প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

বিকট শব্দে ঘুম ভাঙলে দেখি ওপরে আকাশ নিচে লাশ

মাসুদ আলম : রায়হান ও হাবিবুর সর্ম্পকে চাচাতো ভাই। চট্টগ্রামে রাঙ্গুনিয়ার জামিয়াতুল মদিনা মাদরাসার ৭ম শ্রেণীর শিক্ষার্থী। গত শুক্রবার ছুটিতে গ্রামের বাড়ি হবিগঞ্জে বেড়াতে আসে তারা। ছুটি শেষে সোমবার গভীর রাতে শায়েস্তাগঞ্জ রেলওয়ে স্টেশন থেকে উদয়ন এক্সপ্রেস ট্রেনে করে চট্রগ্রামে ফিরছিলো। ব্রাহ্মণবাড়িয়া কসবায় ট্রেন দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হয় তারা। জাতীয় অর্থোপেডিক হাসপাতাল ও পুনর্বাসন প্রতিষ্ঠানে (পঙ্গু হাসপাতাল) নিচতলার এ ওয়ার্ডের ৩৭ নম্বর বেডে চিকিৎসাধীন রায়হান। তার বাম পা ভেঙে গেছে। শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। ভয়ে ঘুমের মধ্যেও আঁতকে উঠে রায়হান।

এই প্রতিবেদকে বলেন, উদয়ন এক্সপ্রেস ট্রেনের পাশাপাশি সিটে বসা ছিলো রায়হান ও হাবিবুর। ট্রেনে উঠার পরপরই ঘুমিয়ে পড়েন তারা। বিকট শব্দে ঘুম ভাঙলে দেখে ট্রেনের উপর ছাদ নেই, চারপাশ অন্ধকার। নিচে মানুষ পড়ে আছে। ভঙ্কর এমন দৃশ্য দেখে চিৎকার করতে থাকে তারা। কিন্তু কেউ এগিয়ে আসেনি। কোনো রকম ট্রেন থেকে কাঁতরাতে কাঁতরাতে নিচে নেমে, রেল লাইনের পাশে পড়ে থাকে। কিছুক্ষণ পর এক ব্যক্তি লাইট মেরে তাদের দেখতে পেয়ে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যান।

রায়হানের বাবা খেজুর মিয়া বলেন, তিনি পেশায় কৃষক। দুই ছেলের মধ্যে রায়হান বড়। ছোট ছেলে রোহান গ্রামে একটি স্কুলে পড়াশুনা করে। রাত সাড়ে ১২টার পর তাদের ট্রেনে তুলে দিয়ে বাসায় ফেরেন তিনি। রাতে ছেলের ফোন পেয়ে হাসপাতালে ছুঁটে যান। সেখান থেকে পঙ্গু হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়। ভয়ে কারো সঙ্গে কথাও বলতে চায় না রায়হান। সারাক্ষণ তার মধ্যে আতঙ্ক কাজ করে। এমন ভঙ্কর দৃশ্য এখনো আগে এখনো দেখেনি। হাবিবুর স্থানীয় হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছে।

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত