প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

১৬ ডিসেম্বর প্রকাশ করা হবে প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধা ও রাজাকারের তালিকা, জানালেন মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী

সময়ের আলো: মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক বলেছেন, আমরা সব কাজ গুছিয়ে নিয়ে এসেছি। আসছে ১৬ ডিসেম্বর বিজয় দিবসে দেশের প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধা ও রাজাকারদের তালিকা ঘোষণা করা হবে। নিজ মন্ত্রণালয়ে দৈনিক সময়ের আলোকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে মন্ত্রী এ তথ্য জানান।

রণাঙ্গনের যোদ্ধা মোজাম্মেল হক বলেন, অত্যন্ত স্বচ্ছ ও সঠিক তথ্য যাচাই-বাছাই শেষে মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকা প্রণয়ন হচ্ছে এবং অসঙ্গতিপূর্ণদের বাদ দেয়া হয়েছে। আমি নিজে অভিযোগ আসা মুক্তিযোদ্ধাদের সাক্ষাৎকার নিয়েছি। সবার সঙ্গে আলাদাভাবে কথা বলেছি। এতে আমার সন্তুষ্টি, তাদেরও তৃপ্তি। কারণ সবাই আমার সামনে বসে তাদের বক্তব্য উপস্থাপন করতে পেরেছেন। মুক্তিযোদ্ধা যাচাই-বাছাইয়ের পুরো প্রক্রিয়ায় ছিলাম আমি। তাই বলতে পারব, ভালো করলেও করেছি, মন্দ করলেও আমি করেছি। আর অন্যকে দিয়ে কাজগুলো মন মতো হয় না। তাই নিজেই সব করলাম।

ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা সম্পর্কে মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক বলেন, ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা সম্পর্কে আদালত একটি রায় দিয়েছেন। কিন্তু রায়টি সুস্থ মস্তিষ্কে দিয়েছেন কি না ভাবতে হবে! কারণ, যা সঠিক নয় তা ভুয়া বলেই সম্বোধিত। এ দেশে জজ, হাকিম, ব্যারিস্টার, উকিল থেকে শুরু করে ভুয়া মন্ত্রী-এমপিও আছে! আপনি যা না, তার পরিচয় দিচ্ছেন বলেই তো ভুয়া। তাই ভুয়াদের ভুয়া বলতে সমস্যা কোথায়? সেটা হোক মুক্তিযোদ্ধা। মুক্তি সংগ্রামে না গিয়ে কেন যোদ্ধার পরিচয় দেওয়া হচ্ছে?

স্বাধীনতার ঘোষক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবর্ষ উপলক্ষে কি কর্মসূচি হাতে নেওয়া হয়েছে? উত্তরে তিনি বলেন, আমরা মুজিব বর্ষে স্বাধীনতা ও বিজয় দিবস বৃহৎ পরিসরে করব। ১৭ মার্চ বঙ্গবন্ধুর জন্মদিনে মুক্তিযোদ্ধা মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে দেশের সব উপজেলায় যুগপৎভাবে জন্মোৎসব করব। একটি নির্দিষ্ট সময়ে, হতে পারে দুই ঘণ্টা, সারা দেশে বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণ বাজবে।

দেশের আনাচে-কানাচে থাকা গণকবর সংরক্ষণে মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জোরালো উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে জানিয়ে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী বলেন, আমরা ইতোমধ্যে নিজ নিজ উপজেলার ইউএনওদের কাছে অর্থ পাঠিয়ে দিচ্ছি। যেখানেই ১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধের গণকবরের সন্ধান মিলবে, সেখানে সংরক্ষণের ব্যবস্থা নেওয়া হবে। মন্ত্রণালয় কাজ কতটুকু হলো, না হলো তা তদারকি করছে। কোথাও গণকবর অরক্ষিত আছে কি না প্রশাসনের মাধ্যমে আমরা এলাকায় খবর নিচ্ছি।

নিজ নির্বাচনি এলাকা গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলা পরিষদের ভোটে বিদ্রোহী প্রার্থীর পক্ষে অবস্থান নিয়েছিলেন মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক। কিন্তু স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী নিষেধ করার পরও কেন বিদ্রোহী প্রার্থীর পক্ষে কাজ করেছেন? জবাবে মন্ত্রী বলেন, গাজীপুরের কালিয়াকৈর একটু ভিন্ন। কারণ জেলা কমিটিতে কালিয়াকৈর থেকেই প্রায় ২৩ জন সদস্য রয়েছেন। গত উপজেলা নির্বাচনে তিনজন বাদে বাকি ২০ জনই ছিল এক পক্ষে। আর প্রায় সব ইউনিয়নের সভাপতি সম্পাদক ওই প্রার্থীর পক্ষে ছিল। আটটি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান রেজুলেশন করে কামাল উদ্দিন সিকদারকে মনোনয়ন দেওয়ার জন্য সুপারিশ করেন।

পাশাপাশি স্থানীয় আওয়ামী লীগের সব সহযোগী সংগঠন তাকে সমর্থন দেয়। কেন্দ্রে রেজুলেশন করে কামালকে মনোনয়ন দেওয়ার কথা বলেন। কিন্তু পরে জানা গেল রেজুলেশন বা সুপারিশের কাগজপত্র কেন্দ্রে পৌঁছেনি। সব ‘হাওয়া’ হয়ে গেছে। কেন্দ্র যাকে মনোনয়ন দিয়েছে, স্থানীয় আওয়ামী লীগ তা মেনে নিতে পারেনি। তারা যাকে সমর্থন দিয়েছে, সেই প্রার্থী উপজেলায় ১৬ বছর দলের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেছেন। বর্তমানে উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতির দায়িত্বে আছেন। এর আগেও তিনি উপজেলা চেয়ারম্যানও ছিল। কাজেই আওয়ামী লীগের নেতাকেই সমর্থন দিয়েছি। এ জন্য কেন্দ্র আমাদের অবস্থানে কিছু বলেনি।

মন্ত্রীর দাবি, আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের একবার ঘোষণা দিয়ে বলেছিলেন ‘বিএনপি যেহেতু ভোটে আসছে না, তাই আওয়ামী লীগের যারা নির্বাচন করতে চায় তারা প্রতিদ্বন্দ্বীতা করতে পারে। আমরাও মাঠ পর্যায়ে তাদের অবস্থান বুঝতে চাই।’ সে হিসেবে বিদ্রোহীরা এই সুযোগটাও কাজে লাগিয়েছে। আমি আসলে ‘নিরব’ ছিলাম। তবে এটা ঠিক, ভোটে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থীকে আমি সমর্থন করিনি। প্রকান্তরে বিরোধিতাই করেছি। কারণ ৯৫ শতাংশ আওয়ামী লীগের নেতাকর্মী দলীয় মনোনীত প্রার্থীর বিপক্ষে ছিল। ৪১ বছর ধরে আমি গাজীপুরের রাজনীতির সর্বোচ্চ দায়িত্ব পালন করছি। সুতরাং আমি ত্যাগী ও নিরেট নেতাকর্র্মী ভালো চিনি। ঠিক শ্রীপুর উপজেলায়ও একই অবস্থা। ওই প্রার্র্থী শুধু ত্যাগীই নন, দলের জন্য অত্যন্ত নিবেদিত প্রাণ।

এক প্রশ্নের জবাবে গাজীপুর জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আ ক ম মোজাম্মেল হক বলেন, গাজীপুর জেলায় মন্ত্রী-এমপিদের আত্মীয়-স্বজনদের দলীয় সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক বানানো হচ্ছে বলে আমার জানা নেই। তারপরও যদি কারও আত্মীয় অব্যাহতভাবে সংগঠন করে থাকে তাহলে তারা পদ পেতেই পারে। যদি সে রকম দক্ষ সংগঠক হয়।

আ ক ম মোজাম্মেল হক দ্বিতীয়বারের মতো মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পেয়েছেন। প্রবীণ এই রাজনীতিবিদ গাজীপুর-১ আসন থেকে টানা তিনবারের সংসদ সদস্য। মুক্তিযুদ্ধে অনন্য ভূমিকা রাখা মোজাম্মেল হক গাজীপুর জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি ছাত্রাবস্থায় পূর্ব পাকিস্তান ছাত্রলীগ কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটিরি সহ-সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন। এ ছাড়া তৎকালীন গাজীপুর মহকুমা ছাত্রলীগের প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক পদে ছিলেন।

বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় গাজীপুরের প্রতিরোধ যুদ্ধে অংশ নিয়ে সশস্ত্র প্রতিরোধ কমিটির আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন আ ক ম মোজাম্মেল হক। তিনি ১৯ মার্চ গাজীপুর থেকে সশস্ত্র সংগ্রামের নেতৃত্ব দেন। বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের পর ১৯৭৬ সাল থেকে তিনি গাজীপুর জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

১৯৭৩ থেকে ১৯৮৬ পর্যন্ত গাজীপুর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান, ১৯৮৯ থেকে ২০০৮ পর্যন্ত গাজীপুর পৌরসভার চেয়ারম্যান ও মেয়র পদে দায়িত্ব পালন করেন। পরে ২০০৮ সালের নির্বাচনে গাজীপুর-১ আসন থেকে আওয়ামী লীগের টিকেটে জয়ী হন। এ সময় তিনি সরকারের ভূমি মন্ত্রণালয় সংক্রান্ত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত