প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

ভারতে ৫টি রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থা বিক্রির সিদ্ধান্ত, ৩টি থেকে আয় হবে ৬৬ হাজার ৩৮৮কোটি রুপি

রাশিদ রিয়াজ : বড় সিদ্ধান্ত নিল ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার। বিক্রি হয়ে যাচ্ছে ৫ টি রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থা। বর্তমানে বিপিসিএল-এ সরকারের ৫৩.২৯ শতাংশ অংশীদারিত্ব আছে। নিজেদের সমস্ত অংশীদারিত্ব বিক্রি করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে মোদী সরকার। তবে বেসরকারিকরণের আগে নুমালিগড় তৈল শোধনাগারকে বিপিসিএল থেকে আলাদা করা হবে এবং সেটি অন্য কোনও রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থার হাতে তুলে দেওয়া হবে। মঙ্গলবার রাতে সাংবাদিক বৈঠকে এমনই জানিয়েছেন ভারতের অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারমন। ভারত পেট্রোলিয়াম ছাড়াও শিপিং কৰ্পোরেশন এবং কন্টেনার কর্পোরেশনকে বেসরকারি হাতে তুলে দেওয়া হবে। পাশাপাশি টিএইচডিসি ইন্ডিয়া এবং এনইইপিসিও-তে নিজেদের অংশীদারিত্ব বিক্রি করবে কেন্দ্র।

একবিংশ শতকের শুরুতে অটল বিহারী বাজপেয়ী জামানা থেকে রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থার বেসরকারিকরণের পথ প্রশস্ত হয়। স্বাধীন ভারতের ইতিহাসে এটি সবথেকে বড় বিলগ্নিকরণের ঘটনা। সংসদীয় আইন অনুসারে বিপিসিএল গঠিত হয়েছিল। ফলে এই সংস্থার শেয়ার বিক্রি করতে গেলে লোকসভা এবং রাজ্যসভার অনুমতি নিতে হবে সরকারকে। এছাড়া কনকর-এ ৫৪.৮ শতাংশ এবং শিপিং কর্পোরেশনে ৬৩.৭৫ শতাংশ অংশীদারিত্ব ভারত সরকারের। কেন্দ্র নিজের অংশীদারিত্ব বিক্রি করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

অন্যদিকে, টিএইচডিসি কেন্দ্র এবং উত্তরপ্রদেশ সরকারের যৌথ অংশীদরিত্ব সংস্থা। এখানে কেন্দ্রের ৭৫ শতাংশ এবং উত্তরপ্রদেশ সরকারের ২৫ শতাংশ অংশীদারিত্ব আছে। নর্থ ইস্টার্ন ইলেকট্রিক পাওয়ার কর্পোরেশন এনইইপিসিও সরকারের মালিকানাধীন। এই দুই সংস্থাকে আর একটি রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থা এনটিপিসি-র বিক্রি করতে দিতে চলেছে সরকার।

ভারত পেট্রোলিয়ামের অংশীদারিত্ব বিক্রির ফলে কেন্দ্র ঘরে ৫৪,০৫৫ কোটি ঢুকতে পারে। আর কনকর-এর ক্ষেত্রে তা দাঁড়াতে পারে ১১,০৫১ কোটি। এদিকে, শিপিং কর্পোরেশন থেকে ১,২৮২ কোটি সরকারের ঘরে ঢুকতে পারে। অর্থাৎ, বিপিসিএল এবং শিপিং কর্পোরেশন এবং কনকর-এর শেয়ার বিক্রির মাধ্যমে মোট ৬৬,৩৮৮ কোটি টাকা সংগ্রহ করতে পারে কেন্দ্র।

চলতি বছরে আর্থিক ঘাটতির হার জিডিপির ৩.৩ শতাংশে বেঁধে রাখার টার্গেট নিয়েছে ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার। কিন্তু তীব্র মন্দার জেরে এমনিতেই প্রত্যাশা মতো কর আদায় হয়নি। এর মধ্যে কর্পোরেট কর হ্রাস করেছে কেন্দ্র। যার ফলশ্রুতিতে কেন্দ্র লক্ষ্য ভ্রষ্ট হতে পারে বলে আশঙ্কা। আর্থিক ঘাটতি সামলাতে বিলগ্নিকরণে জোর দিয়েছে নরেন্দ্র মোদী সরকার। রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থা এয়ার ইন্ডিয়া বিক্রির বিষয়টি আগেই চূড়ান্ত হয়ে গিয়েছে। এই তালিকায় আরও ৫টি নাম যুক্ত হতে চলেছে।

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত