প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

বাড়ছে সবজিসহ নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্যের দাম

মাজহারুল ইসলাম : আমদানি ও নতুন পেঁয়াজ বাজারে আসায় কমেছে পেঁয়াজের দাম। তবে সাধারণ ভোক্তা ও খুচরা ব্যবসায়ীরা বলছেন, দাম এখনও অনেক বেশি। বাজারে শীতের সবজির সরবরাহ বাড়লেও দাম কমেনি। অধিকাংশ সবজির দাম ৫০ টাকার বেশি। এর মধ্যে টাটকা সবজির দাম আরও বেশি। অপরদিকে, পেঁয়াজ ও লবণের দাম কমলেও চাল, আটা, ময়দা, রসুন, ডিম, ডাল ও মরিচসহ বেড়েছে কয়েকটি পণ্যের দাম। তবে ব্রয়লার মুরগির দাম আগের তুলনায় কমেছে। আর ভোজ্যতেল, চিনি, মাছ ও মাংস বিক্রি হচ্ছে আগের দামে। রাজধানীর কয়েকটি খুচরা ও পাইকারি বাজার ঘুরে এসব তথ্য জানা গেছে।

রাজধানীর প্রায় প্রতিটি বাজারে মিসর, তুরস্ক, চীন, ভিয়েতনাম, মিয়ানমার ও থাইল্যান্ড থেকে আমদানিকৃত পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে। সঙ্গে আছে দেশি নতুন পেঁয়াজ। টিসিবিও ‘ট্রাকসেল’ কার্যক্রম বাড়িয়েছে। এরই মধ্যে প্রতিদিন বিমানে আসছে ১১০ মে. টন এবং সমুদ্রপথে আনা হচ্ছে ৬০ হাজার মে. টন। সরকারের পাশাপাশি বেসরকারী পর্যায়েও বিপুল পরিমাণ পেঁয়াজ আনার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। ফলে পেঁয়াজের দাম শীঘ্রই আরও কমে আসবে। এসব কারণে দেশি পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ১৭০ থেকে ১৮০ টাকায়। আর আমদানি করা পেঁয়াজ ১৩০ থেকে ১৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া প্রতি কেজি আদা ১৬০ থেকে ১৮০, রসুন ১৬০ থেকে ১৮০ এবং আলু ২৪ থেকে ২৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। বাজারে গরুর মাংস সাড়ে ৫০০ এবং খাসির মাংস সাড়ে ৬০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ব্রয়লার মুরগি ১১৫ থেকে ১২৫ ও পাকিস্তানি কক ২০০ থেকে ২১০ টাকা বিক্রি হচ্ছে।

এদিকে, চাল, ডাল, আটা ও ডিমের দাম আবার বেড়েছে। প্রতিকেজি সরু চাল বিক্রি হচ্ছে ৪৮ থেকে ৬০ টাকা। মোটা চাল বিক্রি হচ্ছে ৩৩ থেকে ৩৫ টাকা। সাধারণ মানের নাজিরশাইল ও মিনিকেট ৫০ থেকে ৫৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। অর্থাৎ খুচরা বাজারে প্রতিকেজি চাল ২ থেকে ৫ টাকা বেড়েছে। রাজধানীর বিভিন্ন বাজোরের চাল ব্যবসায়ীরা বলছেন, খুচরা ব্যবসায়ীরা দাম বাড়ানোর জন্য দায়ী নয়। চালকল মালিক ও পাইকারি ব্যবসায়ীরা বাজার অস্থিতিশীল করে ফায়দা লুটছে। কোন কারণ ছাড়াই প্রতিবস্তা চালে ২০০ থেকে ২৫০ টাকা পর্যন্ত বাড়িয়েছে পাইকারি ব্যবসায়ীরা। সরবরাহ স্বাভাবিক হয়েছে কিন্তু দাম কমেনি। এছাড়া খুচরা বাজারে এখন প্রতিকেজি নেপালী ডাল ১১৫ থেকে ১২৫, আটা কেজির প্রতিপ্যাকেট ৩৬ থেকে ৩৮, ময়দা ৩৭ থেকে ৪০ ও ডিম ৩৬ থেকে ৩৮ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। প্রতিকেজি প্যাকেটজাত লবণ বিক্রি হচ্ছে ৩৫ টাকা। এরই মধ্যে দাম কমে প্রতিকেজি ব্রয়লার মুরগি ১১৫ থেকে ১২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

রাজধানীর বাজার ঘুরে দেখা যায়, ধনেপাতা কেজি ১৫০ থেকে ২০০ টাকা হলেও কমেছে মরিচ ও শিমের দাম। দুটোই ৫০ থেকে ৬০ টাকা কেজিদরে বিক্রি হচ্ছে, যা গত সপ্তাহেও ছিলো ৮০ থেকে ১২০ টাকা। বেগুন ৬০, করলা ১২০, আধাপাকা টমেটো ১২০, কাঁচা টমেটো ৮০, শিম ৬০ থেকে ১০০, ফুলকপি ৪০ থেকে ৬০ টাকা, নতুন আলু ১০০, শসা ১২০, মুলা ৫০, গাজর ১২০, শালগম ৮০, পেঁপে ৩০, লেবুর হালি ২০, সবুজ বরবটি ৬০ ও লাল বরবটি ৯০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। আর মিষ্টি কুমড়া ৪০, লাউ প্রতি পিস ৫০, জালি কুমড়া ৫০, বাঁধাকপি ৫০, চিচিঙা ৮০, ঢেঁড়স ৬০, কচুর লতি ৬০, ধুন্দল ৬০ ও কচুরমুখি প্রতিকেজি ১২০ টাকা বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া লাউ শাক আঁটি ৩০, ডাঁটা শাক ১৫, লাল শাক ১৫, মুলা, সরিষা ও পালং শাক ১৫, পুঁইশাক ৩০ ও কচুশাক ১০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। সবজি ব্যবসায়ীরা বলছেন, গত বছরের এ সময় সবজির দাম আরও কম ছিলো। বৃষ্টি নেই, শীত পড়তে শুরু করেছে। আশা করা যায়, অতি শীঘ্রই সবজির দাম কমবে।

অন্যদিকে, মাছের বাজার বেশ চড়া। মাছভেদে কেজিপ্রতি ১০ থেকে ১০০ টাকা পর্যন্ত বাড়তি দাম রাখা হচ্ছে। বাজারে প্রতি কেজি (এক কেজি সাইজ) ইলিশ বিক্রি হচ্ছে ৯০০ থেকে ১০০০ টাকা, ৮০০ থেকে ৯০০ গ্রাম ওজনের ইলিশ বিক্রি হচ্ছে ৮৫০ থেকে ৯০০ টাকা। এছাড়া কাচকি বিক্রি হচ্ছে ৩০০ থেকে ৩৫০ টাকা, মলা ৩৫০ থেকে ৪০০ টাকা, ছোট পুঁটি (তাজা) ৫০০ থেকে ৬০০ টাকা, শিং ৪০০ থেকে ৭০০ টাকা, পাবদা ৪০০ থেকে ৫০০, চিংড়ি (গলদা) ৪৫০ থেকে ৬৫০, বাগদা ৫০০ থেকে ৮০০, দেশি চিংড়ি ৫০০ থেকে ৬০০, রুই ২৬০ থেকে ৪০০, মৃগেল ২২০ থেকে ৩০০, পাঙাস ১৪০ থেকে ১৮০, তেলাপিয়া ১৫০ থেকে ১৮০, কৈ ১৮০ থেকে ২২০ এবং কাতল মাছ ২৮০ থেকে ৩০০ টাকা কেজিদরে বিক্রি হচ্ছে। সম্পাদনা : আসিফুজ্জামান পৃথিল

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত