প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

সংসদ সদস্য ও শীর্ষ সরকারী কর্মকর্তাসহ ১০৫ জনের ব্যাংক অ্যাকাউন্টের তথ্য চেয়েছে দুদক

সাবিহা জামান : অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগের জন্য ১০৫ জনের ব্যাংক হিসাব তলব করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। এদের মধ্যে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের ৩ সংসদ সদস্য ও শীর্ষ সরকারী কর্মকর্তারা রয়েছেন। দ্য ডেইলি স্টার

সংসদ সদস্যদের মধ্যে শামসুল হক চৌধুরী, পঙ্কজ দেবনাথ এবং নুরুন্নবী চৌহদুরী শাওন রয়েছেন। কর্মকর্তাদের মধ্যে রয়েছেন কাস্টমস ইন্টেলিজেন্স অ্যান্ড ইনভেস্টিগেশনের মহাপরিচালক এম শহিদুল ইসলাম এবং কাস্টমস হাউজ কমিশনার ইনল্যান্ড কনটেইনার ডিপো আনোয়ার হোসেন অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

রোববার দুদক পরিচালক সৈয়দ ইকবাল হোসেন ১০৫ ব্যাংক অ্যাকাউন্টে প্রয়োজনীয় তথ্য দেওয়ার জন্য অনুরোধ করে বাংলাদেশ ফিনানসিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিটকে একটি চিঠি দিয়েছে। দুদকের মহাপরিচালক সায়েদ মাহবুব খান চিঠি প্রেরণের বিষয়টি নিশ্চিত করলেও বিস্তারিত জানায়নি।

দুদকের এক কর্মকর্তা চিঠির বরাত দিয়ে বলেন, ঠিকাদার গোলাম কিবরিয়া শামীম ও যুবলীগের বহিষ্কৃত নেতা ইসমাইল চৌধুরী সম্রাট ও অন্যান্যরা অবৈধ ক্যাসিনো ব্যবসায়ের মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ অর্থ পাচারের অভিযোগ করেছেন। তারা তথ্য আরাল করতে অনেক সরকারী কর্মকর্তাকে ঘুষ দিয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

দুদক সূত্র জানায়, চার শীর্ষ কাস্টমস হাউস আইসিডি কর্মচারীদের বিষয়ে তথ্য চেয়েছে।তারা হলেন অতিরিক্ত কমিশনার মোহাম্মদ মাহমুদুল হাসান, সহকারী কমিশনার কানিজ ফারহানা শিমু, আবুল কাশেম চৌধুরী এবং তুহিনুল হক।
অন্যান্য সরকারী কর্মকর্তাদের মধ্যে রয়েছেন, গণপূর্ত বিভাগের প্রধান প্রকৌশলী সাহাদাত হোসেন, সাবেক প্রধান প্রকৌশলী মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম, অতিরিক্ত চিফ ইঞ্জিনিয়ার আবদুল হাই, হাফিজুর রহমান মুন্সী, এক্সিকিউটিভ ইঞ্জিনিয়ার্স ফজলুল হক মধু, শোকোট উল্লাহ, ফজলুল হক, রোকন উদ্দিন, আফসার উদ্দিন, মো। স্বপন চাকমা, ইলিয়াস আহমেদ ও সুপারিনটেনড প্রকৌশলী আবদুল মোমিন চৌধুরী। কর্মকর্তাদের মধ্যে খাদ্য পরিদর্শক খোরশেদ আলমও রয়েছেন।

রাজনৈতিক নেতাদের মধ্যে স্বেচ্ছাসেবক লীগের কোষাধ্যক্ষ কে এস মাসুদুর রহমান, ঢাকা দক্ষিণ সিটি আওয়ামী যুবলীগের সহ-সভাপতি মুরসালিক আহমেদ, ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের কাউন্সিলর ফরিদ উদ্দিন আহমেদ ও মইনুল হক মঞ্জু, যুবলীগ নেতা কামরান প্রিন্স মহব্বত,যুব লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মাকসুদুর রহমান, যুবলীগ নেতা আতিয়ার রহমান, কেন্দ্রীয় যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক এমরান হোসেন খান, সদস্য হেলাল আকবর চৌধুরী, যুবলীগের কেন্দ্রীয় নেতা শফিকুল ইসলাম, তাসলিম উদ্দিন, কায়সার আহমেদ ও তাজুল ইসলাম চৌধুরী প্রমুখ।
দুদক কয়েকজন নেতাদের স্ত্রী, বাবা-মা ও সন্তানদের ব্যাংকের তথ্য চেয়েছে।

বান্দরবান ভিত্তিক সিলওয়ান ওয়াই রিসোর্ট এবং স্পা লিমিটেডের চেয়ারম্যান জসিম উদ্দিন, পরিচালক ফজলুল করিম চৌধুরী, জামিল উদ্দিন, এসএইচএম মহসিন, উম্মে হাবিবা নাসিমা, জিয়া উদ্দিন আবির ও জাওয়াদ উদ্দিন আবরারও দুদকের স্ক্যানারে রয়েছেন।

সূত্র আরো জানায়, দুর্নীতির বিরুদ্ধে অভিযানের অংশ হিসাবে ক্যাসিনোতে জড়িত বেশ কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করে দুদক, গত পাঁচ বছরে সিঙ্গাপুরে ক্যাসিনো থাকা বাংলাদেশীদের সম্পদ সম্পর্কে তদন্ত শুরু হয়েছে।  ৩০ সেপ্টেম্বর থেকে দুদক ইসমাইল হোসেন চৌধুরী সম্রাট, খালেদ মাহমুদ ভূঁইয়া, এবং মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাবের পরিচালক ইনচার্জ এম লোকমান হোসেন ভূঁইয়াসহ ক্ষমতাসীন দলের সাবেক নেতাদের বিরুদ্ধে ১৪ টি মামলা করেছে। রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদ চলাকালীন জি কে শামীম, খালেদ ও লোকমানের কাছ থেকে গুরুতর তথ্য সংগ্রহ করেছে বলে দাবি করা হচ্ছে। সম্পাদনা: মহসীন কবির

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত