প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

অসাধু শিক্ষকের কারণে অর্ণবের স্বপ্ন ভেঙে যাওয়ার পথে

নিলয় চক্রবর্তীর ফেসবুক থেকে :   ছবির এই ছেলেটির নাম অর্ণব দাশ। এই বছরের একজন জে. এস. সি পরীক্ষার্থী। তিন বছর আগে পি এস সি পরীক্ষায় সে ট্যালেন্টপুলে বৃত্তি পেয়েছিল। এবারও সে তার মেধা আর শ্রম দিয়ে অতীত সাফল্য ধরে রাখার জন্য নিরলস চেষ্টা করে যাচ্ছিল এবং পূর্ববর্তী প্রতিটা পরীক্ষা ধারাবাহিকতার সাথে ভালোভাবে দিয়ে আসছিল। কিন্তু ভাগ্যের নির্মম পরিহাসে একজন অসাধু শিক্ষকের কারনে অর্ণবের স্বপ্ন আজ ভেঙে যাওয়ার পথে। ঘটনার বিস্তারিত বিবরণে জানা যায়, ওই শিক্ষকের নাম এনামুল হক। তিনি চট্রগ্রামের সাতকানিয়ার বাজালিয়া ইউনিয়নের আওতাভুক্ত শেরে বাংলা উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক। অর্ণব কে প্রতিটি পরীক্ষায় এই শিক্ষক ভয় দেখিয়ে প্রতি বিষয়ের ত্রিশ টা নৈর্ব্যাক্তিক প্রশ্নোত্তর গুলো দাগিয়ে নিয়ে যেতো। বিষয়টি অন্য শিক্ষকদের দৃষ্টিগোচর হওয়ার পরেও তারা নির্বিকার ছিলেন। ঐ শিক্ষক বিভিন্ন ছাত্র-ছাত্রীদের নিকট হতে ঘুষ নেয়, এবং অর্ণবের মতো ছাত্রদের কাছ থেকে সঠিক উত্তরগুলো নিয়ে অন্য সব হলের পরীক্ষার্থীদের বিতরণ করেন। এভাবেই এই জঘন্যতম কাজটি প্রতি বছরই করে আসছে শিক্ষক এনামুল হক। তারই ধারাবাহিকতায়, সে গত ১৪ই নভেম্বর ২০১৯ ইং সকাল দশটায় জে.এস.সি’র সর্বশেষ অনুষ্ঠিত গণিত পরীক্ষার প্রশ্নপত্র দেয়ার পনের মিনিট পর ঐ শিক্ষক অর্ণবের কাছে আসে। অর্ণবের পরীক্ষায় কর্তব্যরত আরো দু’জন শিক্ষককে সাথে নিয়ে তার থেকে নৈর্ব্যাক্তিক ঠিক করতে থাকেন।এমন সময় বোর্ড টিম এসে উপস্থিত হয়। উক্ত টিম ওখানে অবস্থানরত শিক্ষকদের জিজ্ঞাসাবাদ করেন, “আপনারা তিনজন জড়ো হয়ে এখানে কি করছেন? নিশ্চয়ই ছাত্রটি কে অংক করতে সাহায্য করছেন!!???”

এই প্রশ্নের কোনোরকম কোনো উত্তর এনামুল হক সহ বাকি দুইজন করেননি। তাদের মৌনতা কে টিম সম্মতি জানাচ্ছে এমনটা ভেবে নিয়ে অর্ণবের খাতা নিয়ে নেয়। অর্ণবের অনুনয়-বিনয় উক্ত টিম শোনার প্রয়োজন মনেই করলেন না।পরিস্থিতির শিকার হয় অর্ণবই, ঐ বিদ্বান নামধারী দুর্জনরা নয়। এটা ঠিক যে দু ঘন্টা অতিবাহিত হওয়ার পর তাকে খাতা ফেরত দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু সময়টা একটু কষ্ট করে গুণে নেন, প্রশ্নপত্র দেয়ার পর পনের মিনিট ধরে ওকে অংক করিয়ে করিয়ে উত্তর নিচ্ছিল।টিম আসার পর পাঁচ মিনিট ধরে জিজ্ঞাসাবাদ।

এরপর দুইঘন্টা খাতা রেখে দেয়া।পাওয়ার পর অর্ণবের নার্ভাসনেস কাটিয়ে উঠা,,১৫+৫+১২০ মিনিট = মোট দুই ঘণ্টা বিশ মিনিট এতেই চলে গেলো, বাকি ছিল চল্লিশ মিনিট। খাতা নিয়ে নেয়ার পর এতক্ষণ ধরে সে বসে বসে অন্যের অংক করা দেখেছে আর অঝোরে কেঁদেছে।খাতা ফেরত পাওয়ার পরও তার অংক করার মতো কোনো মানসিকতা ছিলো না। যতটুক পেরেছে করেছে। আমি শুধু এটাই ভাবছি,এই ছোটো ছেলেটি দুইঘন্টা বিশ মিনিট ধরে তার মনের সাথে কিভাবে যুদ্ধ করেছে! এখনো অব্দি সে প্রলাপ বকছে আর বিরামহীনভাবে কাঁদছে।এমনভাবে অপরাধ না করেও কেন তাকে ঝরে পড়তে হবে?এইসব প্রশ্নের উত্তর কি কারো কাছে আছে?

সম্পূর্ণ তথ্যটি “মৃত্যুঞ্জয়ী তুলিকা” দিদির টাইমলাইন থেকে পেয়ে আমি হতভম্ব, বাকরুদ্ধ। নিন্দা, প্রতিবাদ আর ক্ষোভ জানানোর সমস্ত ভাষা হারিয়ে ফেলেছি। কোন দোষ না করেও কেন অর্ণব দাশকে এরকম নির্মম শাস্তি মেনে নিতে হবে??? মাননীয় প্রধানমন্ত্রী এবং শিক্ষামন্ত্রীর জরুরী হস্তক্ষেপ কামনা করে এই ঘটনায় দোষী শিক্ষকদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানাচ্ছি।।
অর্ণবের এই ঘটনা আর কান্নাভেজা ছবি আপনাদের হৃদয়ে যদি এতটুকু নাড়া দেয়, লেখাটি শেয়ার করার অনুরোধ রইল।
নিলয় চক্রবর্তী।
১৬ই নভেম্বর ২০১৯ইং।।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত