প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

রাজধানীতে বেড়েছে মশার উৎপাত, যন্ত্রপাতিসহ নানা সংকটের কথা বলছেন কর্মকর্তারা

যায়যায়দিন: মাস খানেক আগেও ডেঙ্গু-চিকুনগুনিয়া যখন ভয়াবহ রূপ নিয়েছিল, সে সময় ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে মশক নিধন কার্যক্রম ব্যাপকভাবে পরিচালিত হলেও বর্তমানে ঝিমিয়ে পড়েছে। এর জন্য দায়ী করা হচ্ছে পর্যাপ্ত লোকবলের অভাব, ফগার ও হুইলব্যারোসহ অন্যান্য মেশিন-যন্ত্রপাতির সংকটকে।
রাজধানীর বিভিন্ন এলাকার একাধিক বাসিন্দা জানিয়েছে, ‘কিছু দিনে আগে মশা মারতে সিটি করপোরেশনের ব্যাপক তৎপরতা দেখা গেলেও বর্তমানে আমরা মশক নিধন কর্মীদের দেখা যাচ্ছে না। ফলে মশার উৎপাত দেখা দিয়েছে। সারাদিনই তবে বিশেষ করে সন্ধ্যার পর থেকে মশার কারণে বিড়ম্বনায় পড়তে হয় আমাদের। ইদানীং দিনেও মশার কয়েল জ্বালিয়ে রাখতে হয়।’

তারা অভিযোগ করে বলেন, ‘কিছুদিন আগে দুই সিটি করপোরেশনের মশা মারার অ্যাক্টিভিটিস ছিল চোখে পরার মত কিন্তু সে কাজ এখন ঝিমিয়ে পড়েছে। মশক নিধন কর্মীদের তেমনভাবে আর মাঠে দেখছেন না। অথচ সংস্থা দুটি ঘোষণা দিয়েছিল, ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে রাখতে বছরজুড়ে কাজ করবে তারা। আসলে তারা লোক দেখানো এবং মিডিয়া কাভারেজের জন্য কার্যক্রম দেখায়। আমরা যারা সাধারণ মানুষ তারাই ভোগান্তিতে পড়ি মশা নিয়ে। বাসায় ছোট বাচ্চা আছে সারাদিন মশারির মধ্যে রাখতে হয় তাকে। কারণ সন্ধ্যা নামার সঙ্গে সঙ্গেই শুরু হয় মশার ভোঁ ভোঁ শব্দ।’

সম্প্রতি ‘মশক নিয়ন্ত্রণে বর্তমান কার্যক্রম এবং বছরব্যাপী কর্মপরিকল্পনা’ শীর্ষক এক সংবাদ সম্মেলনে ডিএনসিসি মেয়র আতিকুল ইসলাম বলেন, ‘এখন থেকে প্রতিটি ওয়ার্ডের কাউন্সিলররা নিজ নিজ ওয়ার্ডের মশক নিয়ন্ত্রণ, পরিছন্নতাসহ যেকোনো বিষয়ে দায়ী থাকবেন। যার যার কৃতকর্মের জন্য তাকেই জবাবদিহিতা করতে হবে।’
অন্যদিকে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. মীর মোস্তাফিজুর রহমানের বরাত দিয়ে জনসংযোগ কর্মকর্তা উত্তম কুমার রায় বলেন, ‘এডিস মশার প্রজননস্থল ধ্বংসকরণ কার্যক্রমে গত ২২ জুলাই থেকে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের টিম মোট দুই লাখ ১৫ হাজার ৮৪৩ বাড়ি পরিদর্শন করে এক হাজার ৪৯৩ বাড়িতে লার্ভা পেয়েছে। মশক নিধনে আমাদের কার্যক্রম চলছে।’

ডিএনসিসির সংশ্লিষ্ট বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, কিউলেক্স মশা ও ডেঙ্গু রোগের জীবাণুবাহক এডিস মশা নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রমবিষয়ক পরিচালনা পর্ষদ গঠন করেছে তারা। মশা নিয়ন্ত্রণে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ প্রয়োজনীয় ব্যক্তিদের নিয়ে এই পর্ষদ গঠিত হয়েছে। প্রতি তিন মাস অন্তর এ পর্ষদের সভা অনুষ্ঠিত হবে। কিউলেক্স মশা নিয়ন্ত্রণে গত ৭ অক্টোবর থেকে কিউলেক্স মশার প্রজননস্থল অর্থাৎ হট স্পট চিহ্নিত করার জন্য দুইজন কীট বিশেষজ্ঞ এবং ১০ জন শিক্ষানবিশ নিয়োজিত করা হয়েছে। তারা ইতোমধ্যে গবেষণা করে হট স্পট অর্থাৎ কোনো এলাকায় কিউলেক্স মশার তীব্রতা কত তা নির্ধারণ করেছেন।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের এক কাউন্সিলর বলেন, ‘এ সময়ে এসে প্রতি বছর মশার উৎপাত বাড়তে থাকে, তাই আমাদের উচিত আরও বেশি কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া। আসলে প্রতিটি ওয়ার্ডে যতসংখ্যক মশক নিধন কর্মী প্রয়োজন সেই তুলনায় আমাকের লোকবল কম। এর মধ্যও আমরা আমাদের সর্বোচ্চ চেষ্টা করে যাচ্ছি। সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকেও অনেক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে, এর সঙ্গে নগরবাসীকেও সচেতন হতে হবে।’

মশক নিধনে ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনের বিভিন্ন পদক্ষেপ, কার্যক্রম তবুও কেন রাজধানীতে মশার উৎপাত- এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনের নেই পর্যাপ্ত লোকবল। পাশাপাশি ফগার ও হুইলব্যারোসহ অন্যান্য মেশিন-যন্ত্রপাতিতে সংকট থাকায় মশা নিধন পুরোপুরি সম্ভব হচ্ছে না। পুরনো কাঠামোর মাত্র ৪৮ শতাংশ জনবল নিয়েই সংস্থা দুটি তাদের দ্বিগুণ এলাকায় নাগরিক সেবা দিয়ে আসছে। এ কারণে প্রতিটি সেবা সংক্রান্ত কার্যক্রমেই হিমশিম খেতে হচ্ছে সংস্থা দুটিকে।
অনুলিখন: সৌরভ আরাফাত, সম্পাদনা্ : সালেহ্ বিপ্লব

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত