প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

সম্পদ বাজেয়াপ্তই শেষ ভরসা
ফিরবে না জুয়ায় খোয়ানো টাকা

ডেস্ক রিপোর্ট  : বাংলাদেশ থেকে টাকাপাচারের ঘটনা অনেক পুরানো ইস্যু। ওই টাকা নামে-বেনামে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান, গাড়ি-বাড়ি-ফ্ল্যাট কেনাবাবদ পাচারকারীদের বিদেশে বিনিয়োগ করার খবরও নতুন কিছু নয়। কিন্তু এবারের উদ্বেগজনক, বিস্ময়কর ও নতুন খবর হচ্ছে— ওই পাচারের অর্থের একাংশ এখন দেশ-বিদেশের জুয়াড়িদের জুয়ার জালেও ফেঁসে যাচ্ছে। অন্যুৎপাদনশীল খাতে জুয়াড়িদের মাধ্যমে এই বিপুল টাকা নানাভাবে হাত বদল এবং এক্ষেত্রে সুনির্দিষ্ট ডকুমেন্ট না থাকায় তা আইনি প্রক্রিয়ায় দেশে ফেরত আনা অনেকটা অসম্ভব ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে।

জানা গেছে, দুর্নীতি ও অনিয়মসহ নানা উপায়ে পাচারকারীরা যে জ্ঞাত আয় বহির্ভূত অর্থ আয় করেছে মূলত সেসব অর্থই হুন্ডিসহ বিভিন্ন অবৈধপন্থায় বাংলাদেশ থেকে পাচার করেছে। সাম্প্রতিক সময়ে যার উল্লেখযোগ্য অংশ বড়মাপের কিছু জুয়াড়ির মাধ্যমে বিদেশের বিভিন্ন ক্যাসিনো ক্লাবগুলোর জুয়ার জলসায় খরচ হয়েছে।

এসব ক্লাবে গিয়ে বাংলাদেশের অনেক জুয়াড়ি এক রাতের জুয়াতেই হেসেখেলে উড়িয়ে দিয়েছেন কোটি কোটি টাকা। এর সাথে মদ ও সুন্দরী নারী নিয়ে ফূর্তি ও সময় কাটানো, রাজকীয় ভোগ-বিলাস এবং লাগামহীন কেনাকাটায়ও খরচ করা হয়েছে পাচারের এসব টাকা।

কথিত আছে যুবলীগ ঢাকা মহানগরের দক্ষিণের সাবেক সভাপতি ইসমাইল চৌধুরী সম্রাট সিঙ্গাপুরের সবচেয়ে বড় ক্যাসিনো ক্লাব ম্যারিনা বে-তে জুয়া খেলতেন। যে ক্লাবে জুয়া খেলার জন্য শুধু প্রবেশ ফি দিতে হত বাংলাদেশি মুদ্রায় ৪০ থেকে ৫০ লাখ টাকা।

আরও প্রচলিত আছে— এই ক্লাবে একঘণ্টার জুয়া খেলায় অংশ নিয়ে সম্রাট ৪৫ কোটি টাকা খুঁইয়ে এসেছেন। শুধু সম্রাট একাই নয়, জুয়াড়ির এ তালিকায় দেশের সিনিয়র-জুনিয়র অনেক রাজনীতিক, বড়মাপের ঠিকাদার, প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ী এবং সরকারি শীর্ষস্থানীয় আমলাসহ অনেক শ্রেণি-পেশার মানুষও রয়েছে।

শুধু সিঙ্গাপুরভিত্তিকই নয়, দুবাই, থাইল্যান্ড, মালয়েশিয়া, যুক্তরাষ্ট্র, জার্মানসহ বিশ্বের অনেক দেশেই বাংলাদেশি এসব জুয়াড়ির নিয়মিত যাতায়াতের তথ্য মিলেছে। এসব জুয়াড়ির অনেকে জুয়ার জলসায় টাকা ওড়াতে কখনো কখনো সংঘবদ্ধভাবেও যাওয়ার খবর পেয়েছে গোয়েন্দারা। যেখানে প্রতিটি জুয়ার আসরে কোটি কোটি টাকা লেনদেন হয়েছে।

গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর দাবি— এসব খেলায় কখন কেউ হেরেছে, কেউ জিতেছে। তবে জেতার চেয়ে হেরে আসার রেকর্ডই বেশি। এ ইস্যুতে তদন্তের কাজ এগিয়ে নেয়া এমন একাধিক দায়িত্বশীল মাধ্যমের দাবি, গত পাঁচ বছরে বিদেশের জুয়ার আসরগুলোয় বসে বাংলাদেশিরা অন্তত ২৫ হাজার কোটি টাকা খুইয়ে এসেছেন। যা এক জুয়াড়ি থেকে আরেক জুয়াড়ি হয়ে অসংখ্যবার অসংখ্য জুয়াড়ির হাত বদলেছে। ফলে খেয়ানো এসব টাকার প্রকৃত মালিকনা শেষ পর্যন্ত কার হাতে তা বের করা একেবারেই দূরহ ব্যাপার।

বিষয়টি স্বীকার করেছেন অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগের সিনিয়র সচিব ও জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যান মো. মোশাররফ হোসেন ভূঁইয়া। এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, যারা দেশের টাকা বিদেশে নিয়ে গিয়ে জুয়ার টেবিলে বসে সর্বস্ব খুঁইয়েছেন— সেই টাকা উদ্ধার কিংবা দেশে ফিরিয়ে আনা সম্ভব হবে না।

তবে জুয়াড়িদের চিহ্নিত করা সম্ভব। জুয়াড়ি চিহ্নিত হলে তাদের অবৈধ লেনদেন ও বিদেশে টাকাপাচারের পরিমাণও জানা যাবে। এক্ষেত্রে বিকল্প পন্থাগুলো অনুসরণ করে জুয়াড়ির কাছ থেকে ওই টাকা আদায় করে রাষ্ট্রীয় কোষাগারে তোলা সম্ভব।

এনবিআর চেয়ারম্যান এর উপায় উল্লেখ করে বলেন, বর্তমানে ওইসব ব্যক্তি, সংশ্লিষ্ট দেশ ও ক্যাসিনো প্লেস চিহ্নিত করতে দুদক ইতোমধ্যে আইনি প্রক্রিয়া শুরু করেছে। এনবিআরও ইতোমধ্যে অভিযুক্ত জুয়াড়ি ও সন্দেহভাজনদের আয়কর নথি কঠোরভাবে যাচাই-বাছাই করে দেখছে। আয়কর ফাইলে তাদের উল্লেখ করা তথ্যের সঙ্গে প্রকৃত আয় ও সম্পদের তথ্যে যাদের মিল খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না অর্থাৎ জ্ঞাত আয় বহির্ভূত কিংবা অবৈধ সম্পদের অস্তিত্ব টের পাচ্ছে তাদের চিহ্নিত করা হচ্ছে।

পাশাপাশি বাংলাদেশ ব্যাংককে তাদের সব ধরনের ব্যাংক হিসাব প্রাথমিকভাবে জব্ধ করতে বলা হচ্ছে। অধিকতর তদন্তে চিহ্নিত জুয়াড়ি বাংলাদেশে সে কি পরিমাণ সম্পদ অবৈধভাবে অর্জন করেছে। এর থেকে কি পরিমাণ অর্থ বিদেশে পাচার করেছে বা ক্যাসিনোতে উড়িয়েছে তা বের করা হবে।

একইসঙ্গে দেখা হবে পাচারের পর দেশে তার কি পরিমাণ স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদ রয়েছে। তখন বিদেশে পাচারের টাকা জুয়ার আসরে হারানো টাকা ফেরত আনা সম্ভব না হলেও দেশে থাকা তার ওই স্থাবর ও অস্থাবর সমুদয় সম্পদ জব্ধ কিংবা বাজেয়াপ্তের মাধ্যমে রাষ্ট্রের অধীনে আনা যাবে।

প্রসঙ্গত দুর্নীতির বিরুদ্ধে শুদ্ধি অভিযান শুরুর পর ক্যাসিনোকাণ্ডের বিষয়টি এখন টক অব দ্যা কান্ট্রিতে পরিণত হয়েছে। আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযানে ইতোমধ্যে সন্ত্রাসী, দুর্নীতিবাজ ও জুয়াড়িসহ অন্তত আড়াই শতাধিক অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করা হয়। এদের জিজ্ঞাসাবাদের পরই প্রাথমিকভাবে পাচারের টাকায় জুয়ার আসরের সম্পৃক্ততা পাওয়া যায়।

এখন পাচার হওয়া সেসব টাকা উদ্ধার এবং জুয়াড়িদের সম্পর্কে অধিকতর তথ্য জানতে বহুমুখী তৎপরতা শুরু হয়েছে। এর অংশ হিসাবে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) ইতোমধ্যে সিঙ্গাপুরভিত্তিক দুর্নীতি দমন ব্যুরোকে বাংলাদেশি জুয়াড়িদের সম্পর্কে তথ্য চেয়ে অনুরোধ জানিয়ে চিঠি দিয়েছে। এতে গত ৫ বছরে বাংলাদেশ থেকে যেসব প্রভাবশালী অর্থপাচার করে সিঙ্গাপুরে ক্যাসিনো ব্যবসায় লগ্নি ও জুয়া খেলেছেন তাদের পাসপোর্ট নম্বর সরবরাহ করতে বলা হয়েছে।

এ প্রসঙ্গে দুদক সচিব মুহাম্মদ দিলোয়ার বখত জানিয়েছেন, ক্যাসিনো ক্লাবে যাতায়াতকারীদের পাসপোর্ট নম্বর পেলে সেখানে কারা কতবার গিয়েছে এবং জুয়ার আসরে কি পরিমাণ বিনিয়োগ করেছে তা সুনির্দিষ্টভাবে জানা সম্ভব। এই তথ্য পাওয়া গেলে পাচারের অর্থ দেশে ফেরানোর পরবর্তী প্রক্রিয়ায় যেতে সহজ হবে।

তিনি বলেন, জাতিসংঘের দুর্নীতিবিরোধী কনভেনশনের ৪৮ ধারার বিধান অনুযায়ী দুদক সিঙ্গাপুর থেকে এ তথ্য পেতে কোনো বাধা নেই। তিনি আরও বলেন, শুধু সিঙ্গাপুর নয়, আরও জুয়াড়িদের সম্পর্কে তথ্য চেয়ে আরও কয়েকটি দেশে চিঠি পাঠানো হয়েছে।

তাছাড়া শিগগিরই এ ইস্যুতে দুদকের ৫ সদস্যের একটি টিম সিঙ্গাপুরে যাবে এবং সরেজমিন তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করবে। পর্যায়ক্রমে অন্যান্য দেশগুলোতেও যাবে দুদকের এই টিমের সদস্যরা। পাশাপাশি এ উদ্দেশ্যে যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা সংস্থা এফবিআইর সহযোগিতা নেয়ার বিষয়েও চুক্তি করবে বাংলাদেশ। অর্থাৎ দেশ থেকে বিভিন্ন উপায়ে পাচার হওয়া অর্থ উদ্ধারে দীর্ঘ একটি আইনি প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।

এ পদক্ষেপকে ইতিবাচক হিসাবে দেখলেও এর পুরো প্রক্রিয়ার দীর্ঘমেয়াদি উদ্যোগে কিছু সংশয়ের কথাও বলেছেন ওয়াকিবহাল মহল। তারা জানিয়েছেন, সিঙ্গাপুরে ক্যাসিনো ব্যবসা বৈধ। অথচ এ সংক্রান্ত তথ্য প্রদান ওই দেশের ক্যাসিনো ব্যবসার স্বার্থের পরিপন্থি। তাই দেশটি আসলে তথ্য সরবরাহ করতে রাজি হবে কি না— তা নিয়ে সংশয়ের যথেষ্ট কারণ রয়েছে।

এ প্রসঙ্গে দুদকের সাবেক চেয়ারম্যান গোলাম রহমান বলেন, উদ্যোগটি ইতিবাচক ও প্রশংসনীয়। তবে লক্ষ্য অর্জনের ব্যাপারটা সহজ না-ও হতে পারে। কারণ তারা তথ্য দেবে কি না— তা নিয়ে সংশয় আছে। কিন্তু এতে থেমে থাকলে হবে না। সম্পর্কোন্নয়নের মাধ্যমে আস্থার জায়গাটি তৈরি করতে হবে। পাশাপাশি কূটনৈতিকপর্যায়েও চাপ প্রয়োগ করলে এর সফলতা আসলেও আসতে পারে।

আবার তথ্য পাওয়ার উদ্যোগে সফলতা আসলেও তাতে পাচারের অর্থ ফেরত আনার বিষয়টি নিশ্চিত করে না বলেও মনে করেন অনেকে। সংশ্লিষ্টদের দাবি— সিঙ্গাপুর দুর্নীতি দমন ব্যুরো বাংলাদেশ দুর্নীতি দমন কমিশনকে তথ্য সরবরাহ করলেও তাতে টাকা উদ্ধার হয়ে যাবে না। দেখতে হবে পাচারকারী যে দেশে টাকাপাচার করেছেন সে দেশের কোনো ব্যাংকিং হিসাবে পাচারের ওই অর্থ আমানত বা সংরক্ষিত আছে কি না।

অথবা সেখানে পাচারকারীর নামে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান, গাড়ি-বাড়ি-ফ্ল্যাট— এ জাতীয় বিনিয়োগ আছে কি না। যদি এমন সুনির্দিষ্ট কিছু তদন্তে বেরিয়ে আসে তাহলে শুধু পাচারের ওইসব অর্থই দীর্ঘ আইন প্রচেষ্টার মাধ্যমে দেশে ফেরানো সম্ভব। কিন্তু জুয়ার বোর্ডে বসে ইতোমধ্যে যারা সর্বস্ব খুইয়েছেন কিংবা ভোগ-বিলাসে উড়িয়ে দিয়েছেন— সেই টাকা ফেরানো মোটেও সম্ভব হবে না।

জানতে চাইলে এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ও সিনিয়র অর্থনীতিবিদ ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ বলেন, দেশের কোটি কোটি টাকা যারা বিভিন্ন উপায়ে বিদেশে পাচারের মাধ্যমে ক্যাসিনো জলসায় বসে খুইয়ে ফেলেছেন অথবা নানা ভোগ-বিলাসে ব্যয় করে ফেলেছেন সেই টাকা তো ফেরত আনা যাবে না।

তবে এর ক্ষতিপূরণ করতে চিহ্নিত জুয়াড়িদের দেশে থাকা সব স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদ জব্ধ করে রাষ্ট্রের অনুকূলে নেয়া যেতে পারে। সেক্ষেত্রে একটা উপায় হতে পারে চিহ্নিত ব্যক্তির ব্যাংকিং হিসাব ও আয়-ব্যয়ের সার্বিক প্রোফাইল পুঙ্খানুপঙ্ক্ষভাবে যাচাই-বাছাই করা। এতে কী পরিমাণ অর্থ তিনি ব্যাংকিং সিস্টেমে অথবা ব্যাংকিং চ্যানেলের বাইরে বিদেশে নিয়ে গেছেন এবং কত টাকা কোন খাতে ব্যয় করেছেন তার ব্যাখা চাওয়া। যা তার সক্ষমতা বিবেচনায় রেখে সম্পত্তি জব্ধের মাধ্যমে আদায় করা যেতে পারে।

কিন্তু বিদেশে পাচারের চেয়ে দেশে থাকা সম্পদের পরিমাণ কম হলে এবং তা ফেরত আনা সম্ভব না যেটুকু আছে তাতেই সন্তুষ্ট থাকতে হবে। অবশ্য সেখানে অভিযুক্ত ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেয়াই হতে পারে এ প্রবণতা কমানোর অন্যতম উপায়।

ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ আরও বলেন, ক্যাসিনোকাণ্ডে বাংলাদেশের অনেক ধনকুবের, ব্যবসায়ী, রাজনীতিকসহ বিভিন্ন শ্রেণির লোকের নাম উঠেছে। অনেকের নাম এখনো গোচরের বাইরেই রয়েছে। সিঙ্গাপুরসহ উন্নত বিশ্বের অনেক দেশেই এদের যাতায়াত রয়েছে। তাই এসব ব্যক্তি সম্পর্কে সবার আগে সুনির্দিষ্ট তথ্য সংগ্রহ করা দরকার।

তবেই জানা যাবে কারা কোন কোন দেশে কোন পন্থায় কত টাকা নিয়ে গেছে এবং কত টাকা উড়িয়েছে। তারপরই আসবে তা উদ্ধারের প্রক্রিয়া। কীভাবে পাচারের টাকা দেশে ফেরানো সম্ভব এমন প্রশ্নের জবাবে সাবেক এ গভর্নর আরও বলেন, আইনগত পদ্ধতির আশ্রয় নিতে পারে বাংলাদেশ। এটি দুভাবে করা যায়।

প্রথমটি হচ্ছে— দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) মাধ্যমে। অন্যটি হচ্ছে বাংলাদেশের অ্যাটর্নি জেনারেলের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট দেশের অ্যাটর্নি জেনারেল কার্যালয়ের সরাসরি সহায়তা নেয়া। এ প্রক্রিয়ায় যেতে হলে কিন্তু গৃহিত উদ্যোগের যুক্তিসঙ্গত কারণ, নিখুঁত ও সুনির্দিষ্ট তথ্য সরবরাহ করতে হবে। তা শতভাগ নিশ্চিত হয়ে অগ্রসর হলে এ পদক্ষেপ ফলপ্রসূ হবে। নতুবা লক্ষ্য পূরণ না হওয়ার পাশাপাশি ভবিষ্যতের সহযোগিতা চাওয়ার পথও বন্ধ হয়ে যাবে।

আমার সংবাদ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত