প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

শীতে নগর জীবনের ক্লান্তি এড়াতে ঘুরে আসতে পারেন সাদা মাটির পাহাড়ে

শাহীন খন্দকার : নগর জীবনের ক্লান্তি এড়াতে ভ্রমনের বিকল্প নেই। আর সে জন্যই দেশ-বিদেশের দর্শনীয় স্থানগুলোতে বছর জুড়েই থাকে পর্যটকদের ভিড়। বাংলাদেশেও রয়েছে কক্সবাজার, শ্রীমঙ্গল, জাফলংসহ নানা দর্শনীয় স্থান।

দেশের কয়েকটি অপেক্ষাকৃত অপ্রচলিত দর্শনীয় স্থান সর্ম্পকে জেনে নিন কিভাবে যাবেন; ঢাকা থেকে সড়ক, রেল পথে যাওয়ার ব্যবস্থা রয়েছে। ঢাকার থেকে দূর্গাপুরের উদ্দেশ্যে কিভাবে রওনা হবেন। মহাখালী থেকে বিরিশিরি গাড়ী ভাড়া ৩শ ৫০ টাকা। কমলাপুর থেকে ছেড়ে যাওয়া বলাক ট্রেনের ভাড়া ৮০ টাকা, আপনাকে নামিয়ে দেবে জারিয়া স্টেশনে। এখান থেকে অটোসিএনজি কিংবা বাইকে । ময়মনসিংহ থেকে লোকাল ট্রেনের ভাড়া ৩০ টাকা।

ঢাকা থেকে বাস যোগে ময়মনসিংহ, ময়মনসিংহ ভায়া শ্যামগঞ্জ হয়ে দুর্গাপুর অথবা ঢাকা থেকে বাসযোগে নেত্রকোণার দুর্গাপুরে। এখানে আপনি দেখবেন নৃ-তাত্তি্কব কালচারাল একাডেমি, গারো খ্রীর্ষ্টাণ কমিউনিটির গীর্জা। বিরিশিরি ইউনিয়ণের পূর্বে গুজরীকোণার পাকা রাস্তা দিয়ে যেতেই হাতের বামে গারো পল্লীর পাশেই কমলা রাণী দিঘী । সেখান থেকে রিকশাযোগে উপজেলা পরিষদ যাওয়ার পথেই সুসং জমিদারদের বাড়ী ঘর, হাতিশালা। যেখানে গড়ে উঠেছে স্কুল কলেজসহ সরকারি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানসহ ব্যক্তি মালিকানায় ঘর-বাড়ি। বৃটিশ বিরোধী টংক শহীদ স্মৃতিসৌধ উপজেলা পরিষদ থেকে ৫০০ মিটার দক্ষিণে এমকেসিএম সরকারী হাই স্কুল সংলগ্ন টংক স্মৃতিসৌধ।

এরপরে মোটর বাইকে সোমেশ্বরী ব্রীজ পার হয়ে রিক্সা বা মোটর বাইক যোগে অর্ধ কাঁচা-পাকা রাস্তা দিয়ে কুল্লাগড়া ইউনিয়ণে মঞ্চাপাড়া সাদামাটি অঞ্চলে যাওয়ার পথেই রাশিমণি স্মৃতিসৌধ। স্মৃতিসৌধ থেকে সোজা উত্তরে বিজয়পুর রাণীখং মিশন। মিশনের দরিদ্র ছেলে মেয়েদের শিক্ষাদান এবং ধাতব্য চিকিৎসালয়। মিশন থেকে উত্তরে কমলাবাগান, বর্ডারগার্ড ক্যাম্প যেখান থেকে এক সময় সুসংগের রাজা মেঘালয়সহ ভারতের বিশাল ভূমির রাজস্ব আদায় করতেন বলে জনশ্রুতি রয়েছে। ক্যাম্প থেকে উত্তর পশ্চিমে রয়েছে স্থলবন্দর। এই স্থলবন্দরের পশ্চিমে মেঘালয় রাজ্য আপনি দেখতে পারবেন অফিস ব্যাংক মার্কেট বাংলাদেশের সীমানায় দাঁড়িয়েই ! সাদা মাটির পাহাড়ে যাওয়ার পথে ছোট-বড় টিলা রং-বেরংয়ের সাদামাটির খনি। খনির পুকুরে দেখবেন নীলজলের অপূর্ব রংয়ের খেলা।

মঞ্চাপাড়া শনিবার মিশন যেখানে রয়েছে টিলার ওপরে হেলিপ্যাড অপূর্ব প্রাকৃতিক সৌন্দর্য চোখ ধাঁধানো নির্মাণ ঘর-বাড়ি যেখানে বিভিন্ন সম্প্রদায়ের দরিদ্র ছেলে-মেয়েদের থাকা খাওয়াসহ বিদ্যালয়, রয়েছে ধাতব্য চিকিৎসালয়। সেখান থেকেই ফিরেই সোমেশ্বরীকে গুডবাই জানিয়ে চলে আসতে পারেন সাত শহীদের মাজার ঐতিহাসিক শহীদের মাজার কলমাকান্দা উপজেলাধীন লেঙ্গরা ইউনিয়নের ফুলবাড়ি নামক স্থানে গারো পাহাড়ের পাদদেশে অবস্থিত।

এখানে মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে পাক বাহিনীর সঙ্গে বন্ধুক যুদ্ধে (৭) জন শহীদ বীর মুক্তিযোদ্ধার সমাধি ও স্মৃতিসৌধ অবস্থিত। ১৯৭১ সালের ২৬ জুলাই মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে নাজিরপুর ইউনিয়ন ভূমি অফিস সংলগ্ন তিন রাস্তার মিলনস্থলে পাক বাহিনীর সঙ্গে সন্মুখ বন্ধুক যুদ্ধে ৭জন বীর মুক্তিযোদ্ধা শহীদ হন। পরবর্তীতে মুক্তিযোদ্ধাদের মরদেহ বর্ণিত ফুলবাড়িয়া নামক স্থানে সমাহিত করা হয়। উক্ত সমাধি ৭ শহীদের মাজার নামে পরিচিত। আপনি ইচ্ছে করলে কয়েকদিন থেকেও দুর্গাপুর পর্যটন নগরী গারো, হাজং বানাই, কোচ সম্প্রদায়ের সংস্কৃতি সবুজ কানন ১৯৭৫ সালে বঙ্গবন্ধু হত্যার প্রতিবাদে সোচ্চার গভীর অরন্য ছোট ছোট পাহাড় টিলা দেখলে স্তম্ভব হয়ে যাবেন । এখানে রয়েছে বিরিশিরি কালচারাল একাডেমি কয়েকশত বছরের পুরানো গীর্জা। থাকার জন্য রয়েছে অত্যাধুনি সোমেশ্বরী লাক্সারি হোটেল, ওয়াই এম সি রেষ্ট হাউজ, ওয়াই ডাব্লিউ সি এ বাংলো, রয়েছে সরকারি ডাকবালো, ছোট-বড় বেশ কিছু হোটেলসহ বিরিশিরি কালচারাল একাডেমির মনোমুগ্ধ বাংলো। আর এই একাডেমিতে প্রতিদিন সরকারী ছুটি ব্যতীত গারো হাজং কোচ বানাই সম্প্রদায়ের সংস্কৃতি চর্চার অপূর্ব নৃত্য গান চর্চা হয়ে থাকে। এখানে রয়েছে ক্ষুদ্র নৃ-তাত্বিক মিনি যাদুঘর।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত