প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ভূল চিকিৎসায় শিক্ষিকার মৃত্যু, মামলা

তৌহিদুর রহমান নিটল, ব্রাহ্মণবাড়িয়া : ভুল চিকিৎসায় মৃত্যুর অভিযোগের কারণে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার স্কুল শিক্ষিকা নওশীন আহমেদ দিয়ার (২৯) লাশ কবর থেকে তোলা হবে। আদালতের নির্দেশে ইতিমধ্যে তিন চিকিৎসকের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। তারই ধারাবাহিকতায় নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে

আজ শুক্রবার শেরপুর এলাকার কবরস্থান থেকে দিয়ার লাশ উত্তোলন করা হবে বলে জানা গেছে। সন্তান প্রসব পরবর্তী জটিলতায় ৪ নভেম্বর প্রসূতি নওশীন আহমেদ দিয়া মারা যান।

সূত্র জানায়, দিয়ার মৃত্যুর ঘটনায় বাবা শিহাব উদ্দিন গেন্দু বুধবার ব্রাহ্মণবাড়িয়ার অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে একটি অভিযোগ দাখিল করেছেন। আদালত মামলাটি নথিভুক্ত করার জন্য ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর থানার ওসিকে নির্দেশ দেন। রাতেই পুলিশ অভিযোগটি মামলা হিসেবে নথিভুক্ত করেছে। ভুল চিকিৎসার জন্য দায়ী করা হয়েছে পৌর এলাকার মুন্সেফপাড়ায় অবস্থিত খ্রিস্টিয়ান মোমোরিয়াল হাসপাতালের মালিক ডা. ডিউক চৌধুরী, ডা. অরুনেশ্বর পাল অভি ও ডা. মো. শাহাদাত হোসেন রাসেলকে।

অভিযোগে বলা হয়েছে, মুন্সেফপাড়া ক্রিসেন্ট কিন্ডার গার্টেন স্কুলের সহকারি শিক্ষিকা নওশীন আহমেদ দিয়া। গর্ভবতী অবস্থায় গত ৩০ অক্টোবর তিনি খ্রিস্টিয়ান মেমোরিয়াল হাসপাতালে ভর্তি হন। সেখানে তার আগাম ডেলিভারির ব্যবস্থা করা হয়। সিজারিয়ান অপারেশনের মাধ্যমে তার কন্যা সন্তান ভূমিষ্ঠ হয় কিন্তু পুরোপুরি সুস্থ হওয়ার আগেই দিয়াকে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র দেয়া হয়। এরপর হাসপাতালের পাশে স্বামীর বাড়িতে অবস্থান করছিলেন দিয়া। ৪ নভেম্বর ভোরে প্রচন্ড মাথাব্যথা অনুভব করলে দিয়াকে হাসপাতালে নেয়া হয়। তখন হাসপাতালের পরিচালক ডা. ডিউক চৌধুরীসহ ডা. অরুনেশ্বর পাল অভি, ডা. মো. শাহাদাত হোসেন রাসেল ভুল ইনজেকশন ও ওষুধ প্রয়োগ করেন। তখন দিয়া অচেতন হয়ে যান। স্বজনরা মেডিসিনের অভিজ্ঞ চিকিৎসক নিয়ে আসার জন্য বললেও কথা শোনেননি চিকিৎসকরা। এক পর্যায়ে দিয়ার মৃত্যু হলেও বেলা ১টার দিকে মুখে অক্সিজেন মাস্ক লাগিয়ে ঢাকা নিয়ে যেতে বলা হয়। তখন অ্যাম্বুলেন্সে করে বেলা সাড়ে ৪টায় ঢাকার ল্যাব এইড হাসপাতালে পৌঁছলে সেখানে চিকিৎসকরা জানান, কয়েকঘন্টা আগেই নওশীন আহমেদ দিয়া মারা গেছেন।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর থানার ওসি মো. সেলিম উদ্দিন বলেন, আদালতের নির্দেশে থানায় মামলা নথিভুক্ত করা হয়েছে। একই সঙ্গে অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারে অভিযান শুরু হয়েছে। কবর থেকে লাশ উত্তেলনের কাজ চলছে । সম্পাদনা : এইচ

সর্বাধিক পঠিত