প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

কুলাউড়ায় আয়কর মেলার নামে করদাতাদের ভোগান্তি

স্বপন কুমার দেব, মৌলভীবাজার: জনবল সংকটে ও সেবা প্রদানের কোনো ব্যবস্থা না থাকায় ভেস্তে যাচ্ছে সরকারের সদ্ইচ্ছা। সোমবার (১৮ নভেম্বর) মৌলভীবাজারের কুলাউড়া উপজেলা আয়কর অফিসে গিয়ে নানা হয়রানি ও বিরম্বনায় পরেন কর দানে ইচ্ছুক করদাতাগণ। শুধুমাত্র কিছু রঙ্গিন বেলুন টানিয়ে কর মেলার আনুষ্ঠানিকতা পালন করতে দেখা যায় কুলাউড়া কর অফিসে। নেই কোন কর্মকর্তা, নেই কোন হেল্প ডেক্স। করদাতাদের অসহায় ভাবে দ্বিগবিদিগ ছুটতে দেখা গেছে। কেউ কেউ ক্ষোভ প্রকাশ করে বাড়ি ফিরে যেতে দেখা গেছে। সরকার যে উদ্দেশ্যে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে করমেলার আয়োজন করেছে তা শুধুমাত্র পর্যাপ্ত জনবল, করবান্ধব দক্ষ কর কর্মকর্তা ও কর্মচারীর অভাবে করদাতাদের কাছে নতুন আরো একটি বিরম্বনার সৃষ্টি করেছে। বিশেষ করে স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসার হাজার হাজার শিক্ষক ও সরকারি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের করের আয়তাভুক্ত কর্মকর্তা ও কর্মচারিদের কাছে আতঙ্কেও কারণ হয়ে দাড়িয়েছে। শিক্ষক ও কর্মকর্তাদের মাসিক বেতনের সাথে প্রতিমাসে নির্ধারিত কর সরকারি হিসেবে কেটে নেয়া হলেও প্রতি বছর নভেম্বর মাসের ৩০ তারিখের মধ্যে রির্টাণ দাখিলের নিয়ম করদাতাদের কাছে যেন ‘মরার উপর খরার ঘা’ হয়ে দাড়িয়েছে।

একই সময়ে সারাদেশে করমেলার আয়োজন এ সমস্যাকে প্রকট করে তুলেছে বলে ভুক্তভোগী করদাতারা মনে করছেন। আব্দুল মজিদ নামে একজন করদাতা শিক্ষক অনেকটা ক্ষোভ নিয়ে বলেন, ‘সরকার যদি আমাদের এই সামান্য বেতন ভাতা না বাড়িয়ে বরং কমিয়ে দিয়ে রির্টাণ জমা দেয়ার যন্ত্রনা থেকে মুক্তি দিতেন তবে বেঁচে যেতাম।’ নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন শিক্ষক বলেন, ‘বেসরকারি শিক্ষকদের শুধু মাত্র মূল বেতন ১৬ হাজার বা তার উর্ধ্বের স্কেলের বেতন দিচ্ছেন। সরকারি অন্য কোন আর্থিক সুবিধা দিচ্ছেন না অথচ একই স্কেলের অন্য সরকারি কর্মকর্তা কর্মচারিরা বিশাল অংকের আর্থিক সুবিধা নিয়ে যেভাবে কর ও রির্টাণ দিচ্ছেন আমাদেরকেও সেভাবে সব কাজ করতে হচ্ছে। সামান্য অর্থ বৃদ্ধি আর এমন হয়রানি শিক্ষকরা সইতে পারছেন না।’ তার চেয়ে বেতন কমিয়ে দিলেই বাঁচতাম এ কথা বললেন অন্য এক করদাতা। তাদের অভিযোগ প্রতিবছর কর অফিস নতুন একটি রির্টাণ ফরম করদাতাদের ধরিয়ে দেন। অথচ কর অফিসের কর্মকর্তারা নিজেরাই সেই ফরম পূরণ করতে পারেন না। পরে কর অফিস থেকেই বলা হয় পুরানো ফরমই রির্টাণ জমা দিন। বিনিময়ে কর অফিসের কোন কর্মচারি বা আয়কর আইনজীবিদের সহায়তা নিয়ে রির্টাণ জমা দিতে হয়। কত টাকাই বেতন পাই তার উপর প্রতিবছর রির্টাণ দাখিলের জন্য নির্ধারিত কর দেয়ার পরও অতিরিক্ত ৫-৭ হাজার টাকা চলে যায়। সাথে বাড়তি ঝামেলা ও দৌড়ঝাপ করতে হচ্ছে। আমরা তো বেতন থেকে প্রতিমাসে নির্ধারিত হারে কর দিয়ে আসছি তবে রির্টাণ জমা দেয়ার অতিরিক্ত ঝামেলা থেকে মুক্তি মিলছে না।

এ ব্যাপারে মৌলভীবাজার অঞ্চলের দায়িত্ব প্রাপ্ত সিলেটের যুগ্ম কর কমিশনার শাহেদ আহমেদ চৌধুরী সোমবার রাতে মোবাইলে এ প্রতিনিধিকে বলেন, সরকার প্রয়োজনীয় জনবল না দিলে আমরা কি করতে পারি। স্বল্প জনবল দিয়েই হাজার হাজার করদাতাদের প্রয়োজনমত সহায়তা দেয়া সম্ভব হচ্ছেনা। তবে আমাদের চেষ্ঠা থাকে এ জনবল দিয়েই সর্বোত্তম সেবা দেয়ার। তবে করদাতাদের হয়রানির বিষয়ে তিনি বলেন, একই সময়ে বিভিন্ন স্থানে কর মেলার থাকায় কিছু অসুবিধা হতে পারে। তবে কোন করদাতা যাতে অযথা হয়রানির শিকার না হন সেদিকটি আমরা আন্তরিকতার সাথে দেখবো। সম্পাদনা :  তন্নীমা আক্তার

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত