প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

হৈমন্তিক রসাভিজানে শামিল হতে শিল্পকলার মঞ্চে ঢাবির ‘রসপুরাণ’

ওবায়দুর রহমান সোহান, ঢাবি প্রতিনিধি : ‘তারুণ্যের জয়গানে আসুন আনন্দের মঞ্চে’ এই স্লোগান কে সামনে রেখে আইডিএলসি ফাইন্যান্স লিমিটেড দ্বিতীয়বারের মতো আয়োজন করতে যাচ্ছে ‘আইডিএলসি নাট্য উৎসব-২০১৯’। মঙ্গলবার ১৯ নভেম্বর থেকে ২৩ নভেম্বর ২০১৯ পর্যন্ত, ৫ দিনব্যাপী এই নাট্য উৎসব চলবে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমীতে। যেখানে দেশের ১০টি স্বনামধন্য নাট্যদল নাটক পরিবেশন করবে।

৫ দিনব্যাপি এই নাট্য উৎসবে অংশ নিবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের থিয়েটার অ্যান্ড পারফরম্যান্স স্টাডিজ বিভাগ প্রযোজিত নাটক ‘রসপুরাণ’। ১৯ নভেম্বর মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৬.৩০ মিনিটে ‘রসপুরাণ’ শিল্পকলার ‘এক্সপেরিমেন্টাল থিয়েটার’ হলে মঞ্চায়নের মধ্য দিয়ে শুরু হবে এই নাট্য উৎসব।

ভারতীয় উপমহাদেশের প্রাচীন ভারতীয় নাট্য ও সঙ্গীত বিশারদ ভরত মুনি রচিত নাট্যশাস্ত্রে বর্ণিত ভাব ও রসনিষ্পত্তি প্রক্রিয়া অনুসরণে অষ্টরসের আখ্যানে প্রাণ পেয়েছে নাটক ‘রসপুরাণ’। ভরত মুনি রচিত নাট্যশাস্ত্র মতে শৃঙ্গার, হাস্য, করুণ, রৌদ্র, বীর, ভয়ানক, বীভৎস ও অদ্ভুত এই আটটি রস ‘নাট্যরস’ বলে কথিত। রসসমূহের স্থায়ী ভাব রয়েছে। রতি ভাব থেকে শৃঙ্গার, হাস থেকে হাস্য, শোক থেকে করুণ, ক্রোধ থেকে রৌদ্র, উৎসাহ থেকে বীর, ভয় থেকে ভয়ানক, জুগুপ্সা থেকে বীভৎস এবং বিস্ময় থেকে অদ্ভুত রস তৈরি হয়। ধ্রুপদী আঙ্গিকের এই প্রযোজনার উপজীব্য হলো- মানুষের সভ্যতার দ্বান্দ্বিক অগ্রগতির ইতিহাস, যুদ্ধ, হত্যা, ভয়, ক্রোধ শেষে যুথবদ্ধ জীবনে অফুরান ভালোবাসা ও সৌন্দর্যের প্রয়োজনীয়তা।

এ উপমহাদেশের প্রাচীন শিল্পভাবনায় উদ্দীপিত সমকালীন নাট্যরূপায়ণে যোজিত হয়েছে রামায়ণ, এবং মহাভারতের নির্বাচিত বিভিন্ন দৃশ্যের সারাৎসার। অষ্টরসাখ্যান স্বরূপ এই প্রযোজনায় যে অদৃশ্য সুতোটি এক দৃশ্যের সঙ্গে আরেক দৃশ্যের মধ্যে ভাবগত সংযোগ স্থাপন করেছে তা হলো ‘রস’। ধারণাগত কাঠামো (কনসেপচুয়াল ফ্রেমওয়ার্ক) রূপে রসনিষ্পত্তি প্রক্রিয়ার পটভূমিতেই খন্ড খন্ড দৃশ্যের সংশ্লেষণের মধ্য দিয়ে সঙ্কটময় পরিস্থিতি থেকে সুন্দর ও নির্মল পরিণতির দিকে এগিয়ে যায় নাটক ‘রসপুরাণ’।

নাট্যভাবনা, পরিকল্পনা ও নির্দেশনায় রয়েছেন বর্তমান সময়ে আলোচিত দেশের তরুণ নাট্যনির্মাতা ও থিয়েটার এন্ড পারফরম্যান্স স্টাডিজ বিভাগের চেয়ারম্যান ড. আহমেদুল কবির। নাটকে ওয়াহীদা মল্লিক জলি’র তত্ত্বাবধানে পোশাক পরিকল্পনা করেছেন উম্মে সুমাইয়া এবং দেহবিন্যাস, চলন ও সংগীত পরিকল্পনায় ছিলেন দেশের জনপ্রিয় ভরতনাট্যম বিশারদ নৃত্য শিল্পী ও প্রশিক্ষক অমিত চৌধুরী এবং নাটকে মণিপুরী নৃত্যের চলন ও পোশাক পরিকল্পনায় ছিলেন সুইটি দাস চৌধুরী।

রসপুরাণ নাটকের নির্দেশক ড.আহমেদুল কবির বলেন, একাডেমিক পর্যায়ে যে নাট্যচর্চা হয় তা আমরা দর্শকের সামনে প্রর্দশণ করে থাকি। তারই ধারাবাহিকতায় একাডেমিক কর্মকান্ডকে আরো উৎসাহ যোগানের লক্ষ্যেই এই নাট্য উৎসবে অংশগ্রহণ করা।

তিনি আরোও বলেন, এই আয়োজনের জন্য আইডিএলসি কে সাধুবাদ জানাই। এই ধরনের আয়োজনের মাধ্যমে মঞ্চনাটককে দর্শক প্রিয়তার শীর্ষে নিয়ে যাবে বলে আমি আশা করি।

রসপুরাণ নাটকে অভিনয় করেছেন থিয়েটার এন্ড পারফরম্যান্স স্টাডিজ বিভাগের ২য় বর্ষের নীলিমা হোসেন, তনুশ্রী কারকুন, জান্নাতুল ফেরদৌস জিম, নিকিতা আযম, মোসা. নাসরিন সুলতানা, প্রণব রঞ্জন বালা, ওবায়দুর রহমান সোহান, দীপম সাহা, ফারজাদ ইফতেখার, হোসাইন জীবন, মো. রাফায়াতুল্লাহ, মো. আবতাহী সাদমান ফাহিম, শাহবাজ ইশতিয়াক পূরণ, মো. তানভীর আহম্মেদ ও সায়র নিয়োগী।

উল্লেখ্য, এর আগে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নাটমন্ডল মিলনায়তনে ২৫ এপ্রিল-৪মে পর্যন্ত রসপুরাণ নাটকের দশটি প্রদর্শণী অনুষ্ঠিত হয়।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত