প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

এলডিপির ভাঙা-গড়া এবং আমার ঈদ আনন্দ নষ্ট হওয়ার সেই দিনটি

 

এহসান জুয়েল : বাংলাদেশের রাজনীতি খুব অদ্ভুত জিনিস। ২০০৪/৫ সালের দিকে বিএনপির তৎকালীন স্থায়ী কমিটির সদস্য কর্নেল অলি প্রথম বিদ্রোহ করেন? তারেক রহমানের সঙ্গে তার দ্বন্দ্ব প্রকাশ্য চলে আসে। আমি তখন জনকণ্ঠে। চট্টগ্রাম বিমান বন্দরে নেমেই অলি বোমা ফাটান? আমি কাভার করতে গিয়েছিলাম। পরের দিন আমাদের পত্রিকায় সেকেন্ড লিড হয়Ñ ‘জিয়ার খুনিরাই এখন মন্ত্রিসভার সদস্য’। কয়েকদিনের মধ্যে কর্নেল অলি আমাকে একটা সাক্ষাৎকার দেন। যেখানে তিনি বলেন, ‘মা ছেলে দুটোই বেয়াদপ’। ভয়াবহ কথা। বিএনপি জামায়াত ক্ষমতায়। সেখানে দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য কর্নেল অলির এমন গরম গরম বিদ্রোহ! আবার নিজের এলাকায় ব্যাপক জনপ্রিয় অলি। তাই দমন করার দায়িত্ব নেন সাকা চৌধুরী। তার গুডল হিলের বাসায় ডেকে নেন সাংবাদিকদের। সেবারই প্রথম তার বাড়িতে যাওয়া। সাকা হুঙ্কার ছাড়লেন, ‘এক বনে দুটো বাঘ থাকতে পারে না। চট্টগ্রামের বাঘ আমি। কর্নেল অলিকে বয়কট করা হবে’। এভাবে নানা নাটকীয়তায় আসে অলির দল ছাড়ার দিনটি। যতোদূর মনে পড়ে ঈদের পরের দিন ছিলো সেটি। ছুটিতে তাই বাড়ি গিয়েছিলাম।

এ অবস্থায় জনকণ্ঠ সিদ্ধান্ত নিলো বিশেষভাবে পত্রিকা বের করা হবে। যেহেতু এতোদিন আমি ফলো করেছি, তাই ছুটি বাতিল করে আমাকে অফিসে ডেকে নেয়া হলো? গঠন হলো নতুন দল- এলডিপি। (এই এলডিপি গঠনে জাতি কি পেলো জানি না, তবে আমার একটা ঈদ নষ্ট হলো)। দল গঠনের আগে প্রায় একবছর অলির নানা কর্মকা- নিয়ে স্টোরি করেছি। সব সময় অলিকে পেতাম না। তবে তার ছায়াসঙ্গী ছিলেন সাহাদাত হোসেন সেলিম। সব সময় তার কাছ থেকেই আপডেট পেতাম। সেলিম ভাই-ই ছিলেন অলির সবচে ঘনিষ্ঠদের একজন। সেই সাহাদাত হোসেন সেলিম আজ এলডিপি ভেঙে নতুন দল করলেন। বললেন, ‘বিএনপি ভেঙে যে অন্যায় তারা করেছেন, আল্লাহ যেন সেটার জন্য তাদের ক্ষমা করেন? ‘ক অদ্ভুত আত্মোপলব্ধি। রাজনীতিতে আজকে যে শত্রু। কাল সে বন্ধু। যার সঙ্গে ঘর ছাড়লেন, তাকে ফেলে আবার আগের ঘরে যাওয়ার আকুলতা? বিএনপি ক্ষমা করবে কিনা জানি না, তবে আমার সে ছুটি বাতিলের কারণে তাদের কি আমার মাফ করা উচিত? ফেসবুক থেকে

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত