প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

সারাদেশকে নাড়িয়ে পেঁয়াজের বাজার কমতির পথে

লাইজুল ইসলাম : দেশের মানুষ গত তিন মাসে ভুগেছেন পেঁয়াজ সমস্যায়। দেশী পেঁয়াজের কেজি প্রতি মূল্য বৃদ্ধি হয় ৩০-৪০টাকা। এতেই কেজি প্রতি দর দাড়ায় ৬০ থেকে ৭০ টাকায়। ঠিক সেই সময় ভারত পেঁয়াজ রপ্তানি বন্ধ করে দেয়। হঠাৎ করেই এমন ঘোষণার পর পেঁয়াজের দাম বাতাসের মতো হুহু করে বাড়তে থাকে। কয়েক দিনের ব্যবধানে পেঁয়াজের প্রতি কেজি মূল্য দাড়ায় ১৪০ থেকে ১৭০ টাকায়। এরমধ্যে প্রাকৃতিক দুর্যোগ বুলবুলের কারণে পেঁয়াজের চালান খালাস বন্ধ হওয়ার অযুহাতে দাম বাড়ে কেজি প্রতি ১০০ টাকা। এতে পেঁয়াজের দাম বেড়ে দাড়ায় দেশি পেঁয়াজ ২৫০ থেকে ২৮০ টাকায়।

এমন পরিস্থিতিতে পেঁয়াজের বাজার নিয়ন্ত্রণে বেশ কিছু উদ্যোগ গ্রহণ করে বানিজ্য মন্ত্রণালয়। পেঁয়াজ আমদানি করা হয় মিয়ানমার থেকে। এছাড়া, অতিরিক্ত দাম নিয়ন্ত্রণে নামানো হয় খাদ্র অধিদপ্তরের ভ্রাম্যমাণ আদালত। এসব করেও নিয়ন্ত্রণে আনা যায়নি পেঁয়াজের লাগাম। তবে সব শেষ মিসর, আরব আমিরাত, আফগানিস্তান ও তুরস্ক থেকে পেঁয়াজ আনার ঘোষণা দেয়ার পরপরই পেঁয়াজের বাজারে প্রভাব পরতে থাকে। আমদানি ঘোষণার পরপরই রোববার পেঁয়াজের মূল্য কমতে থাকে।

রোবার পেঁয়াজের দাম এক লাফে কমে যায় ৩০-৪০ টাকা। সোমবার তা আরো কমে। কেজি প্রতি কমে যায় আরো ২০-৩০ টাকায়। এতে পাইকারি বাজারে দেশি পেঁয়াজের দাম দাড়ায় ১৮০-২০০ টাকায় কিন্তু পেঁয়াজের দাম কমলেও বিপাকে পরেছে পাইকারি ব্যবসায়ীরা। পেঁয়াজের দাম বাড়ায় ক্রেতারা বাজারে যাওয়া বন্ধ করেছে। পাশপাশি খাওয়া কমিয়েছেন পেয়াজের। এতেই বিপাকে ব্যবসায়ীরা। তারা বলছেন, দাম কমেছে কিন্তু ক্রেতা নেই। এতো দাম দিয়ে ক্রেতারা পেঁয়াজ কিনতে চাইছেন না বলেও মন্তব্য করেন তারা।

কারওয়ান বাজারে খোঁজ নিয়ে দেখা যায়, মঙ্গলবারও পেঁয়াজের পাইকারি বাজারে দাম আরো কিছুটা কমেছে। তবে, রবি ও সোমবারের মতো এতটা কমেনি। দেশি পেঁয়াজ কেজি প্রতি বিক্রি হচ্ছে ১৯০ টাকার নিচে। মিয়ানমার ও মিসরের পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ১৬০ টাকার নিচে। এছাড়া, চায়না পেঁয়াজেরও দাম কমেছে।

এদিকে পাইকারি বাজারে পেঁয়াজ দাম কমলেও তেমন প্রভাব পরেনি এলাকাভিত্তিক বাজার গুলোতে। কয়েকটি এলাকা ঘুরে দেখা গেছে দেশি পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ২০০ টাকা কেজিতে। অভিযাত এলাকায় একই পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ২৪০ থেকে ২৫০ টাকা কেজিতে।

সামসুর রহমান ব্যবসায়ী শ্যামবাজার ব্যসায়ী নেতা বলেন, মিয়ানমার ও বিমানের পেঁয়াজ আমদানির কথা শুনে বাজারে ক্রেতা আসা বন্ধ হয়ে গেছে। কেনা দামের চাইতেও ১০ টাকা কমে বিক্রি করা যাচ্ছে না পেঁয়াজ। কোনও ধরনের কারসাজি করে পেঁয়াজের দাম বাড়ায়নি মজুদদাররা বলেও দাবি করেন এই ব্যবসায়ী নেতা।

ক্যাবের সভাপতি গোলাম রহমান বলেন, প্রতি বছর যে পরিমাণ পেঁয়াজ উৎপাদন হয় তা সংরক্ষণ করা হলে এই সংকটের ঘটনা ঘটতো না। তবে, তিনিও মনে করেন পেঁয়াজের দাম বাড়ার পেছনে অবশ্যই ব্যবসায়ীদের হাত রয়েছে।

এই দুজনই বলেন, আগামী ১৫ দিনের মধ্যে পেঁয়াজের দাম অনেক নাগালের মধ্যে চলে আসবে। দেশের নতুন পেঁয়াজ উঠতে শুরু করেছে। পেঁয়াজ আমদানি করা হচ্ছে। কৃষকের কাছে যে পেঁয়াজ মজুদ আছে তাও বাধ্য হয়ে বের করা হবে। সব মিলিয়ে আগের দামেই চলে আসবে পেঁয়াজের বাজার।

বাজারে এখনো পেঁয়াজের দাম ক্রেতাদের নাগালের মধ্যে না আসায় বাজারে আসছেন না ক্রেতারা। সকালে সালেহা বেগম জানান, পেঁয়াজ ছাড়াই রান্নার কাজ চলাতে হচ্ছে। এতো দাম দিয়ে কেনার দরকার নেই। দাম কমে আসলে কিনবো। খুব প্রয়োজন হলে আড়াইশো গ্রাম করে পেঁয়াজ কিনেন বলে জানান তিনি।

এদিকে, দিনমজুর আবুল কাশেম জানান, এতো দাম দিয়ে পেঁয়াজ কেনা সম্ভব নয়। তাই বউকে বলছি পেঁয়াজ ছাড়া রান্না করতে। দাম কমলে পেঁয়াজ খাবেন বলেও জানান তিনি।

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত