প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

এখন থেকে তদন্ত করবে অ্যান্টি টেররিজম ইউনিট ও বিধিমালার অনুমোদন দিয়ে প্রজ্ঞাপন

সুজন কৈরী : জঙ্গি ও সন্ত্রাসবাদ দমনসহ জননিরাপত্তা নিশ্চিতে গঠিত পুলিশের বিষেশায়িত শাখা অ্যান্টি টেররিজম ইউনিট (এটিইউ) পরিচালনায় বিধিমালার অনুমোদন দিয়েছে সরকার। ফলে পুলিশের এই বিশেষায়িত ইউনিটের জঙ্গি তৎপরতা ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে অভিযান চালানোসহ অনুসন্ধান এবং এ সংক্রান্ত মামলার তদন্ত পরিচালনা করতে পারবে।

গত মঙ্গলবার পুলিশ সদর দফতর থেকে ‘অ্যান্টি টেররিজম ইউনিট বিধিমালা-২০১৯’ প্রজ্ঞাপন আকারে প্রকাশ করা হয়েছে।

এতদিন জঙ্গিবাদ ও সন্ত্রাসবাদী কার্যক্রমের অভিযোগে কাউকে ধরলেও মামলার তদন্ত করতে পারত না এটিইউ। আসামিকে থানায় হস্তান্তর করতো ইউনিটটি। পরে থানা পুলিশ বা অন্য সংস্থা মামলার তদন্ত করতো।

বিধিমালায় এটিইউয়ের কার্যাবলিতে বলা হয়েছে, কাউন্টার রেডিকালাইজেশন এবং ডি-রেডিকালাইজেশনসহ অন্যান্য কার্যক্রম হাতে নেয়ার মাধ্যমে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড প্রতিরোধে কার্যকর ভূমিকা রাখবে এটিইউ। গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ, বিদ্যমান আইন ও বিধি-বিধানের অধীনে ক্ষমতাপ্রাপ্ত কর্তৃপক্ষ বা সংস্থার সহায়তায় উগ্রবাদী-সন্ত্রাসীদের ওপর প্রযুক্তিগত গোয়েন্দা নজরদারি করে অবস্থান শনাক্ত, তাদের কর্মকাণ্ড প্রতিরোধসহ আটকের জন্য কার্যকর ব্যবস্থা নিতে পারবে ইউনিটটি। বিধিমালায় আরো বলা হয়, সন্ত্রাসী হুমকি মোকাবিলা এবং এর সম্ভাব্য প্রতিকারে আইজিপির নির্দেশনা অনুযায়ী জাতীয় ও আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর সঙ্গে তথ্য বিনিময় করবে এটিইউ। উগ্রবাদ ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের কারণ ও প্রতিকারসংক্রান্ত গবেষণা কার্যক্রম পরিচালনা, নিয়মিত তথ্য সংগ্রহ, বিশ্লেষণ ও বিন্যাসের মাধ্যমে ঝুঁকি পর্যালোচনা করে সরকারের কাছে বার্ষিক প্রতিবেদন দিতে হবে।

বিধিমালা অনুযায়ী, থানার ওসির মতো গ্রেপ্তার, আটক, তল্লাশি ও জব্দসহ অন্যান্য ক্ষমতা প্রয়োগ করতে পারবেন ইউনিটের কর্মকর্তারা। ইউনিটের অধীনে স্পেশাল ওয়েপন অ্যান্ড ট্যাকটিস (সোয়াট) টিম, ক্রাইম সিন ও বোম ব্লাস্ট ইনভেস্টিগেশন টিম, ক্রাইসিস ইমারজেন্সি রেসপন্স টিম, এক্সপ্লোসিভ ডিসপোজাল টিম এবং কে-নাইন স্কোয়াডসহ প্রয়োজনীয় অন্যান্য বিশেষায়িত টিম বা স্কোয়াড গঠন করতে পারবেন ইউনিটের প্রধান। উগ্রবাদী-সন্ত্রাসীদের অবস্থান শনাক্তসহ তাদের কর্মকাণ্ড প্রতিহত করতে এবং এ সংক্রান্ত মামলা তদন্তে প্রয়োজনে বিশেষজ্ঞ, মনোবিজ্ঞানী, চিকিৎসক, গবেষক ও ধর্মীয় চিন্তাবিদের সহায়তা নেয়া যাবে। ইউনিটের জন্য স্থাপন করা হবে গবেষণা, প্রশিক্ষণ সেল ও ডাটাবেজ সেন্টার। একটি লিগ্যাল সেলও গঠন করা হবে।

২০১৭ সালের ২০ সেপ্টেম্বর এটিইউ অনুমোদন দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে সরকার। এটিইউয়ের কার্যক্রম এখন রাজধানীর বারিধারার বি-ব্লকের ৩৫ নম্বর বাড়ির অস্থায়ী কার্যালয়ে চলছে।

এটিইউর পুলিশ সুপার (লিগ্যাল এন্ড মিডিয়া) মোহাম্মদ মাহিদুজ্জামান বলেন, স্থায়ীভাবে ইউনিটের কার্যালয় স্থাপনের জন্য পূর্বাচলের পাশে জমি দেখা হয়েছে। একই জায়গায় পুলিশ লাইনও স্থাপন করা হবে। ইউনিটের জন্য যানবাহন ছাড়াও প্রযুক্তিগত যন্ত্রপাতি কেনারও প্রস্তাব রয়েছে। তিনি বলেন, কিছু কিছু আভিযানিক কার্যক্রম চালানো হলেও এত দিন অনেক সীমাবদ্ধতা ছিল। এখন আভিযানিক কার্যক্রমসহ ইউনিটের বিভিন্ন পর্যায়ে পুরোদমে কাজ শুরুর জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়া হবে। তিনি জানান, এখন পর্যন্ত সব মিলে পাঁচ শতাধিক জনবল নিয়োগ হয়েছে। আরো নিয়োগের প্রক্রিয়া চলছে। এটিইউ কর্মকর্তা মাহিদুজ্জামান আরো জানান, ইউনিটের গঠন ও এর কার্যক্রম পরিচালনায় ৫৮১টি পদ সৃষ্টি করা হয়। এর মধ্যে স্থায়ীভাবে ৩১টি ক্যাডার পদ ও ৫৫০টি অস্থায়ীভাবে সৃষ্টি করা হয়। যানবাহন যুক্ত করা হয় ৪১টি। ইউনিটের প্রধান হিসেবে একজন অ্যাডিশনাল আইজি, একজন ডিআইজি, দুইজন অতিরিক্ত ডিআইজি, পাঁচজন এসপি, ১০ জন অ্যাডিশনাল এসপির পদায়ন হয়েছে। এএসপি পদে ১২ জনের মধ্যে কয়েকজনের পদায়ন হয়েছে। ৭৫ জন ইন্সপেক্টরের পদায়ন হয়েছে। ১২৫ জন সাব ইন্সপেক্টরের মধ্যে এখনো কিছু বাকি আছে। কনস্টেবলসহ অন্যান্য পদবিতেও পুরো নিয়োগ হয়নি।

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত