প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

স্থানীয় সরকার পর্যায়ের কাজে সম্পৃক্ত হতে চান প্রতিবন্ধীরা
‘প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের প্রতিনিধিত্ব ও অংশগ্রহণ’ বিষয়ক আলোচনা

সাইদ রিপন : কোনরকম সামাজিক প্রতিবন্ধকতা, অযোগ্যতা, অধস্থনতা বা অভিসাপ নয়। জগতের সৃষ্টি থেকে এটি স্বাভাবিক সৃষ্টির বৈচিত্র। আবার অনেক সময় জাগতিক অস্বাভাবিকতা ও নানা দুর্ঘটনার কারণেও একজন মানুষের জীবনে নানা প্রকারের প্রতিবন্ধিতা তৈরি হতে পারে। একজন প্রতিবন্ধী ব্যক্তি আইনের দৃষ্টিতে একজন পূর্ণাঙ্গ মানুষ ও রাষ্ট্রের সম্মানিত নাগরিক। এই সজ্ঞার প্রেক্ষিতেই সরকারের সব উন্নয়ন কাজের সাথে প্রতিবন্ধীদের যুক্ত করার দাবি জানিয়েছেন প্রতিবন্ধীরা।

সোমবার বিকেলে রাজধানীর গুলশানে হোটেল স্পেকট্রাতে ‘স্থানীয় সরকার ও উন্নয়ন: প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের প্রতিনিধিত্ব ও অংশগ্রহণ’ বিষয়ক আলোচনায় এ দাবি জানান তারা। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান, বিশেষ অতিথি মনসুর আহমেদ চৌধুরী উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন স্থানীয় সরকার বিশেজ্ঞ প্রফেসর তোফায়েল আহমেদ।

দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে আসা প্রতিবন্ধীরা বলেন, বিভিন্ন বাধার কারণে স্থানীয় সরকারের উন্নয়নে প্রতিবন্ধীরা অংশগ্রহণ করতে পারছে না। সরকারের বাজেট-বরাদ্দের বেশিরভাগই প্রতিবন্ধীরা পায় না বলে অভিযোগ করেন তারা। জনপ্রতিনিধিদের কাছে যেতেও বিভিন্ন বাধার সম্মুখীন হতে হয়। একজন বলেন, যে সমস্ত ইউনিয়নে প্রতিবন্ধীদের জন্য সরকারি প্রকল্প বাস্তবায়ন হচ্ছে, সেসব ইউনিয়নের মানুষগুলো আমাদের প্রতি খুবই পজেটিভ। তবে যে সমস্ত ইউনিয়নে আমাদের নিয়ে কোন প্রকল্প নেই, সেখানেই বিরূপ ভাব দেখা যায়। একজন জনপ্রতিনিধি বলেন, ইউনিয়নের ট্যাক্সের টাকা তুলে অনেক সময় প্রতিবন্ধীদের ভাতা দিতে হয়। ট্যাক্সের টাকা তুলে তো ইউনিয়নের জনবলদের বেতন দিতেই কষ্ট হয়। ইউনিয়নের যে সমস্ত খাস জমি আছে, সেগুলো প্রতিবন্ধীদের উন্নয়নে কাজে লাগাতেও দাবি জানান এ জনপ্রতিনিধি।

মনসুর আহমেদ চৌধুরী বলেন, সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় প্রতিবন্ধীদের নিয়ে একটি জরিপ করেছে। তাদের জরিপে দেশের প্রায় ১৫ লাখ প্রতিবন্ধীর কথা উল্লেখ করা হয়েছে। কিন্তু এ জারিপে আজও আমি অন্তর্ভুক্ত হতে পারিনি। আমি আশা করি আগামী জনশুমারিতে প্রতিবন্ধীদের সঠিক তথ্য উঠে আসবে।

পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, প্রতিবন্ধীরা অতীতে অবহেলিত হয়েছে। আমাদের সরকারই ১৯৯৬ সালে প্রথম প্রতিবন্ধীদের জন্য ১০০ টাকা ভাতা চালু করে। ওই সময়ের ১০০ টাকার ভাতা এখন ৭৫০ টাকায় উন্নত হয়েছে। যদিও চাহিদার তুলনায় ভাতার পরিমান কম। কিন্তু ভাতার পাশাপাশি সবাইকে স্বাবলম্বী হতে হবে। মূলত এ ভাতা আমরা সম্মানি হিসেবে দেই। এছাড়া বর্তমানেও আমরা প্রতিবন্ধীদের নিয়ে কাজ করছি। আশা করি দেশের উন্নয়নের সুফল সবাই পাক। পিছিয়ে পড়া সবার প্রতি আমাদের প্রধানমন্ত্রীও খুব আন্তরিক।

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত