প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

প্রতিরোধের মুখে নিরাপদ সড়ক আইন, ডয়চে ভেলের প্রতিবেদন

নিউজ ডেস্ক : ১৬ দিন সময় দেয়ার পরও নতুন নিরাপদ সড়ক আইন বাস্তবায়ন পরিবহণ শ্রমিকদের প্রতিরোধের মুখে পড়েছে। তবে সড়ক পরিবহণ ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, কোনো চাপের মুখে এই আইন অকার্যকর করা যাবে না।

১ নভেম্বর থেকে ঢাকাসহ সারাদেশে নিরাপদ সড়ক আইন কার্যকরের কথা থাকলেও তা করা যায়নি। শুরুর দিনেই নানা জটিলতার মুখে আইন কার্যকর করতে এক সপ্তাহ সময় নেয়া হয়। এর উদ্দেশ্য ছিলো আইনটি সম্পর্কে পরিবহণ মালিক, শ্রমিক, সাধারণ মানুষ ও ট্রাফিক পুলিশসহ সংশ্লিষ্ট অন্যান্য বিভাগকে সচেতন করা। শেষমেশ আরো সময় বাড়িয়ে ১৮ নভেম্বর (সোমবার) থেকে এই আইনটি কার্যকর করা হয়েছে।

কার্যকরের প্রথম দিনে ঢাকায় বিআরটিএ’র আটটি ভ্রাম্যমাণ আদালত কাজ করে। অভিযানে যেসব যানবাহনের ফিটনেস, রুট পারমিট, ট্যাক্স টোকেন হালনাগাদ এবং ড্রাইভিং লাইসেন্স ছিলো না, তাদের জরিমানা করা হয়।

বিআরটিএ’র পরিচালক একেএম মাসুদুর রহমান বলেন, প্রথম দিনে আটটি মোবাইল কোর্ট এক লাখ ২১ হাজার ৯শ’ টাকা জরিমানা করেছে। জরিমানা এত কম কেন জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমাদের টার্গেট বেশি জরিমানা আদায় নয়। আমরা চাই আইনটি সবাই জানুক, সচেতন হোক। সে কারণেই আমরা শুরুতে কড়াকড়ি করছি না।
তিনি আরো বলেন, প্রতিদিনই এই ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হবে। এটা একটা চলমান প্রক্রিয়া।

এদিকে দেশের খুলনা এবং রাজশাহী বিভাগের পরিবহণ শ্রমিকরা এই নতুন আইন কার্যকরের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে পরিবহণ ধর্মঘট ডেকেছে। এরমধ্যে রয়েছে রাজশাহী, যশোর, খুলনা, বাগেরহাট, সাতক্ষীরা, মাগুড়া, নড়াইল, ঝিনাইদহ, কুষ্টিয়া ও চাঁদপুর। এর ফলে দেশের অনেক এলাকার সঙ্গে ঢাকার সড়ক পরিহণ যোগাযোগ বন্ধ হয়ে গেছে।

খুলনা মোটর শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি কাজী নুরুল ইসলাম বলেন, আমরা পেশাদার ড্রাইভার আমাদের বেতন বাড়ে নাই। কিন্তু জরিমানা বাড়ানো হয়েছে। ৫ হাজাার থেকে ২৫ হাজার এক
টাকা জরিমানা আমরা কিভাবে দেবো। মনে হচ্ছে, আমরা যেন এই দেশের নাগরিক না, সব দায় আমাদের। এটা হলে আমাদের পক্ষে গাড়ি চালানো সম্ভব নয়। আমাদের না খেয়ে থাকতে হবে।
তিনি দুর্ঘটনায় শাস্তি প্রসঙ্গে বলেন, আইনের প্রতি আমাদের শ্রদ্ধা আছে। কিন্তু কোনো ড্রাইভার ইচ্ছে করে দুর্ঘটনা ঘটায় না, একটা পিঁপড়াও মারে না। আর পুলিশের তদন্তে আমাদের আস্থা নেই।

সর্বাধিক পঠিত