প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

বাজারে দেশি পেঁয়াজ, কমছে দাম

বাংলাদেশ প্রতিদিন : গতকাল শনিবার মানিকগঞ্জে উৎপাদিত আগাম জাতের দেশি পেঁয়াজ রাজধানীর শ্যামবাজারে বিক্রি হয়েছে। আর এতেই পেঁয়াজের দাম পাইকারি বাজারে কমে ২০০ টাকার নিচে চলে এসেছে। পদ্মা অববাহিকা অঞ্চলে উৎপাদিত এই পেঁয়াজ গতকাল পাইকারি হিসাবে প্রতি কেজি ১৬০ থেকে ১৭০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। এ ছাড়া কুষ্টিয়া, মেহেরপুর, সাতক্ষীরা ও বগুড়ায় উৎপাদিত ‘মুড়িকাটা’ জাতের পেঁয়াজও পাইকারি বাজারে উঠতে শুরু করেছে বলে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে।

বাণিজ্য সচিব ড. জাফর উদ্দীন বলেন, মিসর থেকে এস আলম গ্রুপের আমদানি করা পেঁয়াজ বিমানে তোলা হয়েছে। মঙ্গলবারের মধ্যে এটি ঢাকায় পৌঁছাবে। আমদানি করা পেঁয়াজের পাশাপাশি দু’একদিনের মধ্যে দেশিজাতের পেঁয়াজের সরবরাহও বাড়বে বলে আশা প্রকাশ করেন বাণিজ্য সচিব। তিনি জানান, তারা স্থানীয় প্রশাসনের মাধ্যমে দেশের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের জেলাগুলোতে খোঁজ নিয়েছেন। সেখানে আগাম জাতের মুড়িকাটা পেঁয়াজ বাজারে উঠে গেছে। বগুড়া, মেহেরপুর, কুষ্টিয়া থেকে আরও পেঁয়াজ রাজধানীর দিকে আসছে।

পেঁয়াজের এই সংকটের বিষয়ে রাজধানীর শ্যামবাজার ও চট্টগ্রামের খাতুনগঞ্জের ব্যবসায়ীরা বলেছেন, পেঁয়াজের চলমান সংকটের পেছনে প্রাকৃতিক দুর্যোগ ছাড়াও প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কঠোর মনোভাব, দোকানে দোকানে গিয়ে শাস্তি ও জরিমানা এবং ভারতের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার না করার বিষয়গুলো এর সরবরাহে নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে।

শ্যামবাজারের মেসার্স ব্রাদার্স ট্রেড ইন্টারন্যাশনালের স্বত্বাধিকারী ইয়াছিন আহমেদ বলেন, ভারতের রপ্তানি নিষেধাজ্ঞার পর অনেকেই ভেবেছিলো নভেম্বরের শুরুতে সেটি প্রত্যাহার করা হবে। দেশটির ব্যবসায়ীরাও আশা দিয়েছিলেন যে মহারাষ্ট্রে নির্বাচনের পর নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয়া হবে। নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার হলে মিসর ও তুরস্ক থেকে পণ্যটি এনে ক্ষতিগ্রস্ত হবেন এই ভয়ে আমদানি করেননি অনেক ব্যবসায়ী।

খাতুনগঞ্জের আমদানিকারক মিজানুর রহমান বলেন, চট্টগ্রামের কিছু ব্যবসায়ী মিয়ানমার থেকে বর্ডার ট্রেডে পেঁয়াজ আনছিলেন। কিন্তু ওই সময় প্রশাসনিকভাবে খুচরা ও পাইকারি বাজারে ঢালাও অভিযান চালানো হয়। ফলে ব্যবসায়ীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ায় অনেকেই আমদানি থেকে বিরত থাকেন। এরপর সা¤প্রতিক ঘূর্ণিঝড় বুলবুল এর প্রভাবে টানা ৪দিন পেঁয়াজ আমদানি বন্ধ থাকে। ফলে খাতুনগঞ্জের পাইকারি বাজারে দেখা দেয় পেঁয়াজ সংকট যা খুচরা বাজারে অস্বাভাবিক প্রভাব ফেলে।

খাতুনগঞ্জের এই ব্যবসায়ী গতকালের বাজার পরিস্থিতি সম্পর্কে জানান, শনিবার মিয়ানমার থেকে দুই কনটেইনার পেঁয়াজ এসেছিলো। তবে তা পচে যাওয়ায় বিক্রি করা যায়নি। তিনি বলেন, স্বাভাবিক অবস্থায় খাতুনগঞ্জে প্রতিদিন ৩০ থেকে ৪০ ট্রাক (১৩ মেট্রিক টন) পেঁয়াজ ঢোকে। তবে ঘূর্ণিঝড় বুলবুলের পর ৩ থেকে ৪টি করে ট্রাক ঢুকছে। তবে মিসর ও তুরস্কের পেঁয়াজ বাজারে এলে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে বলে আশা করেন এই ব্যবসায়ী।

গতকালের পেঁয়াজের বাজার পরিস্থিতি সম্পর্কে জানতে চাইলে রাজধানী শ্যামবাজারের আমদানিকারক রফিকুল ইসলাম বলেন, নতুন কোনো আমদানি করা পেঁয়াজ বাজারে এখনো আসেনি। মানিকগঞ্জ ও সাভারে উৎপাদিত আগাম জাতের দেশি পেঁয়াজ কিছু পরিমাণ শ্যামবাজারে আনা হয়েছিলো। সেগুলো ১৬০ থেকে ১৭০ টাকা কেজি পাইকারি বিক্রি করা হয়েছে। খুচরা পর্যায়ে এটি ১৮০ থেকে ১৯০ টাকায় পাওয়া যাবে। তিনি বলেন, আমরা শুনেছি কার্গো বিমানে সরকার পেঁয়াজ আনা হচ্ছে। এ ছাড়া আরও কয়েকটি প্রতিষ্ঠান মিসর ও তুরস্ক থেকে পেঁয়াজ আনছে। এসব পেঁয়াজ বাজারে এলেই দাম আরও কমে যাবে।

বাজার অস্থিরতার মধ্যে চট্টগ্রামে গতকাল ১৯৮ টন পেঁয়াজ এসেছে। এর মধ্যে চীন ও মিসর থেকে আনা ১১৪ টন পেঁয়াজ বন্দরে খালাস হয়েছে এবং মিয়ানমার থেকে আনা ৮৪ টন পেঁয়াজ বন্দরনগরের পাইকারি বাজার খাতুনগঞ্জের বিভিন্ন আড়তে এসেছে। অনুলিখন : মাজহারুল ইসলাম, সম্পাদনা : সালেহ্ বিপ্লব

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত