প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

ভুয়া ওয়ারেন্টে গ্রেপ্তার, শত শত নিরীহ মানুষের হয়রানি

 

ডয়চে ভেলে : ভুয়া ওয়ারেন্ট চক্রের মাধ্যমে হয়রানির শিকার হচ্ছে নিরপরাধ মানুষ। হাজতবাস করেছেন অনেকে।  ডয়চে ভেলে

সেপ্টেম্বর-অক্টোবর মাসে ঢাকার সিএমএম আদালতে ১০টি ভুয়া ওয়ারেন্ট ধরা পড়ে। এসব ওয়ারেন্টের কারণে চারজনকে গ্রেপ্তার করে আদালতেও আনা হয়। কিন্তু মামলার কোনো অস্তিত্বই খুঁজে পাওয়া যায়নি। পরে আদালত প্রতিটি ওয়ারেন্টের ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট থানাকে তদন্ত করে প্রতারক ও জালিয়াত চক্রকে আইনের আওতায় আনার নির্দেশ দেয়।

সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী অ্যাডভোকেট প্রশান্ত কুমার মজুমদার এই ভুয়া ওয়ারেন্টগুলো নিয়ে অনুসন্ধান করেছেন। তিনি জানান, প্রতিটি ওয়ারেন্টেই বিচারকের নাম, ওয়ারেন্টের নম্বর, সিল মোহর, ডেসপাস নম্বর সবই আছে। আর এই ওয়ারেন্ট যখন থানায় যায় তখন তাদের বোঝার উপায় থাকে না যে, আসল না ভুয়া।

তিনি বলেন, এটা স্পষ্ট যে আদালতের কোনো কর্মকর্তা কর্মচারি জড়িত না থাকলে এত নিখুঁতভাবে ভুয়া ওয়ারেন্ট তৈরি করা সম্ভব নয়। আইনজীবী সহকারিদেরও কেউ কেউ এর সঙ্গে যুক্ত থাকতে পারেন।
প্রশান্ত কুমার মজুমদার জানান, ঢাকার সিএমএম আদালতের নামে যে ১০টি ভুয়া ওয়ারেন্ট পাঠানো হয় তার একটি ছিলো কুমিল্লার বরুরার মিজানুর রাহমানের বিরুদ্ধে ভুয়া মামলাটি দেখানো হয় কেরানীগঞ্জে। তাকে জমিজমার বিরোধের জেরে প্রতিপক্ষ ওই ভুয়া ওয়ারেন্টের মাধ্যমে এলাকা ছাড়া করেছিলো। তিনি বলেন, প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করতে এইসব ভুয়া ওয়ারেন্ট ব্যবহার করা হয়। আর চক্রগুলো অর্থের বিনিময়ে ভুয়া ওয়ারেন্ট তৈরি করে দেয়।
ভুয়া ওয়ারেন্টের এই চক্র শুধু ঢাকা নয়, সারাদেশের আদালতেই সক্রিয়। এমনকি হয়রানি করতে এক জেলার মানুষের বিরুদ্ধে আরেক জেলার আদালতের নামে ভুয়া ওয়ারেন্ট পাঠানো হয়। গত জুলাই মাসে এই ধরনের ওয়ারেন্টে চাঁদপুরের কচুয়া উপজেলার দুই ভাই হারুন পাটোয়ারী ও স্বপন পাটোয়ারীকে ১৪দিন কারাগারে থাকতে হয়।

 

আইনজীবীরা জানান, এইরকম ভুয়া ওয়ারেন্ট সারাদেশ থেকেই পাওয়া যায় এবং সংখ্যাও অনেক। এটা আদালতের জন্য একটি সংকট হয়ে দাঁড়িয়েছে। আর শত শত নিরীহ মানুষ হয়রানির শিকার হচ্ছেন।

ঢাকার সিএমএম কোর্টের চিফ পাবলিক প্রসিকিউটর আব্দুল্লাহ আবু বলেন, এই ভুয়া ওয়ারেন্ট একটা বড় সমস্যা। আর এটা এখন মহামারি আকার ধারণ করেছে। তবে এর সঙ্গে আদালতের কেউ না কেউ জড়িত। কারণ ওয়ারেন্টের যে ফর্ম তা কিন্তু অরিজিন্যাল। আর এটা বিজি প্রেস ছাড়া অন্য কোথাও ছাপারও সুযোগ নেই। এই বিষয়টি ভালোভাবে খতিয়ে দেখলে চক্রকে চিহ্নিত করা সম্ভব। সম্পাদনা : রাশিদ

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত