শিরোনাম
◈ দক্ষিণ আফ্রিকায় সেতু থেকে তীর্থ যাত্রীবাহী বাস খাদে, নিহত ৪৫ ◈ ভারত থেকে ১৬৫০ টন পেঁয়াজ আসছে আজ! ◈ বিশ্ববাজারে সোনার সর্বোচ্চ দামের নতুন রেকর্ড ◈ ২২ এপ্রিল ঢাকায় আসছেন কাতারের আমির, ১০ চুক্তির সম্ভাবনা ◈ চেক প্রতারণার মামলায় ইভ্যালির রাসেল-শামিমার বিচার শুরু ◈ ইর্ন্টান চিকিৎসকদের দাবি নিয়ে প্রধানমন্ত্রী’র সঙ্গে কথা বলেছি: স্বাস্থ্যমন্ত্রী ◈ প্রফেসর ইউনূসকে প্রদত্ত "ট্রি অব পিস" প্রধানমন্ত্রীকে প্রদত্ত একই ভাস্করের একই ভাস্কর্য: ইউনূস সেন্টার ◈ নির্বাচনী বন্ড কেবল ভারত নয়, বিশ্বের সবচেয়ে বড় কেলেঙ্কারি: অর্থমন্ত্রীর স্বামী ◈ কুড়িগ্রামে অর্থনৈতিক অঞ্চলের স্থান পরিদর্শন করে দেশে ফিরলেন ভুটানের রাজা ◈ জনগণকে সংগঠিত করে চূড়ান্তভাবে বিজয় অর্জন করতে হবে: মির্জা ফখরুল

প্রকাশিত : ২১ নভেম্বর, ২০১৯, ০১:৪৯ রাত
আপডেট : ২১ নভেম্বর, ২০১৯, ০১:৪৯ রাত

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

সময়মতো স্কুলে না আসায় প্রধান শিক্ষককে খুঁটির সঙ্গে বাঁধলেন এলাকাবাসী

অনলাইন ডেস্ক : শিক্ষকদের বলা হয় জাতি গড়ার কারিগর। অনেক নিষ্ঠাবান শিক্ষকের পাশাপাশি ফাঁকিবাজ শিক্ষকও রয়েছেন। আর এমন এক ফাঁকিবাজ শিক্ষককে ধরে খুঁটির সঙ্গে বেঁধে রাখলেন এলাকাবাসী।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম আনন্দবাজারে খবরের বলা হয়, গত সোমবার এমন ঘটনা ঘটেছে পশ্চিমবঙ্গের পুরুলিয়া জেলায় ঝালদার পুস্তি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। বেঁধে রাখা শিক্ষক হলেন-বিদ্যালয়টির প্রধান শিক্ষক বিপ্লব গঙ্গোপাধ্যায়।

বিপ্লব গঙ্গোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের অভিযোগ, চলতি বছরের এপ্রিল মাস থেকে নিয়মিত বিদ্যালয়ে আসেন না। মিড-ডে মিলেও তিনি মান সম্পন্ন খাবার দিতেন না। কোনো অভিযোগ নিয়ে তার কক্ষে গেলে তাকে পাওয়া যেত না। দুই একজন অভিভাবক তাকে বিষয়টি বললেও তিনি নিজেকে বদলাননি।

এরপর তারা সংশ্লিষ্ট দপ্তরে অভিযোগ দিয়েও সুফল পাননি। প্রশাসনের কথাও তিনি অগ্রাহ্য করেছেন। এরপর অভিভাবকরা নিজেরাই পদক্ষেপ নেন। তারা একদিন বিদ্যালয়টিতে তালা মেরে দেন। পরে শিক্ষকদের উদ্ধার করা হলেও বিদ্যালয়ে প্রায় সপ্তাহখানেক ক্লাস বন্ধ রাখা হয়। বিকল্প হিসেবে পার্শ্ববর্তী দুর্গামন্দিরে ক্লাস নিতেন শিক্ষকরা। প্রধান শিক্ষক নিজের আচরণ না বদলালে এ বিদ্যালয় খোলা হবে না বলে জানান এলাকাবাসী। বিষয়টি মেটাতে ওই শিক্ষা দপ্তরের কর্তৃপক্ষ এলাকায় গেলে প্রধান শিক্ষক মুচলেকা দিয়ে বিদ্যালয়টি ফের চালু করেন।

কিন্তু কয়েকদিন যেতে না যেতেই ফের আগের আচরণে ফিরে যান প্রধান শিক্ষক বিপ্লব। গত আগস্ট মাসে মিড-ডে মিলে মুড়ি ও চানাচুর দিলে স্থানীয় বাসিন্দারা ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন। এ ছাড়াও প্রধান শিক্ষক আগের মতোই দেরি করে বিদ্যালয়ে আসার পাশাপাশি অনেক দিন আসতেনই না। এভাবে টানা প্রায় তিন মাস চলার পর বেশ ক্ষুব্ধ হন অভিভাবকসহ এলাকাবাসী। এরই জেরে গত সোমবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে প্রধান শিক্ষক বিপ্লব গঙ্গোপাধ্যায় বিদ্যালয়ে এলে তাকে বিদ্যুতের খুঁটিতে বেঁধে ফেলেন এলাকাবাসী।

প্রধান শিক্ষককে বেঁধে ফেলার খবর ছড়িয়ে পড়ার পর বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ এসে ওই প্রধান শিক্ষককে মুক্ত করে। মুক্ত হয়েই স্থানীয় থানায় এ নিয়ে একটি মামলা দায়ের করেন বিপ্লব গঙ্গোপধ্যায়। মামলায় পুস্তি গ্রামের চন্দ্র কুমার ও গুরুদাস প্রামাণিক নামের দুই ব্যক্তিকে প্রধান আসামি করেন তিনি। সোমবার রাতেই ওই দুই অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করে আদালতেও চালান করেছে পুলিশ। বিচারে পুরুলিয়া জেলা মুখ্য বিচারক রিম্পা রায় প্রধান শিক্ষককে আটকে রাখার জন্য প্রধান দুই আসামিকে ১৪ দিন জেল হেফাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

আদালত বিপ্লব গঙ্গোপধ্যায়ের পক্ষে রায় দিলেও পুরুলিয়া জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর এই ঘটনার তদন্তে কমিটি গঠন করেছে।

এদিকে স্থানীয়রা জানিয়েছেন, অভিযুক্ত ওই প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে শুধু এই বিদ্যালয়েই নয় আগের দুই প্রতিষ্ঠানেও একাধিক অভিযোগ রয়েছে। সেই কারণে তিনি তিনবার শাস্তিস্বরূপ বদলিও হয়েছেন। কিন্তু তবুও তার আচরণে কোনো পরিবর্তন ঘটেনি। আনন্দবাজার

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়