প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

উইঘুরের ওপর নির্যাতনের গোপন নথি ফাঁস

বাংলাদেশ প্রতিদিন : চীনে সংখ্যালঘু উইঘুর মুসলিম সম্প্রদায়ের ২০ লাখেরও বেশি মানুষকে বন্দিশিবিরে আটক ও নির্যাতনের বিষয়ে সরকারি গোপন নথি ফাঁস হয়েছে।
চীন সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায়ের নির্দেশে ক্ষুদ্র নৃতাত্ত্বিক গোষ্ঠী উইঘুরদের ওপর নির্যাতন চালানো হয় বলে ওই নথিতে উঠে এসেছে। রোববার নিউ ইয়র্ক টাইমসে এই খবর দিয়েছে। ফাঁস হওয়া নথির কিছু অংশ নিজেদের ওয়েবসাইটেও প্রকাশ করেছে এই গণমাধ্যম।

চীনের একজন ঊর্ধ্বতন রাজনীতিকের কাছ থেকেই সম্প্রতি সংবাদমাধ্যমের হাতে আসা নথিটি ফাঁস হয়েছে। এতে দেখা গেছে, চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং কিভাবে ২০১৪ সালে অঞ্চলটি সফরকালে এবং পরবর্তীতে বিভিন্ন সময় কর্মকর্তাদের উদ্দেশে দেয়া ভাষণে অঞ্চলটির মুসলিমদের ব্যাপারে বেইজিংয়ের অবস্থান পরিষ্কার করেছেন। ওই সময় একটি ট্রেন স্টেশনে হামলার পর অঞ্চলটি সফর করেন শি জিনপিং। ওই হামলার জন্য উইঘুরদের দায়ী করা হয়। সফরকালে ও পরে কর্মকর্তাদের উদ্দেশে দেয়া ভাষণে কঠোরভাবে সন্ত্রাসবাদ, অনুপ্রবেশ ও বিচ্ছিন্নতাবাদীদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের নির্দেশ দেন তিনি। এসময় উইঘুর মুসলমানদের ব্যাপারে কোনো অনুকম্পা না দেখানোরও নির্দেশ দেন জিনপিং। শুধু নৃতাত্ত্বিক উইঘুর সম্প্রদায়ের মুসলমানরাই নয়, বরং একই অবস্থা অঞ্চলটির অন্য মুসলিমদেরও।

৪০৩ পৃষ্ঠার যে নথি নিউইয়র্ক টাইমস-এর হাতে এসেছে, তাতে চীনের কমিউনিস্ট পার্টির বিতর্কিত অভিযান পরিচালনার অবিশ্বাস্য সব তথ্য উঠে এসেছে। উইঘুরদের জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণ, তাদের ওপর নজরদারি এবং সি চিন পিংসহ বিভিন্ন নেতার অপ্রকাশিত বক্তব্যও রয়েছে ওই নথিতে।

আরও জানা যায়, জিনজিয়াং প্রদেশে অভিযান পরিচালনা নিয়ে কমিউনিস্ট পার্টির মধ্যেও অসন্তোষ রয়েছে। চীনা প্রেসিডেন্টের এ ধরনের নির্দেশের ব্যাপারে রয়টার্সের পক্ষ থেকে দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে একটি ফ্যাক্স করা হয়েছে। এর কোনো জবাব মেলেনি।

যুক্তরাষ্ট্র বলছে, চীনের লড়াই কথিত সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে নয়, বরং জিনজিয়াং থেকে উইঘুর মুসলমানদের অস্তিত্ব মুছে ফেলার লড়াইয়ে অবতীর্ণ হয়েছে বেইজিং।
প্রায় ১০ লাখ উইঘুর মুসলিমকে বন্দি করে রাখার অভিযোগ রয়েছে চীনের বিরুদ্ধে। বন্দিদের ওপর নিপীড়ন ও নির্যাতনের কারণে তীব্র সমালোচনার মুখে দেশটি।
উইঘুর মুসলমানদের নিপীড়নে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে চীনের ২৮ সংস্থাকে কালো তালিকাভুক্ত করেছে যুক্তরাষ্ট্র। এসব সংস্থাগুলোর মধ্যে জিনজিয়াংয়ের প্রাদেশিক নিরাপত্তা ব্যুরো এবং ১৯টি ছোটখাটো সরকারি সংস্থা রয়েছে। অনুলিখন : ম. সিদ্দিকা

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত