প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

গুজব ছড়ালে শাস্তি, দেশে লবণের ঘাটতি নেই

মাজহারুল ইসলাম : চাহিদার চেয়ে বেশি পরিমাণে লবণ মজুত থাকার পরও একটি অসাধু চক্র রাজধানীসহ সারাদেশে লবণ নিয়ে গুজব ছড়িয়ে আতঙ্ক তৈরি করেছে। অথচ দেশের লবণের বাজারে কোনো ধরনের ঘাটতি নেই। গত মৌসুমে লক্ষ্যমাত্রা ছিলো ১৮ লাখ মেট্রিক টন থাকলেও উৎপাদন হয়েছে ১৮ লাখ ২৪ হাজার মেট্রিক টন। যা বিগত ৫৮ বছরের লবণ উৎপাদনে রেকর্ড। গেলো মৌসুমের উদ্বৃত্ত প্রায় ৬ লাখ মেট্রিক টন লবণ দিয়ে আরও অন্তত ২মাস চলবে। গতকাল মঙ্গলবার বাংলাদেশ লবণ মিল মালিকরা এসব কথা জানান।

মিল মালিকরা জানান, অসাধু ব্যবসায়ীরা লবণের কৃত্রিম সংকট দেখিয়ে দাম বৃদ্ধির অপচেষ্টা চারাচ্ছে। লবণের কেজি ১৫০ টাকা এমন অপপ্রচার চালিয়ে লবণ শিল্পকে ধ্বংসের চেষ্টা হচ্ছে। মিল মালিকরা আরও বলেন, আয়োডিনের সর্বোচ্চ দাম ১ হাজার থেকে ১২০০ টাকা হওয়া দরকার। কিন্তু আমাদের তা কিনতে হচ্ছে ৩০০০ টাকায়।

মিল মালিক সমিতির সভাপতি নুরুল কবির জানান, কক্সবাজারে তিন লাখ মেট্রিক টনের ওপরে লবণ উদ্বৃত্ত রয়েছে। সারা দেশের মোকামগুলোতে রয়েছে আরও প্রায় তিন লাখ মেট্রিক টন লবণ।

এদিকে, গুজবরের ফলে রাজধানীর বাজার ও পাড়া-মহল্লার দোকান থেকে লবণ উধাও হয়ে যায়। আতঙ্কিত ভোক্তারা হুমড়ি খেয়ে পড়ে লবণ কিনতে। কেউ ২/৩ কেজি, আবার কেউ ৫ কেজি পর্যন্তও লবণ কিনেছেন। ফলে কোথাও কোথাও ৩৫ থেকে ৩৮ টাকার কেজির লবণ ৭০ থেকে ১২০ টাকা কেজিতে বিক্রি হয়েছে।

অপরদিকে, ভোক্তাদের গুজবে বিভ্রান্ত না হওয়ার আহ্বান জানিয়ে শিল্প মন্ত্রণালয় ও কুটির শিল্প করপোরেশন বলেছে, ২০১৮-১৯ মৌসুমে দেশে রেকর্ড পরিমাণ ১৮ লাখ ২৪ হাজার টন লবণ উৎপাদন হয়েছে। এছাড়া সারাদেশে বিভিন্ন লবণ কোম্পানির ডিলার, পাইকারি ও খুচরা বিক্রেতাদের কাছেও প্রয়োজনের অতিরিক্ত লবণ মজুদ রয়েছে। শিল্প মন্ত্রণালয় জানায়, দেশে প্রতি মাসে ভোজ্য লবণের চাহিদা ১ লাখ টন। অথচ মজুদই আছে সাড়ে ৬ লাখ টন। তাছাড়া চলতি নভেম্বর মাস থেকে লবণের উৎপাদন মৌসুম শুরু হয়েছে। এরই মধ্যে কক্সবাজার জেলার কুতুবদিয়া ও মহেশখালী উপজেলায় উৎপাদিত নতুন লবণও বাজারে আসতে শুরু করেছে। এ হিসাবে দেশে লবণের কোনো ধরনের ঘাটতি বা সংকট হওয়ার প্রশ্নই ওঠে না।

শিল্প মন্ত্রণালয় বলেছে, একটি স্বার্থান্বেষী মহল গুজব রটনা করে অধিক মুনাফা লাভের আশায় লবণের দাম অস্থিতিশীল করার অপচেষ্টা চালিয়েছে। গতকাল সারাদেশে জেলা প্রশাসনকে এসব বিষয় জানানোর জন্য বিসিকের জেলা কার্যালয়গুলোকে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত