প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

বিধানসভা নির্বাচনে ভরাডুবিতে বিজেপির রাজনীতি চ্যালেঞ্জের মুখে

রঞ্জন বসু : যারা এতদিন বিজেপি সভাপতি অমিত শাহকে একজন ধূর্ত রাজনীতিবিদ হিসেবে মহারাষ্ট্রে সরকার গঠনে তার ভূমিকার প্রশংসা করতেন তারা এখন ফলাফল হিতে বিপরীত হওয়ায় মুখ লুকানোর চেষ্টা করছেন। উত্তর প্রদেশের পর মহরাষ্ট্র ছিল বিজেপির কাছে দ্বিতীয় সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ প্রদেশ। কারণ এ প্রদেশেই শাসক দল বিজেপি তাদের অতি পুরাতন মিত্র শিব সেনার কাছ থেকে অপ্রত্যাশিত আঘাত পায়। বিজেপির সঙ্গে শিব সেনা পক্ষ ত্যাগ করে প্রতিদ্বন্দ্বি দল জাতীয়তাবাদী ন্যাশনাল কংগ্রেস ও ভারতীয় ন্যাশনাল কংগ্রেসের সঙ্গে হাত মিলায়। শিব সেনা নেতা উদ্ধব ঠাকরে মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন গত ২৮ নভেম্বর।

বিজেপি নেতা দেবেন্দ্র ফাদনাভিস মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে ও এনসিপি নেতা অজিত পাওয়ার উপমুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়ার ঘন্টা খানেক পড়ে সুপ্রিম কোর্ট সংখ্যাগরিষ্ঠতা প্রমাণের নির্দেশ দিলে তারা উভয়ই পদত্যাগ করতে বাধ্য হন। অথচ মহারাষ্ট্রে সরকার গঠনে অমিত শাহ অজিত পাওয়ারের ওপর আস্থা রেখেছিলেন কিন্তু অজিত তার চাচা বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদ শারদ পাওয়ারের সঙ্গে যোগ দেন যিনি এনসিপি প্রধান। এখন প্রশ্ন হচ্ছে মহারাষ্ট্রে বিজেপি যে রাজনৈতিকভাবে অপমানিত হলো তার স্বল্প ও দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব দলটি কিভাবে ফেলবে। বিজেপির অবিসংবাদিত নেতা এবং ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ৬ মাস আগে জাতীয় নির্বাচনে দুর্দান্ত এক জয় নিয়ে ক্ষমতায় ফেরার পর তার দল রাজ্য নির্বাচনে হোঁচট খাচ্ছে। এরফলে অনেকে বিশ^াস করতে বাধ্য হচ্ছেন মোদী চমক আর রাজ্য পর্যায়ে কাজ করছে না।

সাবেক মিস ইন্ডিয়া, সামাজিক কর্মী ও কংগ্রেস সমর্থক নাফিসা আলী তার ফেসবুক পাতায় পরিসংখ্যান সহ ভারতের দুটি মানচিত্রের ছবি পোস্ট করে দেখিয়েছেন ২০১৭ সালে বিজেপি নেতৃত্বের সরকার তার জনসমর্থন ৭০ শতাংশ থেকে কমে এ বছর নভেম্বরে ৪০ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। হিন্দুত্ববাদী এ দলটির পায়ের নিচ থেকে মাটি ক্রমশ সরে যাচ্ছে।

মহারাষ্ট্রে বিধানসভা নির্বাচনে যে শিক্ষা পেল বিজেপি তাতে দলটির এ বোধদয় হবে কি না যে জম্মু ও কাশ্মীরের ব্যাপারে ভারতীয় সংবিধান থেকে ৩৭০ অনুচ্ছেদ তুলে নেয়া ও দুটি ফেডারেল অঞ্চল তৈরি করার পর বিষয়টি অনেক জনসমর্থন পেলেও কার্যত নির্বাচনে তার ফল হয়েছে উল্টো। এছাড়া হরিয়ানায় সরকার গঠন করতে যেয়ে বিজেপিকে একটি সংখ্যালঘু দলের শরণাপন্ন হতে হয়। মহারাষ্ট্র ও হরিয়ানাতেই এটা স্পষ্ট যে ভারত জুড়ে বিজেপি জনসমর্থন ও ভোট হারাচ্ছে। দিল্লির সিনিয়র সাংবাদিক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষণ স্মিতা গুপ্তা কাশ্মীর কিংবা রামমন্দিরের মত ইস্যুগুলো নির্বাচনে সময়মত প্রভাব ফেলছে। মহারাষ্ট্র ও হরিয়ানার নির্বাচন প্রমাণ করেছে শুধু কাশ্মীর ইস্যু বিজেপির ভরাডুবি রোধ করতে পারেনি। রামমন্দির নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের রায়ের পর এখন দেখা যাচ্ছে ঝাড়খন্ডে বিজেপির অবস্থা বেশ নড়বড়ে। অযোধ্যায় বাবরি মসজিদ ভাঙ্গা ও রামমন্দির তৈরি নিয়ে মামলার রায়ের পর পশ্চিমবাংলায় উপনির্বাচনে তিনটি আসন বিজেপিকে তৃণমূলের কাছে হারাতে হয়েছে। এগুলোই হচ্ছে বিজেপির ওপর স্বল্পমেয়াদি প্রভাব। এখন অর্থনৈতিক উন্নয়নে বিজেপি যে গ্যারান্টি দিয়েছে এবং কর্মসংস্থানের যে আশ^াস দেয়া হয়েছে তা বাস্তবায়ন সম্ভব না হলে শাসকদলটির জনসমর্থনে আরো ধস নামবে। ভারতীয় পর্যবেক্ষক ও বিশ্লেষকরা বলছেন মহারাষ্ট্রের নির্বাচনী ফলাফল অনেক দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলবে বিজেপির ওপর।

দুর্নীতির বিরুদ্ধে মোদীর ওয়াদা ছিল না কেউ দুর্নীতি করবে বা অন্য কাউকে তা করতে দেবে। কিন্তু বিজেপি নেতাদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির বিশাল অভিযোগ উঠতে শুরু করে এবং সাম্প্রতিক নির্বাচনে শত শত কোটি টাকা হাতবদলের অভিযোগ ওঠে। অজিত পাওয়ারের বিরুদ্ধে দুর্নীতির মামলা স্থগিত হয়ে যায়। মানুষ বিশ^াস করছে বিজেপি দুর্নীতির চক্রে আটকা পড়েছে। সামাজিক আন্দোলনের কর্মী হর্ষ মান্দের যিনি এক সাবেক আমলা তিনি বলেন, শুধু টাকার জোড়ে মহারাষ্ট্রে বিজেপি সরকার গঠন করতে চেয়েছিল। কর্নাটকের পর সেখানে সংখ্যাগরীষ্ঠতা রক্ষা করা দলটির পক্ষে সম্ভব হয়নি।

অন্যান্য দলের চেয়ে বিজেটি ব্যতিক্রম করার দাবি এতদিন উঠলেও এখন দেখা যাচ্ছে দলটি অন্যসব দলের মতই দুর্নীতিগ্রস্ত এবং দুর্নীতির প্রতি অনুরক্ত। ফলে মোদী ও অমিত শাহ ভারতে যে কোনো অসম্ভবকে সম্ভব করে তুলতে পারেন সে মিথও ক্ষয়ে যাচ্ছে। কম্যুনিস্ট পার্টি নেতা দিপঙ্কর ভট্টাচার্য বলেন, মোদী তার সুপারম্যান ইমেজ হারিয়েছেন। কংগ্রেস মুক্ত ভারত গড়তে যেয়েই বিজেপি এ সর্বনাশ ডেকে এনেছে। নীলাঞ্জন মুখোপাধ্যায় বলেছেন, একসময় ভারতের রাজনীতিতে জোট গঠনই ভবিষ্যত বলে মনে করা হলেও বিজেপি ক্ষমতায় এসে তা অপ্রয়োজনীয় করে তোলে। আর এখন সেই বিজেপির রাজনৈতিক সা¤্রাজ্য যে ক্ষয়িষ্ণু তা কেবল দৃশ্যমান হয়ে উঠতে শুরু করেছে। ঢাকা ট্রিবিউন থেকে অনুবাদ রাশিদ রিয়াজ

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত