প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

তারা কী নারীশ্রমিক নাকি ‘পণ্যকর্মী’?

পূর্ণা ডি. চৌধুরী  : সৌদি আরবে নারীরা অনেকেই পণ্যকর্মী হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। একথা অনেকদিন ধরেই শোনা যাচ্ছিল। পত্রিকা ও ইলেক্ট্রনিক মিডিয়ায় বিষয়ভিত্তিক বিভিন্ন প্রতিবেদন প্রচারিত হয় তা নিয়ে। বর্তমানে নাকি দুই লাখের বেশি নারী শ্রমিক সেখানে রয়েছে। এরমধ্যে ৫৩জন নারী শ্রমিকের লাশ হয়ে দেশে এসেছে। অথচ তাঁরা সোনার হরিণের জন্য দূরদেশে গিয়েছিল। বিদেশ গিয়েছিল তারা আর্থিক সচ্ছলতার জন্য। শোনা যায় সেখানে নানারকম নির্যাতন ও মানসিক যন্ত্রণার শিকার হয়ে প্রাণ হারিয়েছেন। শেষপর্যন্ত তারা লাশ হয়ে নিজদেশে ফিরেছেন, এটাই সত্য। আমরা প্রতিনিয়ত সংবাদ পাচ্ছি সেখানে নারীকর্মীরা নির্যাতিত হচ্ছে, নিপীড়িত হচ্ছে। প্রচ- অবহেলা আর নির্যাতনের শিকার নারীদের ব্যাপারে বারবার সৌদি আরবকে বলার পরও সেখানকার পরিস্থিতির উন্নতি হয়নি। এ বিষয়ে আমাদের দূতাবাসগুলো কতটুকু সক্রিয় এ প্রশ্নও এখন তীব্র হচ্ছে। এটা কিন্তু সবাই জানি, সেই দেশের নারী নির্যাতনের ঘটনার সূত্র ধরে ফিলিপিন, মিয়ানমারসহ বিভিন্ন দেশ তাদের নারীদের এতোটাই গুরুত্ব দিয়েছে যে, তারা শেষপর্যন্ত নারীকর্মী বা নারী শ্রমিক পাঠানোই বন্ধ করে দিয়েছে। সুতরাং এসব দেশ যদি এই কঠিন কাজটি পারে তবে এ কাজটি আমরা পারবো না কেন? আমাদের সরকার তো সংবেদনশীল। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও আজ বিশ্বে অত্যন্ত সমাদৃত। তাঁর সরকারের পরিশ্রমে ও দক্ষতায় উন্নয়নের রোল মডেল হিসেবে পরিচিত আমরা।

শোনা যায়, এখন নাকি সৌদি আরবে একজন পুরুষ শ্রমিক পাঠাতে হলে একজন নারী শ্রমিকও পাঠাতে হবে। এটাই চাউর হয়েছে সারা দেশে। মধ্যপ্রাচ্যে শ্রমিকপাঠানোর সঙ্গে জড়িতরা কথাটি জোর দিয়ে বলছেন। মারাত্মক এক শর্ত। শ্রমিক পাঠানোর ক্ষেত্রে আমরা ব্যর্থ কেন এর জবাব দরকার। বহুল আলোচিত বাঙালি নারীশ্রমিক সুমি আক্তারের কথা এখন বিশ্ববাসী বাঙালিরাও জানে। নিজের নির্যাতনের কথা ফেসবুকে ভিডিও’র মাধ্যেমে প্রচার করায় বিশ্ববাসী জেনেছে। আমরা জানি, আমাদের দেশের প্রচলিত নিয়মে কেউ নির্যাতনের শিকার হলে আইনের আশ্রয় পান। বাংলাদেশে যেসব বিদেশি পেশাগতকাজে অবস্থান করছেন তারাও যদি সেই সুযোগটি পেতে পারেন তাহলে আমাদের বাঙালি নারীশ্রমিকরা সৌদি আরবে সেই সুযোগ পাচ্ছেন না কেন? জরুরিভিত্তিতে এই গলদ বের করা উচিৎ।

নিয়োগকর্তার নির্যাতনের শিকার বাংলাদেশী নারীকর্মী সুমি আক্তার আজ এয়ার এরাবিয়ার একটি ফ্লাইটে ঢাকায় আসবেন। জানিয়েছেন জেদ্দাস্থ বাংলাদেশ কনস্যুলেটের কার্যালয় প্রধান মোস্তফা জামিল খান। গণমাধ্যমে বলা হয়েছে, শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সুমিকে স্বাগত জানাবে প্রবাসী কল্যাণ ডেস্কের প্রতিনিধিরা। চলতি বছর জানুয়ারিতে দালালের মাধ্যমে সৌদি আরবে যান সুমি আক্তার। সেখানে পৌঁছার সপ্তাহখানেক পর থেকেই সুমি মানসিক নির্যাতন, শারীরিক অত্যাচার ও যৌন হয়রানিসহ নির্যাতনের শিকার হন। একপর্যায়ে আদালত সুমির দেশে ফেরার আবেদন মঞ্জুর করেন। সম্প্রতি তিনি ওই নির্যাতনের কথা ফেসবুকে ভিডিও’র মাধ্যেমে জানিয়ে দেশে ফিরতে সাহায্য প্রার্থনা করেন। পত্রিকার তথ্যমতে, ফেসবুকে ওই ভিডিওটি ভাইরাল হওয়ার পর বিষয়টি সংশ্লিষ্টদের টনক নড়ে। পরে জেদ্দা কনস্যুলেটের হস্তক্ষপে সুমিকে নিয়োগকর্তার বাড়ি থেকে উদ্ধার করে পুলিশ। শুরুতে সুমির নিয়োগকর্তার দাবিকৃত ২২ হাজার সৌদি রিয়াল পরিশোধ না করা পর্যন্ত তাকে ফাইনাল এক্সিট, অর্থাৎ দেশে ফিরতে দেয়া হবে না বলে জানালেও পরে নাজরান শহরের শ্রম আদালতে বিষয়টি নিষ্পত্তি হয়। আদালত সুমির দেশে ফেরার আবেদন মঞ্জুর করেন।

পাদটিকা, কেউ কেউ বলে থাকেন, আমাদের নারী শ্রমিকেরা অদক্ষ অবস্থাতে সৌদি আরব যান, ফলে তারা মার খান, ধর্ষিতা হন। কিন্তু প্রশ্ন থেকেই যায়, এই দায় কী সেই নারী শ্রমিকের? নাকি রাষ্ট্রের? কার?
লেখক : শিক্ষার্থী, ফার্মাসী বিভাগ, ইস্ট ওয়েস্ট ইউনিভার্সিটি, ঢাকা।

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত