প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

শরিক দলগুলোতে ভাঙ্গন সংকটে ঐক্যফ্রন্ট, ডয়চে ভেলের প্রতিবেদন

ডয়চে ভেলে : ঘরে-বাইরে চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছেন জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের শীর্ষ নেতা ড. কামাল হোসেন। তাঁর নিজের দল গণফোরামের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মোস্তফা মহসীন মন্টুসহ কয়েকজন দল ছেড়ে গেছেন।

বিএনপি নেতাদের অনেকেও তাঁকে আর মানতে চাইছেন না। এই পরিস্থিতিতে দারুণ বেকায়দায় পড়েছেন ড. কামাল হোসেন। ভাঙ্গা-গড়ার চাপে আছে বিএনপিসহ শরিক দলগুলোও। সব মিলিয়ে ঐক্যফ্রন্টেও বড় ধরনের সংকট সৃষ্টি হয়েছে।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বৃহস্পতিবার এক অনুষ্ঠানে বলেন, যাঁর সঙ্গে আমার আদর্শিক বিপরীত, যিনি বেগম খালেদা জিয়াকে ওন করেন না, যিনি বিএনপির রাজনীতি ওন করেন না, যিনি জিয়াউর রহমানকে ওন করেন না । তাঁকে সামনে রেখে পথ চললে সেই পথ অতিক্রম করা সম্ভব? এটা আমি মনে করি না।

এ প্রসঙ্গে ডয়চে ভেলের সঙ্গে আলাপকালে এই নেতা বলেন, ‘‘ড. কামাল হোসেনকে বিএনপি করতে হবে তা নয়। কিন্তু উনি কোথাও বক্তব্য দিলে খালেদা জিয়ার মুক্তির কথা মনে করিয়ে দিতে হয়। তারপরও কখনও বলেন, কখনও বলেন না। আসলে উনি তো খালেদা জিয়ার মুক্তির জন্য ফ্রন্ট করেননি, উনি এজেন্ডা নিয়ে এসেছিলেন বিএনপিকে নির্বাচনে নিতে। সেটাতে উনি সফল হয়েছেন। ফলে এখন বিএনপির অধিকাংশ নেতা-কর্মী তাঁর সঙ্গে একসঙ্গে পথ চলতে চান না।

ঐক্যফ্রন্টের আরেক শীর্ষ নেতা নাগরিক ঐক্যের আহবায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না ডয়চে ভেলেকে বলেছেন, জোটে এখনও এমন পরিস্থিতি হয় নাই যে, জোট ভেঙ্গে গেছে। আসলে ড. কামাল হোসেন, আ স ম রব নিজেদের দল নিয়েই সংঙ্কট পড়েছেন। এখন যদি বিএনপি নেতারা এসব কথা বলেন, তাহলে তো মুশকিল। আসলে ফ্রন্টকে ঐক্যবদ্ধ করতে আমরা চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। সফল যে হয়েছি, তা বলবো না।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী ডয়চে ভেলেকে বলেন, রাজনীতি করতে গেলে এই ধরনের সংঙ্কটে পড়তে হবে- সেটাই স্বাভাবিক। কিন্তু দেখেন গণতন্ত্রের ইস্যুতে, বাকস্বাধীনতার ইস্যুতে সবাই কিন্তু এক পথেই হাঁটছে। আমাদের সঙ্গে জোটে নেই বাম দলগুলো। কিন্তু তারাও তো আন্দোলন করছে। ইস্যু কিন্তু এক। ফলে এসব সংঙ্কটের মধ্য দিয়েই এক সময় আসল পথ বেরিয়ে আসছে। তখন কি কেউ ভেবেছিলেন এরশাদ পদত্যাগ করতে বাধ্য হবেন? কিন্তু তাঁকে পদত্যাগ করতে হয়েছিলো। ফলে কাকে কখন সরে যেতে হবে কেউ বলতে পারে না। জনগণের বিজয় একদিন হবেই।

সর্বাধিক পঠিত