প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

যশোরে বন্ধন ক্লিনিকে রোগী মৃত্যুর ঘটনায় দুজন আটক

জাহিদুল কবির, যশোর: যশোরের চিকিৎসকের অবহেলায় বেসরকারি ক্লিনিক বন্ধন হসপিটাল অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারে প্রসুতি রোগী ময়না বেগমের (২৬) মৃত্যুর ঘটনায় কোতয়ালি থানায় মামলা হয়েছে। মামলায় তিনজনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত নামা আরো ২/৩ জনকে আসামি করা হয়।

এঘটনায় পুলিশ অভিযুক্ত কথিত ডাক্তার ও ম্যানেজারকে আটক করেছে। নিহত ময়না বেগম শহরতলীর পালবাড়ির গাজিরঘাটের ইসমাইল হোসেন হীরার (৩২) স্ত্রী। আসামিরা হচ্ছে খুলনা জেলার ডুমুরিয়া উপজেলার নরিয়া গ্রামের অম্বিন কুমার কন্ডুর ছেলে ডা. পরিতোষ কুমার কুন্ড বতৃমান ঘোপ সেন্ট্রাল রোডের ডা. সুধরি কুন্ডুর বাড়ির ভাড়াটিয়া, ক্লিনিকের ম্যানেজার শার্শা উপজেলার শিকারপুর গ্রামের আমজাদ হোসেনের ছেলে আকরামুজ্জামান বর্তমানে নীলগজ্ঞসাহাপাড়ার জাহিদের বাড়ির ভাড়াটিয়া ও পুলিশ লাইনটালি খোলার শাহআলম জনির স্ত্রী সুরাইয়া খাতুন বর্তমানে কুইন্স হাসপাতালে কর্মরত নার্স।

এদের মধ্যে পুলিশ ডা. পরিতোষ কুমার কুন্ড ক্লিনিকের ম্যানেজার আকরামুজ্জামানকে আটক করে। নার্স সুরাইয়া খাতুন পালিয়ে যায়।

নিহতের ভাই শিমুল পারভেজ জানিয়েছেন, তার বোনের প্রসব বেদনা উঠলে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় শহরের বেসরকারি কুইন্স হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে যাওয়ার পর সুরাইয়া খাতুন নামে একজন নার্স আমার বোনকে পাশের বন্ধন হসপিটাল অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারে ভাল চিকিৎসা হবে বলে নিয়ে যেতে বলেন। সেখানে ঢাকা থেকে একজন গাইনী বিশেষজ্ঞ এসেছেন বলেও তিনি জানান।

এরপর বোনকে সেখানে নিয়ে গেলে ডাক্তার পরিতোষ কুমার কুন্ডু বলেন ‘রোগীর অবস্থা ভালো না, এই মুহূর্তে সিজার করা দরকার।’ বোনের ডেলিভারি ডেট আরও তিন দিন বাকি ছিলো। কিন্তু ডাক্তার কোন রকম পরীক্ষা-নিরীক্ষা ছাড়াই রাত সাড়ে ৯ টার দিকে অপারেশন থিয়েটারে (ওটিতে) নিয়ে যান। এমনকি অস্ত্রোপচারের আগে রোগী বা তাদের স্বজনদের কোন বন্ড সইও করাননি। সিজার করেই ডাক্তার একটি কন্যা সন্তান রোগীর স্বজনদের কাছে ধরিয়ে দিয়ে বেরিয়ে চলে যান। ২০-২৫ মিনিট পরেই বোনের খিঁচুনি ওঠে এবং তিনি মারা যান।

শিমুল পারভেজ অভিযোগ করে বলেন, সিজার শেষে বোনের অবস্থা খুব খারাপ হলে নার্সরা এক ব্যাগ রক্ত সংগ্রহ করতে বলেন। এক ব্যাগ রক্ত আনা হয়। কিন্তু এর আগেই ময়না বেগম মারা গেছেন। মারা যাওয়ার বিষটি জেনেও কয়েকটি ইনজেকশন ও রক্ত আনার কথা বলেন। কিন্তু সেই সময় আমার দুলাভাই বোনের হাত-বুক পরীক্ষা করে দেখেন, তিনি আর বেঁচে নেই। কিন্তু হাসপাতালের নার্স ও কর্মীরা মৃত অবস্থায় বোনের শরীরে ইনজেকশন ও রক্ত পুস করাসহ তাকে খুলনায় নিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দেন। তারা ৩-৪ মিনিটের মধ্যে একটি অ্যাম্বুলেন্সও ম্যানেজ করে ফেলেন।

এ নিয়ে ঝামেলা হওয়ায় রাত ১১টার দিকে আমরা কোতোয়ালি পুলিশকে বিষয়টি জানাই। পুলিশ এসে ডাক্তার পরিতোষ কুমার কুন্ডু ও হাসপাতালের ম্যানেজার আকরামুজ্জামানকে থানায় নিয়ে যায়।

ওই রাতে বন্ধন ক্লিনিকের মালিক মনিরুল ইসলামের সাথে যোগাযোগ করলে তিনিও আমাদের তাদেরকে জীবন নাশের হুমকি দিয়েছেন।

এব্যাপারে নিহতের স্বামীর দায়ের করা মামলায় ডাক্তার ও ম্যানেজারকে এদিনই আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। আর কুইন্স হাসপাতালের নার্স সুরাইয়া পলাতক রয়েছেন। সম্পাদনা: জেরিন মাশফিক

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত