প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

পেঁয়াজ এখনও সিন্ডিকেটের কব্জায়

ডেস্ক রিপোর্ট : পেঁয়াজের দাম নিয়ে অসাধু ব্যবসায়ীদের নৈরাজ্য এখনও থামেনি। প্রশাসন বাজার তদারকি জোরদার করলেও পেঁয়াজ এখনও সিন্ডিকেটের কব্জায়। পাইকারি ও খুচরা বাজারে সরবরাহ বাড়লেও দাম খুব একটা কমেনি। যুগান্তর

দুই বাজারেই দাম কমেছে মাত্র কেজিতে ১০ থেকে ১৫ টাকা। তবে ঢাকার বাইরে অভিযানের ফলে অনেক জায়গায় পেঁয়াজ বিক্রি হয়েছে ১৭৫ টাকায়। আবার কোথাও কোথাও ২৭০ থেকে ৩০০ টাকা কেজিও বিক্রি হয়েছে।

কয়েকটি জেলায় বেআইনিভাবে পেঁয়াজ মজুদের অভিযোগে ব্যবসায়ীদের গুদাম সিলগালা ও পেঁয়াজ জব্দ করা হয়েছে।

এদিকে পেঁয়াজ উৎপাদনের জন্য বিখ্যাত ফরিদপুর জেলার বিভিন্ন অঞ্চল থেকে বাজারে নতুন পেঁয়াজ আসতে শুরু করেছে। পেঁয়াজপাতাও বাজারে আসছে। ফলে বাজারে এর দামও কমতে শুরু করেছে।

আশা করা হচ্ছে, আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে বাজারে নতুন পেঁয়াজের সরবরাহ আরও বাড়বে। তখন দামও কমে যাবে।

রোববার রাজধানীর পাইকারি বাজারে প্রতি কেজি দেশি পেঁয়াজ বিক্রি হয়েছে ২৩০-২৪০ টাকা। যা একদিন আগে বিক্রি হয় ২৪০-২৫২ টাকা। মিয়ানমার ও মিসরের পেঁয়াজ বিক্রি হয়েছে ২২০ টাকা দরে। আগের দিনও এ পেঁয়াজ একই দরে বিক্রি হয়েছে।

অন্যদিকে খুচরা বাজারে দেশি পেঁয়াজ বিক্রি হয়েছে ২৪০-২৫০ টাকা কেজি। আগের দিন ছিল ২৪০ থেকে ২৬০ টাকা কেজি। ফরিদপুরের বাজারে নতুন পেঁয়াজ উঠতে শুরু করেছে। সেখানে দুই দিনের ব্যবধানে কেজিতে পণ্যটির দাম কমেছে ৬২ টাকা।

এদিন পেঁয়াজের দাম ভোক্তার ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে আনতে রাজধানীসহ একাধিক জেলায় জাতীয় ভোক্তা অধিকার অধিদফতর, জেলা প্রশাসন, পুলিশ ও ভ্রাম্যমাণ আদালত অভিযান পরিচালনা করেছে। এ সময় পেঁয়াজের দামে কারসাজি করায় বেশ কয়েকটি প্রতিষ্ঠানকে শাস্তির আওতায় আনা হয়েছে।

লক্ষ্মীপুরে এক মুদি দোকানের গোডাউন থেকে ভ্রাম্যমাণ আদালত ৪০ বস্তা পেঁয়াজ জব্দ করেছে। পরে গোডাউনটি সিলগালা করা হয়।

রাজশাহীর বাঘা উপজেলার বাউসা গ্রামের সুভাসচন্দ্র নামের এক ব্যক্তির বাড়ির ছাদ থেকে ১৫ মণ পেঁয়াজ উদ্ধার করা হয়েছে।

পরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নির্দেশে পুলিশের কাছে দু’দিনের মধ্যে ওই পেঁয়াজ বাজারে ছাড়ার মুচলেকা দেন এই ব্যবসায়ী।

রোববার ৪৫ টাকা দরে পেঁয়াজ কিনতে রাজধানীতে টিসিবির বিক্রয় কেন্দ্রে ক্রেতাদের উপচে পড়া ভিড় দেখা গেছে। অনেকেই রীতিমতো যুদ্ধ করে এক কেজি পেঁয়াজ কিনছেন।

কেউ কেউ সকাল ১০টায় লাইনে দাঁড়িয়ে দুপুর আড়াইটায় পেঁয়াজ কিনে বাড়ি ফিরেছেন।

রাজধানীর কারওয়ান বাজারে নিত্যপণ্য কিনতে আসা মো. সেলিম বলেন, খুচরা বাজারে পেঁয়াজের দাম তেমন একটা কমেনি। তবে পাইকারিতে দেখলাম ১০ টাকা কমেছে।

তাই সেখান থেকে পাইকারি নিয়মে দু’জন মিলে ৫ কেজি পেঁয়াজ কিনেছি।

কারওয়ান বাজারের ২৩নং পেঁয়াজের আড়তদার মো. আসরাফ যুগান্তরকে বলেন, পাইকারি বাজারে আজ পেঁয়াজ বেশি এসেছে। যার কারণে দাম একটু কমেছে। তবে চাহিদামতো এখনও পাচ্ছি না।

আগে যেখানে ২৫-৩০ বস্তা পেঁয়াজ পেতাম, এখন মিলছে মাত্র ৫-৮ বস্তা। তবে কিছুদিনের মধ্যে দেশি পেঁয়াজ বাজারে আসবে। তখন দাম অনেক কমে আসবে।

খুলনা ব্যুরো জানায়, খুলনার বাজারে প্রতি কেজি পেঁয়াজ ২৭০-৩০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। সরবরাহ কম ও চাহিদা বেশি হওয়ায় ক্রয় মূল্য থেকে ৪০-৫০ টাকা বেশি দরে পেঁয়াজ বিক্রি করছেন আড়তদাররা। এতে প্রভাব পড়ছে খুচরা বাজারে।

খুলনার দু’জন আমদানিকারক ও পাঁচজন আড়তদার পেঁয়াজের মূল্য বৃদ্ধির সঙ্গে জড়িত বলে সংশ্লিষ্টরা অভিযোগ করেছেন। মূলত এই সিন্ডিকেটটি বাজার নিয়ন্ত্রণ করে। জেলা প্রশাসন এরই মধ্যে সিন্ডিকেটে জড়িতদের নজরদারিতে নিয়েছে।

এর মধ্যে শনিবার খুলনা স্টেশন রোডের সোহেল ট্রেডার্স নামের একটি আড়তে অভিযান চালিয়ে পেঁয়াজ মজুদ ও অতিরিক্ত দামে বিক্রি করার অভিযোগে এক ব্যবসায়ীকে জরিমানা করা হয়েছে।

বড়াইগ্রাম (নাটোর) প্রতিনিধি জানান, বড়াইগ্রামে এক সপ্তাহের ব্যবধানে পেঁয়াজের দাম কয়েকগুণ বেড়েছে। এর সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বেড়েছে চাল ও শাকসবজির দাম।

রোববার উপজেলার লক্ষ্মীকোল, জোনাইল ও বনপাড়ায় বাজার ঘুরে দেখা গেছে, প্রতি কেজি পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ২৪০-২৫০ টাকা দরে।

উল্লাপাড়া (সিরাজগঞ্জ) প্রতিনিধি জানান, উল্লাপাড়ায় ২৫ গ্রাম ওজনের একটি পেঁয়াজের দাম ছয় টাকা। গ্রামাঞ্চলের হাটবাজারগুলোতে ছয় টাকারও বেশি। রোববার উল্লাপাড়া বাজারে ২৪০-২৫০ টাকা ধরে পেঁয়াজ বিক্রি হয়েছে।

ফরিদপুর ব্যুরো জানায়, ফরিদপুরের বাজারে উঠতে শুরু করেছে মুড়িকাটা নতুন পেঁয়াজ। এতে দু’দিনের ব্যবধানে কেজিপ্রতি দাম কমেছে ৬২ টাকা। গত দু’দিন পাইকারিতে প্রতি কেজি পেঁয়াজ ২৩৭ টাকায় বিক্রি হলেও রোববার বিক্রি হয় ১৭৫ টাকা করে।

মুড়িকাটা পেঁয়াজ প্রতি কেজি পাইকারি বিক্রি হচ্ছে ১২০-১৩০ টাকা। অনেক চাষী পেঁয়াজপাতাও বাজারে আনছেন। এর এক মুঠা বিক্রি করছেন ৫০ থেকে ৭৫ টাকায়।

লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি জানান, লক্ষ্মীপুরে একটি মুদি দোকানের গোডাউনে ভ্রাম্যমাণ আদালত অভিযান চালিয়ে ৪০ মণ পেঁয়াজ জব্দ করেছে। নিয়মবহির্ভূতভাবে পেঁয়াজ মজুদ রাখায় এ সময় গোডাউনটি সিলগালা করে দেয়া হয়।

ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শফিকুর রিদোয়ান আরমান শাকিল। শনিবার রাতে জেলা শহরের গেঞ্জিহাটা এলাকার মুদি ব্যবসায়ী মাইন উদ্দিনের দোকানে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।

একই সময় পেঁয়াজের দাম বেশি রাখার দায়ে মুদি ব্যবসায়ী কার্তিক চন্দ্র সাহার ১০ হাজার টাকা জরিমানা করে ভ্রাম্যমাণ আদালত।

বাঘা (রাজশাহী) প্রতিনিধি জানান, পেঁয়াজ মজুদ করার অভিযোগে এক ব্যবসায়ীর বাড়িতে অভিযান চালিয়েছে পুলিশ। শনিবার সন্ধ্যায় বাঘা উপজেলার বাউসা গ্রামের সুভাসচন্দ্র নামের এক ব্যক্তির বাড়ির ছাদ থেকে ১৫ মণ পেঁয়াজ উদ্ধার করা হয়। পরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নির্দেশে পুলিশের কাছে দু’দিনের মধ্যে ওই পেঁয়াজ বাজারে ছাড়ার মুচলেকা দেন এই ব্যবসায়ী।

হবিগঞ্জ প্রতিনিধি জানান, স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে জেলায় প্রতি কেজি পেঁয়াজ ৫৫ টাকার বেশি দামে বিক্রি করলেই জরিমানা করা হবে বলে ব্যবসায়ীদের জানিয়ে দেয়া হয়।

শনিবার রাতে চুনারুঘাট সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও ভারপ্রাপ্ত উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নূসরাত ফাতিমা শশী এ সিদ্ধান্তের কথা ব্যবসায়ী নেতাদের জানিয়ে দেন।

এর আগে অভিযান চালিয়ে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে তিনি এক ব্যবসায়ীকে এক লাখ টাকা জরিমানা করেন। এ সময় অতিরিক্ত পেঁয়াজ মজুদ রাখায় দুই ব্যবসায়ীর গোডাউন সিলগালা করে দেন।

শিবগঞ্জ (চাঁপাইনবাবগঞ্জ) প্রতিনিধি জানান, শিবগঞ্জের পেঁয়াজের আড়তে পাইকারি ১৪০ টাকা ও খুচরা ১৫০ টাকা কেজি দরে পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে। বাজার স্থিতিশীল ও ন্যায্যমূল্যে বিক্রির লক্ষ্যে মাইকিং করা হয়েছে।

গৌরীপুর (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি জানান, গৌরীপুরে রোববার পেঁয়াজ ও নিত্যপণ্যের বাজার দেখতে যান গৌরীপুর থানার অফিসার ইনচার্জ কামরুল ইসলাম মিঞা।

তিনি ব্যবসায়ীদের সঙ্গে পেঁয়াজের অস্বাভাবিক দর নিয়ে কথা বলার এক মিনিটের মধ্যে খুচরা বাজারে প্রতি কেজিতে দাম কমেছে ৮০ টাকা। প্রতি কেজি বিক্রি হয়েছে ১৭৫ টাকায়।

বগুড়া ব্যুরো জানায়, পেঁয়াজের অস্বাভাবিক মূল্য বৃদ্ধির প্রতিবাদে বগুড়া শহর জাসদের উদ্যোগে রোববার দুপুরে শহরের সাতমাথায় মানববন্ধন ও সমাবেশ হয়েছে।

শহর জাসদের সভাপতি রবীন্দ্রনাথ দাস রঞ্জনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সমাবেশ থেকে অবিলম্বে কৃষি ও বাণিজ্যমন্ত্রীর পদত্যাগের দাবি জানানো হয়।

বরিশাল ব্যুরো জানায়, বরিশালে দেশি পেঁয়াজের দাম কেজিতে কমেছে ১০ টাকা। মিয়ানমারের পেঁয়াজ পাইকারি ২০০ টাকা ও তুরস্কের পেঁয়াজ ১৭০-১৮০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হয়েছে।

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত