প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

কর্মীরা চাইলেও জামায়াতকে ছাড়তে চান না তারেক রহমান

জনকণ্ঠ : নানামুখী চাপ থাকলেও জামায়াতের সঙ্গ ত্যাগ করতে পারছেনা বিএনপি। সে সব চাপ আমলেও নিচ্ছে না দলীয় হাইকমান্ড। দলের একটি বড় অংশও এখন জামায়াতের কাছ থেকে দূরে সরে আসার পক্ষে থাকলেও লন্ডন প্রবাসী দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান রাজি না থাকায় জামায়াত ছাড়তে পারছে না বাংলাদেশের অন্যতম এই রাজনৈতিক দলটি।

সূত্র জানায়, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পরাজয়ের পর দেশ-বিদেশের বিভিন্ন মহল থেকে বিএনপির ওপর জামায়াত ছাড়ার চাপ বাড়ে। দলের ভেতর থেকেও একটি বড় অংশ জামায়াত ছাড়ার জোর দাবি করে। এ ছাড়া বিএনপিপন্থী বুদ্ধিজীবীরাও জামায়াত ছেড়ে নতুন উদ্যমে রাজনীতি করার পরামর্শ দেয় বিএনপিকে। এ পরিস্থিতিতে দলের সিনিয়র নেতাদের মধ্যে অনুষ্ঠিত বেশ কয়েকটি বৈঠকেও জামায়াত ছাড়ার বিষয়টি গুরুত্ব পায়। কিন্তু লন্ডন প্রবাসী বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান জামায়াতের ভোটব্যাংক ও মাঠের রাজনীতির শক্তিকে বিবেচনায় নিয়ে জামায়াত ছাড়ার পক্ষে মত দিচ্ছেন না। আর এ কারণেই ঘরে-বাইরের চাপ উপেক্ষা করে এখনও জামায়াতকে সঙ্গী করেই রেখেছে বিএনপি।
জানা যায়, বিএনপি ক্ষমতায় থাকাকালে এক অনুষ্ঠান মঞ্চে তৎকালীন জামায়াত নেতা গোলাম আজমের পাশে বসেন তারেক রহমান। এ সময় তারা উভয়ে উভয়ের প্রশংসা করে বক্তব্য রাখেন। এরপর থেকে জামায়াতের সঙ্গে ধীরে ধীরে তারেক রহমানের সম্পর্ক বৃদ্ধি পায়। এ কারণেই একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দেশে অবস্থানকারী বিএনপি নেতারা জামায়াতকে অনেক কম আসনে ২০ দলীয় জোটের মনোনয়ন দিতে চাইলেও পরে তারেক রহমানের নির্দেশে তাদের ২৫টি আসন দেয়া হয়।

অন্য এক সূত্রে জানা যায়, ওয়ান-ইলেভেনের সময় খালেদা জিয়া ও তারেক রহমান যখন কারাগারে। তখন দলের একচ্ছত্র নিয়ন্ত্রণ নিয়ে ফেলে সংস্কারপন্থী বিএনপি নেতারা। ওইসময় খালেদা জিয়ার নেতৃত্বাধীন বিএনপির কার্যক্রম চালানোর মতো অবস্থা ছিল না। এ পরিস্থিতিতে জামায়াত এগিয়ে আসে বিএনপিকে সহযোগিতা করতে। তারা বিএনপির যে কোন কর্মসূচীতে আর্থিক সহযোগিতা ছাড়াও কর্মসূচী সফল করতে বিপুলসংখ্যক জামায়াত নেতাকর্মীর উপস্থিতি ঘটায়। এ কারণে, খালেদা জিয়া ও তারেক রহমান জামায়াতের প্রতি কৃতজ্ঞ থাকেন। আর এ জন্যই বিএনপির ওপর জামায়াত ছাড়ার যত চাপই আসে তারা তা অকপটে সহ্য করে যায়। মাঝে মধ্যে বিএনপি ও জামায়াতের মধ্যে কিছুটা মান-অভিমানের ঘটনা ঘটলেও তা দ্রুত আবার মিটে যায়।

রাজনৈতিকভাবে চরম বেকায়দায় থাকা জামায়াত একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর কৌশলে ঘুরে দাড়ানোর চেষ্টা করে। নির্বাচন কমিশনে নিবন্ধন হারানো দলটি নতুন করে নিবন্ধন পাওয়ারও জন্য বিএনপি ছাড়ার ধোয়া তুলে বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়। এরই অংশ হিসেবে বিভিন্ন মাধ্যমে প্রচার চালায় বিএনপির সঙ্গ ত্যাগ করছে দীর্ঘদিনের জোটসঙ্গী জামায়াত। তবে বাস্তবতা ভিন্ন। কোন অবস্থাতেই বিএনপি ছাড়বে না জামায়াত। আবার বিএনপিও জামায়াতকে হারাতে চাইবে না। তাই প্রকাশ্যে বিএনপির সঙ্গে তেমন মেলামেশা না করলেও গোপনে ওই দলের সঙ্গে সার্বিক যোগাযোগ রক্ষা করেই চলছে জামায়াত।

পর্যবেক্ষকদের মতে জামায়াতের বর্তমান পরিস্থিতিতে বিএনপির সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রাখা ছাড়া কোন উপায় নেই। অভিজ্ঞ মহল মনে করছে দীর্ঘদিনের জোটসঙ্গী বিএনপিকে ছেড়ে দেয়ার কথা শুনলে আওয়ামী লীগ ও বর্তমান সরকার খুশি হবে এমন একটি চিন্তা থেকে জামায়াত মাঝেমধ্যে তা করছে। কিন্তু বাস্তবে জামায়াত ও বিএনপি কেউ কাউকে ছাড়বে না। কারণ এ দুই দল পরস্পর থেকে বিচ্ছিন্ন হলে রাজনৈতিকভাবে সুবিধা পাবে আওয়ামী লীগ।

দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে বিএনপি যখন নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচনের দাবিতে জামায়াতকে সঙ্গে নিয়ে রাজপথ উত্তপ্ত করে তোলে তখন বিদেশী কূটনীতিকসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা বিএনপিকে জামায়াত ছাড়ার আহবান জানায়। কিন্তু বিএনপি এ আহবানে সাড়া দেয়নি। বরং জামায়াতকে সঙ্গে নিয়েই দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচন বর্জন করে বিএনপি।

পর্যবেক্ষক মহল মনে করে মাঠের এবং ভোটের রাজনীতিতে জামায়াত ছাড়া কার্যত অচল বিএনপি। আবার বিএনপি ছাড়া জামায়াতও অচল। তাই এ দুই দলের মধ্যে দীর্ঘদিনের গাটছাড়া সম্পর্ক। জোটসঙ্গী জামায়াত ছাড়া বিএনপির কোন কর্মসূচীই সফল হয় না তা বিগত ১০ বছরে প্রমাণিত হয়েছে।
অনুলিখন: ইয়াসিন আরাফাত

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত