি-আমেরিকান যুবকরা

দেবদুলাল মুন্না: আমেরিকার গোয়েন্দা সংস্থা ফেডারেল ব্যুরো অফ ইনভেস্টিগেশন’ (এফবিআই) র ফাঁদে বারবার ধরা পড়ছেন বাংলাদেশি আমেরিকান যুবকেরা। বেশিরভাগই ক্ষেত্রেই তারা ফেসবুকে পোস্ট লিখে ধরা পড়ছেন।

আলজাজিরা জানায়, এফবিআই ফেসবুকে আমেরিকান বাংলাদেশি যুবকদের ওপর কড়া নজর রাখছে। অক্টোবরে সর্বশেষ গ্রেপ্তার হন সালমান রশীদ নামের এক যুবক। তিনি ফ্লোরিডায় পরিবারের সঙ্গে থাকতেন। সালমানের জন্ম কিশোরগঞ্জে। তার বিরুদ্ধে অভিযোগ জঙ্গি হামলা করার পরিকল্পনাকারী হিসেবে। ২৯ নভেম্বর আদালতে হাজির করার পর পুলিশ ও সালমানের বক্তব্য থেকে এমন কথাই জানা গেছে। গোয়েন্দারা অভিযোগ করছেন, দুই কলেজের ডিনকে বোমা মেরে হত্যাসহ ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ চালানোর ষড়যন্ত্র করছিলেন সালমান।

হাফিংটন পোস্ট গোয়েন্দা সূত্রের বরাতে জানায়, এফবিআইয়ের সন্দেহভাজন জঙ্গীর তালিকায় প্রায় দুইহাজার বাংলাদেশি আমেরিকান যুবক রয়েছেন। এদিকে সালমান রশীদের ব্যাপারে সাউদার্ন ডিস্ট্রিক্ট ফেডারেল কোর্টের প্রসিকিউর মামলার উদ্ধৃতি দিয়ে জানান, গত ডিসেম্বরে সালমানকে মায়ামি ড্যাড কলেজ থেকে এবং চলতি বছরের মে মাসে ব্রাউয়ার্ড কলেজ থেকে বহিষ্কার করা হয়। ফেসবুকে সালমান স্ট্যাটাস দিয়েছিলেন, বিশ্বব্যাপী মুসলমানদের নিগৃহীত করার প্রতিশোধ নিতে আমেরিকায় বড় ধরনের কিছু একটা করতে তিনি আগ্রহী। জঙ্গিবাদে জড়িত থাকার অভিযোগে আমেরিকায় একের পর এক বাংলাদেশি গ্রেপ্তার হচ্ছেন। এরই মধ্যে গ্রেপ্তারের বেশ কয়েকটি ঘটনা ঘটেছে। গত জুলাইয়ে নিউইয়র্কের ব্রঙ্কসেতে বসবাসরত দেলোয়ার মোহাম্মদ হোসেনকে গ্রেপ্তার করেছে এফবিআই। দেলোয়ারের বিরুদ্ধে অভিযোগ, তিনি আফগান্তিানে গিয়ে তালেবানদের সঙ্গে যুক্ত হয়ে আমেরিকান সৈন্যদের হত্যার পরিকল্পনা করেছিলেন। এ বিষয়ে তিনি ১২ জুলাই ফেসবুকে পোস্ট দেন। এর কিছুদিন আগে জঙ্গিবাদী চিন্তা ও হামলা পরিকল্পনার অভিযোগে গ্রেপ্তার হন আশিকুল আলম নামে ২২ বছরের এক ইউনিভার্সিটি পড়ুয়া শিক্ষার্থী। আশিকুলের বিরুদ্ধে অভিযোগ, তিনি টাইমস স্কয়ারে হামলার পরিকল্পনা করেছিলেন। তিনিও ফেসবুকে পোস্ট দিয়েছিলেন। আশিক গ্রেপ্তারের ঘটনার আগে আকায়েদ উল্লাহ ও নাফিসসহ আরও কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করেছিল এফবিআই। আটক ব্যক্তিদের পরিচয় আমেরিকার প্রধান গণমাধ্যমগুলোতে বাংলাদেশি আমেরিকান বলা হচ্ছে। আর এ নিয়ে বাংলাদেশি আমেরিকানদের অস্বস্তি দেখা গেলেও কেউ কিছু করছেন না। নিউইয়র্কে সন্ত্রাসবিরোধী সচেতনতা সৃষ্টির বিষয়ে সক্রিয় বাংলাদেশি ইমাম কাজী কাউয়ুম উদ্বেগ জানিয়ে বলেন, ‘ প্রতিটি ঘটনার পর বাংলাদেশের নাম যখন সংবাদে উচ্চারিত হয়, তখন আমরা লজ্জিত হই। নিন্দা জানাই।’

কাজী কাজীয়ুম বলেন,‘ আমেরিকায় বসবাসরত বাংলাদেশি জনসমাজ সম্মিলিতভাবে সন্ত্রাসীদের মদদদাতা ও উর্বরতার জোগানদাতা ধর্মাশ্রয়ী গোষ্ঠীকে চিহ্নিত করতে না পারলে এমন ঘটনা আরও ঘটতে থাকবে। এ নিয়ে কমিউনিটিকে আর বসে না থেকে দ্রুত উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন। এসব হোমগ্রোন জঙ্গিবাদের জন্য অভিযুক্তরা পরিস্থিতির শিকার হচ্ছে। স্বপ্নের দেশ আমেরিকায় এসে বহু বাংলাদেশি পরিবার নিশ্চিহ্ন হচ্ছে এসবে জড়িয়ে। ’

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত