প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

বাদলের আসনে লড়তে চান ৯ জন, আলোচনায় সেলিনা-মনজুর-মোছলেম-বাবলু

নিউজ ডেস্ক : চট্টগ্রাম-৮ (বোয়ালখালী-চান্দগাঁও) শূন্য আসনে উপ-নির্বাচনের তফসিল ঘোষিত না হলেও রাজনীতির মাঠে-চায়ের আড্ডায় এখন আলোচনার বিষয় একটিই প্রার্থী কারা? ধানের শীষে আবু সুফিয়ানের প্রার্থিতা অনেকটা নিশ্চিত হওয়ায় সবার আগ্রহের কেন্দ্রে এখন নৌকার প্রার্থী। এই আসনের সদ্য প্রয়াত সংসদ সদস্য মইন উদ্দীন খান বাদলের উত্তরসূরী হতে আওয়ামী লীগের বেশ কয়েকজন জ্যেষ্ঠ নেতার সঙ্গে মনোনয়নের লড়াইয়ে আছেন কয়েকজন তরুণ নেতাও। তবে আলোচনায় আছে, চান্দগাঁও-বোয়ালখালীর বাসিন্দাদের বাইরের সম্ভাব্য হিসেবে আরও তিনজন ‘হেভিওয়েট’ প্রার্থীর নাম। জল্পনা রয়েছে, ওই তিনজনের যে কোনও একজনকে নৌকার প্রার্থী করে চমক দিতে পারে আওয়ামী লীগের হাইকমান্ড।চট্টগ্রাম প্রতিদিন

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, চট্টগ্রাম ৮ আসন থেকে নৌকার প্রার্থী হতে চান দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মোছলেম উদ্দীন আহমেদ, চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের সিনিয়র যুগ্ম সম্পাদক রেজাউল করিম চৌধুরী, নগর আওয়ামী লীগের অর্থ সম্পাদক আবদুচ ছালাম। এছাড়া ‘হেভিওয়েট’ এই তিন প্রার্থীর পাশাপাশি নৌকার প্রার্থী হতে চান দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক আব্দুল কাদের সুজন, বিজিএমইএর সাবেক সহ সভাপতি এস এম আবু তৈয়ব ও ব্যারিস্টার কফিল উদ্দীন।

প্রকাশ্যে মনোনয়নের লড়াইয়ে এই ছয়জন থাকলেও গোপনে আওয়ামী লীগের শীর্ষ পর্যায়ে নিবিড় যোগাযোগ রক্ষা করে চলেছেন অন্য তিন প্রার্থী। তারা হলেন প্রয়াত মইন উদ্দীন খান বাদলের স্ত্রী সেলিনা খান, চট্টগ্রামের সাবেক মেয়র নগরীর কাট্টলীর বাসিন্দা শিল্পপতি এম মনজুর আলম ও জাতীয় পার্টির সাবেক মহাসচিব জিয়াউদ্দীন আহমেদ বাবলু। সরকারের বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থা ও শীর্ষ পর্যায়ে জোর আলোচনা আছে, এই তিনজনের মধ্যে প্রথম ও দ্বিতীয়জনের যে কোনও একজনের হাতেই উঠতে পারে নৌকার টিকেট! তবে শেষ পর্যন্ত কার হাতে উঠছে নৌকার টিকিট, তার জন্য অপেক্ষা করতে হবে আওয়ামী লীগের সংসদীয় বোর্ড থেকে ঘোষণা না আসা পর্যন্ত।

দলীয় সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘ কয়েক দশক ধরে ছাত্রলীগ, যুবলীগ ও আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে যুক্ত বর্তমানে চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন প্রবীণ রাজনীতিক মোছলেম উদ্দীন আহমেদ। পটিয়া থেকে অষ্টম সংসদ নির্বাচন করে হারার পর গত তিন সংসদ নির্বাচনে চান্দগাঁও-বোয়ালখালী আসন থেকে নৌকার মনোনয়ন চেয়ে আসছিলেন তিনি। তবে বরাবরই তার মনোনয়নে বাধা হয়ে দাঁড়ান জাসদ নেতা মইন উদ্দীন খান বাদল। তবে এবার বাদলের মৃত্যুতে আগামী চার বছরের জন্য একাদশ সংসদে যেতে চান মোছলেম উদ্দীন। সেজন্য পেতে চান নৌকার মনোনয়ন। তার মনোনয়ন দাবি করে চট্টগ্রাম ৮ আসনের বিভিন্ন স্থানে ইতিমধ্যে ব্যানার-ফেস্টুন লাগিয়েছেন অনুসারীরা।

কিছুদিন আগে মোছলেম উদ্দীন নিজেও প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের সভানেত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে দেখা করে তার মনোনয়ন ব্যাপারে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। এমনকি চট্টগ্রামের একটি অনুষ্ঠানে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরকেও চট্টগ্রামের বেশ কয়েকজন মন্ত্রী ও নেতাকে দিয়ে সুপারিশ করিয়েছেন তাকে যেন এবার মনোনয়ন দেওয়া হয়। তবে তার ঘনিষ্ঠ সূত্রের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, কয়েকদিন আগে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে মোছলেম উদ্দীন দেখা করে মনোনয়ন চাইলেও প্রধানমন্ত্রী স্পষ্ট করে কিছু বলেননি তাকে। বলেছেন, কাজ করে যেতে। প্রধানমন্ত্রী তাকে জানিয়েছেন, সংসদীয় বোর্ডের সভাতেই এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হবে। সম্প্রতি বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমকে তিনি এ প্রসঙ্গে বলেছেন, ‘নেত্রীর সঙ্গে দেখা করেছি। নেত্রী মনোনয়নের ব্যাপারে আমাকে কথা দিয়েছেন তা নয়, তবে তিনি আমার প্রতি সদয় আছেন। নেত্রী আমাকে স্নেহ করেন, আমাকে ভালো জানেন। এ কারণে আমি আশাবাদী। নেত্রীর প্রতি আমার আস্থা আছে। আমি তাঁর কর্মী। তিনি আমাকে কোথাও না কোথাও সেট করবেন।’

এই আসনের নৌকার টিকিটের জন্য গত তিন সংসদ নির্বাচন থেকে জোর চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের সিনিয়র যুগ্ম সম্পাদক রেজাউল করিম চৌধুরী। তিনি প্রতি সংসদ নির্বাচনের আগে ব্যাপক হারে ব্যানার পোস্টার ছেপে মনোনয়ন প্রত্যাশা করেন। এছাড়া চট্টগ্রাম-৮ আসনের রাজনীতিতে তার অনুসারীদেরও দীর্ঘ দিনের দাবি তাকে যেন এমপি পদে মনোনয়ন দিয়ে শেষ বয়সে মূল্যায়ন করা হয়। রেজাউল করিম নিজেও নির্বাচন করার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন।

অন্যদিকে সংসদ নির্বাচন আসলেই সরব হয়ে উঠেন চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের অর্থ সম্পাদক আবদুচ ছালাম। এমনকি গত নবম ও দশম সংসদ নির্বাচনে দুই বার আওয়ামী লীগের প্রাথমিক মনোনয়ন পেলেও মহাজোটের স্বার্থে মইন উদ্দীন বাদলের সঙ্গে চূড়ান্তে লড়াইয়ে ছিটকে পড়েন ছালাম। তবে ছালামের মত মনোনয়ন বঞ্চিত হয়েছেন মোছলেম উদ্দীন ও রেজাউল করিমও।

এ দুজন মূল্যায়িত না হলেও অপেক্ষাকৃত নবীন ছালামকে যুগ্ম সচিব পদমর্যাদায় চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (সিডিএ) চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ দেয় সরকার। শুধু নিয়োগ নয়, তার হাত দিয়ে কয়েক হাজার কোটি টাকার উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন করায় আলোচনায় আসেন আবদুচ ছালাম। নতুন নতুন প্রকল্প নিয়ে যেমন আলোচনায় আসেন ছালাম, তেমনি অনিয়ম ও ফ্লাইওভার ধ্সসহ নানা কারণে বির্তকেরও জন্ম দেন তিনি। এরপর এ বছরের এপ্রিল থেকে সিডিএ চেয়ারম্যান পদ থেকে তার স্থলে নিয়োগ দেওয়া হয় নগর আওয়ামী লীগের সহ সভাপতি জহিরুল আলম দোভাষকে। নগর আওয়ামী লীগের অর্থ সম্পাদক ছালাম ও তার অনুসারীরা আশা করছেন তাকে এবার চূড়ান্ত প্রার্থী হিসেবেই নৌকার টিকিট দেওয়া হবে চট্টগ্রাম-৮ আসনে।

এই তিনজনের বাইরেও প্রার্থী হওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন ব্যবসায়ী নেতা ও গার্মেন্টস ব্যবসায়ী বোয়ালখালীর বাসিন্দা এসএম আবু তৈয়ব। চট্টগ্রাম কলেজ ছাত্রলীগের রাজনীতি ও ছাত্র সংসদে নেতৃত্ব দেওয়া তৈয়বের বড় ভাই এসএম আবুল কালাম বর্তমানে কুয়েতের রাষ্ট্রদূত হিসেবে কর্মরত আছেন। তিনিও অষ্টম সংসদ সংসদ নির্বাচনে চান্দগাঁও-বোয়ালখালী আসন থেকে নির্বাচন করে ধানের শীষের মোরশেদ খানের কাছে হেরেছিলেন। এর আগে গত কয়েকটি সংসদ নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার আগ্রহ না দেখালেও এবারের উপনির্বাচনে প্রার্থী হতে চান ব্যবসায়ী আবু তৈয়ব। তবে তিনিও সব সিদ্ধান্ত ছেড়ে দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর ওপর।

তৈয়বের পাশাপাশি মনোনয়নের জন্য লড়াই করে যাচ্ছেন চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক আবদুল কাদের সুজন। তিনি দীর্ঘ ৩৫ বছর ধরে ছাত্রলীগ ও আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত আছেন বলে জানিয়েছেন। গত সংসদ নির্বাচন থেকে তিনি সংসদ সদস্য হিসেবে মনোনয়ন পেতে নানা প্রচার প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন। এবারও তিনি মনোনয়ন চাইবেন বলে জানিয়েছেন। যদিও কয়েক মাস আগে অনুষ্ঠিত উপজেলা নির্বাচনে বিদ্রোহী প্রার্থী হয়ে দলীয় প্রার্থীর কাছে হেরেছিলেন সুজন। ‘নৌকার বিদ্রোহী’ হিসেবে শাস্তির মুখোমুখি হয়ে কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্তে ক্ষমা পেলেও তার ভাগ্যে মনোনয়ন জুটবে কিনা— এ নিয়ে রয়েছে জোর সন্দেহ।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত