প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

নেত্রী চাইলে সম্মেলনের জন্য প্রস্তুত ছাত্রলীগ

ডেস্ক রিপোর্ট  : নানা অভিযোগ ও বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের কারণে ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি-সম্পাদক রেজওয়ানুল হক চৌধুরি শোভন ও গোলাম রাব্বানীকে নিজ পদ থেকে অব্যাহতি দিয়েছেন আওয়ামী লীগের সভানেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। একই সাথে আল নাহিয়ান খান জয় ও লেখন ভট্টাচার্যকে সংগঠনের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি-সম্পাদকের দায়িত্ব দিয়েছেন তিনি।

এদিকে ছাত্রলীগের দায়িত্ব পাওয়ার পর থেকেই কেন্দ্র থেকে তৃণমূল পর্যন্ত প্রতিটি ইউনিটিতে বিতর্কমুক্ত নেতৃত্ব উপহার দিতে কাজ করছেন জয়-লেখক। তবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা চাইলে যেকোনো মুহূর্তেই ছাত্রলীগের সম্মেলন করতে প্রস্তুত তারা। গতকাল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে মধুর ক্যান্টিনে দৈনিক আমার সংবাদের নিজস্ব প্রতিবেদক রফিকুল ইসলামের সাথে আলাপকালে এসব কথা বলেন তারা-

দায়িত্ব পেয়ে কেউ বসে নেই —জয়

বাংলাদেশ ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি আল নাহিয়ান খান জয় বলেছেন, ছাত্রলীগকে সুসংগঠিত করতে আওয়ামী লীগের সভানেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আমাদের সবাইকে যে দায়িত্ব দিয়েছেন তা পালনে আমরা কেউ বসে নেই। সবাই সঠিকভাবে নিজ নিজ দায়িত্ব পালন করছেন।

এর মধ্য কোনো ভুল নেই। গতকাল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যান্টিনে দৈনিক আমার সংবাদের সাথে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, আপনারা দেখেছেন অনেক স্থানে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা বেশকিছু ঘটনা ঘটিয়েছে। আমরা কিন্তু তাদের ক্ষমা করিনি। সাথে সাথে অভিযুক্ত নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে অ্যাকশন নিয়েছি। বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের সাথে যুক্ত থাকার অপরাধে অনেক দায়িত্বশীল নেতাকে সংগঠন থেকে বহিষ্কার ও সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করেছি।

ছাত্রলীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি বলেন, ছাত্রলীগের দায়িত্বশীল নেতা থেকে শুরু করে সাধারণ কর্মীও যদি কোনো বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের সাথে জরিয়ে পড়েন। তার দায়ভার ছাত্রলীগকে নিতে হয়। তাই যাদের বিরুদ্ধে কোনো ধরনের অনিয়ম, দুর্নীতিসহ বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের অভিযোগ উঠবে। তাদের কোনোভাবেই ছাড় দেয়া হবে না। সেই লক্ষ্যে আমরা কাজ করে যাচ্ছি।

নেত্রী চাইলে যেকোনো মুহূর্তে ছাত্রলীগের সম্মেলন করতে পারে উল্লেখ করে জয় বলেন, আওয়ামী লীগের সভানেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আমাকে যে দায়িত্ব দিয়েছেন তা আমি নিষ্ঠার সাথে পালন করে যাচ্ছি। তবে নেত্রী চাইলে যেকোনো মুহূর্তে এই সংগঠনের সম্মেলন করতে পারেন। সেজন্য ছাত্রলীগের সকল নেতাকর্মীই প্রস্তুত।

তিনি আরও বলেন, জেলা-উপজেলাসহ আমাদের অনেক ইউনিট আছে। যেখানে দীর্ঘদিন ছাত্রলীগের সম্মেলন হয়নি। আমরা সেসব জেলা-উপজেলায় নতুন কমিটি গঠন করতে স্থানীয় নেতাদের দিকনির্দেশনা দিয়েছি। ছাত্রলীগের নেতাদের পাশাপাশি আওয়ামী লীগের স্থানীয় নেতাকর্মীরা আমাদের সব ধরনে সহযোগিতা করছেন।

 

পদ-বাণিজ্যের অভিযোগ পেলেই ব্যবস্থা —লেখক

বাংলাদেশ ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক লেখক ভট্টাচার্য বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আমাদের দায়িত্ব দেয়ার পর থেকেই বিভিন্ন ইউনিটিতে ছাত্রলীগের ত্যাগী, পরিশ্রমী, মেধাবী, যোগ্য ও সঠিক নেতৃত্বকে গুরুত্ব দেয়া হয়েছে। কিন্তু এখন পর্যন্ত ছাত্রলীগের কমিটি গঠনে পদ-বাণিজ্যের সুনির্দিষ্ট কোনো অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলেই তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। গতকাল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে মধুর ক্যান্টিনে দৈনিক আমার সংবাদের সাথে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, আমরা যারাই ছাত্রলীগের রাজনীতি করি। তারা সবাই বঙ্গবন্ধু আদর্শ বুকে ধারণ করি। সেই বঙ্গবন্ধুর আদর্শ নিয়ে ছাত্রলীগের কোনো নেতাকর্মী বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের সাথে জড়িত হতে পারে না।

তিনি আরও বলেন, বঙ্গবন্ধু একটি নির্দিষ্ট উদ্দেশ্য নিয়ে ছাত্রলীগ গঠন করেছিলেন। তার সেই উদ্দেশ্যের ধারাবাহিকতা ধরে রাখতেই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে ছাত্রলীগ এগিয়ে যাচ্ছে। কিন্তু ছাত্রলীগের কিছু নেতা দায়িত্বশীল পদে থেকে কেন্দ্রীয় নির্দেশনার বাইরে গিয়ে বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের সাথে জড়িয়ে পড়ছেন। এবং সংগঠনকে বিভিন্ন সময় বিতর্কিত ও প্রশ্নবিদ্ধ করছেন। এটা অত্যন্ত দুঃখজনক।

লেখক বলেন, নেত্রী দায়িত্ব দেয়ার পর অঙ্গীকার করে ছিলাম ছাত্রলীগে কোনো ধরনের বিতর্কিত নেতাদের স্থান দেয়া হবে না। সেই ধারাবাহিকতায় এ সময়ের মধ্যে যারাই বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের সাথে যুক্ত হয়েছেন তাদের বিরুদ্ধে আমরা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছি। আবরার হত্যার কথা উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, আবরার হত্যার পর ছাত্রলীগের কোনো নেতাকর্মীকে ছাড় দেয়া হয়নি। জড়িতদের সর্বোচ্চ শাস্তির ব্যবস্থা করা হয়েছে। কারণ বঙ্গবন্ধুর আদর্শের ছাত্রলীগের অন্যায়কারী ও বিতর্কিত নেতাদের স্থান হবে না।

ছাত্রলীগের দায়িত্বশীল নেতাদের মধ্য কতজন জামায়াত-বিএনপি পরিবারের সন্তান আছে? ছাত্রলীগ তা চিহ্নিত করছে কি না— এমন প্রশ্নের জবাবে ছাত্রলীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক বলেন, ছাত্রলীগের ব্যানার লাগিয়ে কেউ যেন কোনো অপকর্মের সাথে যুক্ত হতে না পারে। সেই বিষয়ে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছি। এ ধরনের কেউ সংগঠনে থাকলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। তিনি আরও বলেন, ছাত্রলীগকে কেউ যেন ব্যক্তিগত সম্পাদে পরিণত করতে না পারে। সেদিকে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে।

সম্প্রতি ইডেন মহিলা কলেজ, সরকারি শহীদ সোহরাওয়ার্দী কলেজ, কবি নজরুল সরকারি কলেজ, জগন্নাথ কলেজ শাখা ছাত্রলীগের সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। ওই ইউনিটিগুলোতে সম্মেলন অনুষ্ঠিত হলে এখনো কমিটি ঘোষণা করা হয়নি।

ঠিক কত দিনের মধ্য এ কমিটি ঘোষণা করা হতে পারে— এমন প্রশ্নের জবাবে ছাত্রলীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক লেখক ভট্টাচার্য বলেন, যেহেতু ভোটের মাধ্যমে কমিটিগুলোর সম্মেলন হয়নি। তাই সঠিক যাচাই-বাছাইয়ের মাধ্যমে নেতৃত্ব নির্বাচন করা হবে। তিনি আরও বলেন, কমিটির চূড়ান্ত করার আগে প্রার্থীদের বিভিন্ন বিষয়ে খোঁজখবর নেয়া হচ্ছে। কিছু দিনের মধ্যই কমিটি ঘোষণা করা হবে।

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত