প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

অবর্ণনীয় দুর্ভোগের পর শুক্রবার দেশে ফিরেছেন সৌদিতে নির্যাতনের শিকার গৃহকর্মী সুমিসহ ৯১ নারী

লাইজুল ইসলাম : সৌদি আরবে কর্মরত বাংলাদেশি নারি শ্রমিক সুমি আক্তার সকালে দেশে ফিরেছেন। তিনি সৌদি আরবে নিয়োগকর্তার নির্মম নির্যাতনের বিবরণ দিয়ে সারাবিশ্বের গণমাধ্যমের সংবাদ শিরোনামে পরিণত হয়েছিলেন। এরপরই তাকে দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

তারই ধারাবাহিকতায় শুক্রবার (১৫ নভেম্বর) সকাল সোয়া ৭টায় এয়ার এরাবিয়ার জি৯-৫১৭ নম্বর ফ্লাইটে হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এসে পৌঁছান সুমি। একই সঙ্গে সৌদি থেকে দেশে ফিরেছেন নির্যাতিত আরও ৯১ নারী গৃহকর্মী। সুমিকে পঞ্চগড়ের গ্রামের বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে

স্থানীয় প্রশাসন ও ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের মাধ্যমে সুমিকে মা-বাবার কাছে হস্তান্তর করা হবে বলে জানিয়েছেন ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ডের পরিচালক জহিরুল ইসলাম। বিমানবন্দরের আনুষ্ঠানিকতা শেষে তাকে পঞ্চগড়ের গ্রামের বাড়ির উদ্দেশ্যে পাঠানো হয়েছে বলেও নিশ্চিত করেন এই কর্মকর্তা।

সুমির অপেক্ষায় বিমানবন্দরে অপেক্ষা করছিলেন তার স্বামী নুরুল ইসলাম ও দুই সন্তান। সুমির স্বামী নূরুল ইসলাম বলেন, সুমি দেশে ফেরায় খুব আনন্দ লাগছে, তেমনি কষ্টও লাগছে। কারণ ভাগ্য বদলের আশায় সৌদি গিয়েছিল সুমি, এখন খালি হাতে ফিরছে। সবকিছুর পর সুমি দেশে ফেরায় সরকারকে ধন্যবাদ।

সুমির আগমনের খবরে বিমানবন্দরে অপেক্ষা করছিলেন গণমাধ্যমকর্মীরা। তার স্বামী ও গণমাধ্যম কর্মীরা টার্মিনাল-২ এ সুমি ও অন্য নির্যাতিত নারীদের জন্য অপেক্ষা করতে থাকেন। তবে, কোনো এক অজানা কারনে গণমাধ্যমকর্মীদের চোখ এড়িয়ে টার্মিনাল-১ দিয়ে সুমিকে নিয়ে যায় কর্মকর্তারা। পরে অপেক্ষমাণ স্বামী ও সন্তানদের ডেকে নিয়ে যায় কর্মকর্তারা এবং গাড়িতে করে পঞ্চগড়ের উদ্দেশ্যে রওনা হন সুমি আক্তার।

চলতি মাসের শুরুর দিকে একটি ভিডিওর মাধ্যমে দেশে ফেরার আকুতি জানান সুমি আক্তার। তিনি সামাজিক যোগযোগ মাধ্যমে এই আকুতি জানালে খুব দ্রুতই ছড়িয়ে পরে তা। ‘ভালো কাজের’ কথা বলে এনে এখন তার ওপর নির্যাতন করা হচ্ছে বলে ভিডিওতে সুমি অভিযোগ করেন। এরপর জেদ্দা কনস্যুলেটের হস্তক্ষেপে সুমিকে নিয়োগকর্তার বাড়ি থেকে উদ্ধার করে আনে পুলিশ। সুমিকে রাখা হয় সেখানকার একটি সেইফ হোমে কিন্তু সমস্যা সৃষ্টি করে সুমির নিয়োগ কর্তা। তিনি পাওয়া ২২ হাজার রিয়াল পাওয়ার আগে ‘ফাইনাল এক্সিট’ দেবেন না বলে জানান।

পরে আদালত সুমির কফিলের (নিয়োগকর্তা) দাবি করা ২২ হাজার সৌদি রিয়াল পরিশোধের আবেদন নামঞ্জুর করে এবং সুমিকে দেশে ফেরার অনুমতি দেয়। সৌদি আরবের নাজরান শহরের শ্রম আদালতে বিষয়টি নিষ্পত্তির পর সুমির দেশে আসার পথ তৈরি হয়। অবর্ণনীয় দুর্ভোগের পর শুক্রবার তার দেশে ফেরা হলো। অবশেষে সৌদি আরব থেকে দেশে ফিরিছেন সুমি।

 

 

 

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত