প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

২ হাজার ভবনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা, রাজউকের অভিযান শুরু

সুজিৎ নন্দী : রাজধানীর নিয়ম বর্হিভূত ভবনের বিরুদ্ধে অভিযানে নেমেছে রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক)। প্রায় ১৮শ ভবন মালিককে ইতোমধ্যে চার ধাপে চূড়ান্ত চিঠি দিয়েছে। এর মধ্যে কিছু ভবনকে জরিমানা নিয়ে ছাড়, আংশিক ভেঙ্গে ফেলা এবং যে ভবনগুলোর কোন অনুমোদন নেই সেগুলোর বিরুদ্ধে রাজউক চূড়ান্ত ব্যবস্থা নিচ্ছে।

রাজউকের চেয়ারম্যান ড. সুলতান আহমেদ বলেন, এটি রাজউকের চলমান প্রক্রিয়া।যারা নিয়ম বর্হিভূত ভাবে ভবন নির্মাণ করেছে তাদের বর্ধিতাংশ ভেঙ্গে ফেলা উচিৎ। অন্যথায় রাজউক ব্যবস্থা নেবে। এটাকে ‘বিশেষ অভিযান’ বলা যেতে পরে। তবে যারা নকশা বর্হিভূত ভবন নির্মাণ করেছে সংশোধন করার জন্য তাদের আমরা সময় দিয়েছি।

রাজউকের অথরাইজ বিভাগ সূত্র জানায়, ইতোমধ্যে ভবনের মূল মালিক এবং নির্মাণকারী উদ্যোক্তা বা ডেভেলপার কোম্পানির বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করেছে। পাশাপাশি রাজউক অনুমোদিত নকশা আছে কিনা তা থাকলে নকশা অনুমোদন ও ভবন নির্মাণের সাল, নকশা প্রণয়নকারী স্থপতি এবং প্রকৌশলীর নাম ও রেজিস্ট্রেশন নম্বরের বিষয়ে তথ্য জোগাড় করেছে। ভবন নকশা অনুযায়ী নির্মিত হয়েছে কিনা, নকশা অনুযায়ী কার পার্কিং ও সেট ব্যাক সঠিক আছে কিনা এবং ব্যত্যয় হলে কী পরিমাণ ব্যত্যয় হয়েছে সে সব তথ্য সংগ্রহ করেছে।

প্রায় তিন হাজার ভবনের অনুমোদিত নকশার সঙ্গে বাস্তবতার মিল পাওয়া যায়নি।বিশেষ করে কার পার্কিং এ অনিয়ম ধরা পড়েছে। পরিদর্শন করা ভবনগুলোতে এসব মানা হয়নি। বিশেষ করে বেজমেন্ট স্টোররুম বা গোডাউন হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে। এছাড়া বেজমেন্টে জেনারেটর, সুইচগিয়ার রুম, সাবস্টেশন, বয়লার রুম কোনোভাবেই রাখা যাবে না।

জানা যায়, বনানী এফ আর টাওয়ারে অগ্নিকান্ডের পরে রাজউক বিশেষ অভিযানে মাঠে নামে। সে সময় রাজউকের ২৪টি টিম রাজধানীর প্রায় ১ হাজার ৮৫০ ভবনের তথ্য সংগ্রহ করে। এর মধ্যে কেবল বিকল্প সিঁড়িই নয়, ১৫ শতাংশ বহুতল ভবন ঊর্ধ্বধুখী সম্প্রসারণ করার ক্ষেত্রেও নিয়ম মানা হয়নি। আর বহুতল ভবন নির্মাণে ৩৭ শতাংশ ভবনের যে পরিমাণ উন্মুক্ত স্থান রাখার কথা তা রাখেনি। অভিযান চলাকালে ৪৭৪টি বহুতল ভবনের মালিক রাজউককে নকশা দেখাতে পারেনি। এছাড়া সরকারের অন্য সংস্থাার ৪৪টি বহুতল ভবনেরও নকশা পায়নি রাজউক। পাশাপাশি ৭০ শতাংশ বহুতল ভবনে অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা নেই।৩৩ শতাংশ ভবনে অগ্নিকাণ্ডের সময় দ্রুত বের হওয়ার জন্য বিকল্প সিঁড়ি নেই। বাকি ৬৭ শতাংশ ভবনে এই সিঁড়ি থাকলেও ব্যবহার উপযোগী মাত্র ৪৩ শতাংশ। আর বাকি ৩৪ শতাংশ ভবনের সিঁড়ি ব্যবহার অনুপযোগী। রাজউকের অথরাইজ বিভাগ সূত্রে এতথ্য জানা যায়।

রাজউকের উদ্ধতন কর্মকর্তা জানান, নগরীর এই অবস্থার জন্য দায় রাজউককেই নিতে হবে। কারণ, ভবন নির্মাণের সময় রাজউকের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা যদি তাদের দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন করতেন, তাহলে কোনও ভবনই নকশা ব্যত্যয় করে নির্মাণের সুযোগ থাকতো না। ইতোমধ্যে বনানীর এফআর টাওয়ারে অগ্নিকাণ্ডের পরে মামলায় রাজউকের সাবেক দুইজন চেয়ারম্যানসহ উর্দ্ধতন কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত