প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

ব্যবসা-বাণিজ্য পরিচালনায় বাংলাদেশে নিজস্ব কার্যালয় স্থাপন করতে চায় তুরস্ক, জানালেন অর্থমন্ত্রী

সাইদ রিপন : গত বৃহস্পতিবার দুপুরে তুরস্কের আঙ্কারায় দেশটির ভাইস প্রেসিডেন্ট ফুয়াত ওকতের সাথে সৌজন্য সাক্ষাৎ শেষে অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল এ কথা জানান। এসময় দুদেশের মধ্যে ব্যবসা বাণিজ্য সম্প্রসারণে দ্বিপাক্ষিক আলোচনা হয়।

প্রসঙ্গত, তুরস্কের সাবেক প্রধানমন্ত্রী এবং বর্তমান প্রেসিডেন্ট ২০১০ সালে বাংলাদেশ সফরে এসেছিলেন। তখন তুরস্কে বাংলাদেশের রফতানী বানিজ্য ছিল ৪০০ মিলিয়ন। এ বিষয়ে তিনি বলেছিলেন, এটিকে ৩ বিলিয়নে উন্নীত করা হবে। পরবর্তীতে শুল্ক বাধাসহ বিভিন্ন কারণে আর বাংলাদেশের রপ্তানী তেমন বাড়েনি, যা বর্তমানে প্রায় ১ বিলিয়ন ডলার। এটাকে কিভাবে ৩ বিলিয়ন ডলার করা যায় সে বিষয়ের আলোচনায় তুরস্কের ভাইস প্রেসিডেন্ট বলেন, তুরস্ক ও বাংলাদেশের কূটনেতিক সম্পর্ক অত্যন্ত ভাল। দ্বিপাক্ষিক ব্যবসা বাণিজ্যের ক্ষেত্রে আমরা একে অন্যের প্রতিযোগী না হয়ে ব্যবসা করতে হবে।যেসব দ্রব্য উৎপাদনে তুরস্ক নিজেই ভাল করছে সে সব দ্রব্য নয় বরং অন্য দ্রব্যসমূহ এবং যেগুলোর প্রতি তুরস্কের চাহিদা রয়েছে সেই দ্রব্যেগুলো রপ্তানীতে বাংলাদেশ সুযোগ নিয়ে ভাল করতে পারে।

ভাইস প্রেসিডেন্ট বলেন, বাংলাদেশ কৃষি খাত, এগ্রো প্রসেসিং, পাট ও পাটজাত দ্রব্য, ফ্রুট প্রসেসিং বিশেষ করে আম, লিচু, কাঁঠাল, আনারস প্রসেসিং এর মাধ্যমে বাণিজ্য বাড়াতে পারে। সেক্ষেত্রে তুরস্কও সহায়তা প্রদান করতে পারে। পাশাপাশি বাংলাদেশের গরু উৎপাদনে অগ্রগতির বিষয়টি উঠে এসেছে। এক্ষেত্রেও তিনি আগ্রহ প্রকাশ করে বলেন, যেহেতু বাংলাদেশ গরু উৎপাদনে সফলতা অর্জন করেছে এবং গুণগত দিক থেকে যেকোন দেশের তুলনায় উৎকৃষ্ট মানের মাংস উৎপাদন করছে সেহেতু এগুলোও রপ্তানি বাণিজ্যের আওতায় আনা সম্ভব।এক্ষেত্রে হালাল সার্টিফিকেশনের যে প্রয়োজনীয়তা সেক্ষেত্রে তুরস্ক বাংলাদেশকে সহায়তা প্রদান করতে পারে।অর্থমন্ত্রী বাংলাদেশে বিনিয়োগের সুবিধাগুলো তুলে ধরলে তুরস্কের ভাইস প্রেসিডেন্ট বাংলাদেশের চামড়াজাত পণ্যের প্রতি আগ্রহ প্রকাশ করেন।

অর্থমন্ত্রী বলেন, পৃথিববীর অন্যতম প্রধান জনবসতি ঘনত্বপূর্ণ একটি ছোট দেশ বাংলাদেশ। এখানে আশ্রয় নেওয়া মিয়ানমার থেকে বিতাড়িত রোহিঙ্গারা বাংলাদেশের জন্য বড় হুমকি যা বাংলাদেশর সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতিও অর্থনৈতিক অগ্রগতিকে ব্যাহত করছে। তাই বাংলাদেশে অবস্থানরত রোহিঙ্গাদের নিজ দেশ মিয়ানমারে প্রত্যাবসনের কোনো বিকল্প নেই। এ বিষয়ে তুরস্কর আরও বেশি আন্তর্জাতিক চাপ সৃষ্টি করবে বলে আশ্বস্ত করেন। মুস্তফা কামাল বলেন, সমস্যাটি সমাধানের জন্য আন্তর্জাতিক চাপ সৃষ্টি করার পাশাপশি বিতাড়িত রোহিঙ্গা মুসলিম জনগোষ্ঠীদের মুসলিম দেশগুলো ভাগাভাগি করে আশ্রয় দিলে এ সমস্যা অনেকটাই সমাধান হতে পারে। ভাইস প্রেসিডেন্ট এ বিষয়টি নিয়ে বিশেষভাবে প্রেসিডেন্টের সাথে আলোচনা করবেন বলে জানান।

সম্পাদনা: সারোয়ার জাহান

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত