প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

আ.লীগের নির্দেশনা- এক পরিবারে দুইজনের বেশি নেতা নয়

ইনকিলাব : এখন থেকে জেলা, মহানগর, থানা, উপজেলায় একই কমিটিতে একটি পরিবার বা নিকটাত্মীয়দের মধ্য থেকে দুইজন সদস্যের বেশি আওয়ামী লীগের নেতা হতে পারবেন না। এর মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ পদ যেমনÑ সভাপতি, সহ-সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক, যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক, সাংগঠনিক সম্পাদক পদে একজন আসতে পারবেন। আর কম গুরুত্বপূর্ণ পদে পরিবারের অন্য একজন সদস্য আসতে পারবেন না। দুইজনের বেশি সদস্য আওয়ামী লীগ বা সহযোগী সংগঠনের কোনো গুরুত্বপূর্ণ পদ পাবেন না। যদি এ রকম ঘটনা ঘটে তাহলে তদন্ত করে তার ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

আওয়ামী লীগের নীতি-নির্ধারণী সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে। ইতোমধ্যে কেন্দ্র থেকে জেলা, উপজেলায় এ নির্দেশনা পাঠানো হয়েছে। জানতে চাইলে আওয়ামী লীগের সভাপতিম-লীর সদস্য কাজী জাফরউল্লাহ ইনকিলাবকে বলেন, এমপি বা জেলার প্রভাবশালী নেতারা নিজেদের কাছের লোক এবং আত্মীয়-স্বজনদের দলের বিভিন্ন পদে আনতে চেষ্টা করেন এটা তৃণমূলের দীর্ঘদিনের অভিযোগ। ফলে অনেক ত্যাগী নেতা যথাযত মূল্যায়িত হন না। সেজন্য এবার কেন্দ্রের নির্দেশনা হল, এক পরিবার থেকে দুইজনের বেশি নেতা হতে পারবেন না এবং গুরুত্বপূর্ণ পদ যেমন সভাপতি, সহ-সভাপতি, যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক, সাংগঠনিক সম্পাদক এসব পদে একজনই থাকতে পারবেন। এর বেশি থাকলে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

দীর্ঘদিন ধরে জেলা নেতা এবং এমপিরা নিজেদের আত্মীয়-স্বজনকে দলের বিভিন্ন পদে রাখার চেষ্টা করে আসছে। বেশিরভাগ সময় দেখা গেছে কোনো দিন রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত না থাকলেও আত্মীয় হবার কারণে দলের বড় পদে দায়িত্ব পাচ্ছেন তারা। এ নিয়ে তৃণমূল আওয়ামী লীগের ত্যাগী ও দক্ষ নেতাদের মধ্যে ক্ষোভ বিরাজ করছে। মামা-চাচা না থাকলে যেমন চাকরি পাওয়া যায় না, তেমনি দলেরও পদ পাওয়া যায় না বলে অভিযোগ তাদের। এর প্রেক্ষিতে আওয়ামী লীগের এ ধরণের নির্দেশনা আসায় কিছুটা আশার আলো দেখছে তৃণমূল নেতারা।

এ বিষয়ে আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মিসবাহ উদ্দিন সিরাজ বলেন, যোগ্য ও ত্যাগী নেতাদের নেতৃত্বে আনতে নির্দেশনা দিয়েছি আমরা। সংগঠন যেভাবে শক্তিশালী হবে কমিটিগুলো সেভাবেই করব। কমিটি নিয়ে কোন ধরণের বিতর্ক তৈরী যেন না হয় সে ব্যাপারে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করা হচ্ছে।

এদিকে আওয়ামী লীগের সম্মেলন উপলক্ষে গঠিত গঠনতন্ত্র উপ-কমিটির সূত্রে জানা যায়, এক পরিবারে কয়জন পদে থাকতে পারবেন এবং একই ব্যক্তি কয়টি কমিটিতে থাকতে পারবেন তা নিয়ে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে। এ বিষয়ে গঠনতন্ত্রেও উল্লেখ করা হতে পারে। যেমন একই ব্যক্তি জেলা আওয়ামী লীগের নেতা, তার সঙ্গে উপজেলা আওয়ামী লীগেরও গুরুত্বপূর্ণ পদে আছেন। আবার উপজেলার একজন গুরুত্বপূর্ণ নেতা ইউনিয়ন কমিটির গুরুত্বপূর্ণ পদে থাকেন। এ বিষয়গুলোর সমাধানে নির্দেশনা দেয়া হবে।

 

সর্বাধিক পঠিত